ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন: আসিফ নজরুল ওরা দেশকে ভালোবাসার নামে আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে: চরমোনাই পীর বিশ্বকাপে বাংলাদেশে বাদকে দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিলো আইসিসি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা আমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, যা প্রয়োজন তাই করব: মির্জা আব্বাস নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না : সুজন শিশুদের সঠিক শিক্ষা প্রদানের জন্য আমরা প্রাইমারি শিক্ষার ওপর জোর দিতে চাচ্ছি: তারেক রহমান ‘অতীতেও পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকব’:মির্জা ফখরুল দ.আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন

ঢামেক মর্গ থেকে মৃত শিশুর মাংস চুরি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের ফ্রিজে রাখা এক শিশুর মুখের মাংস কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সোহাগ হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার দেড় বছরের শিশুসন্তান মারা যায়। লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে লাশ বের করতে গিয়ে দেখি তার মুখের বাম পাশের মাংস অনেকটাই কেটে নেয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও শিশুটির পরিবার জানায়, ২৫ এপ্রিল রান্না করা গরম ডালের মধ্যে পড়ে যায় শিশু সোহান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় শিশুটি মারা যায়।

পরিবারের পক্ষ থেকে লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের জন্য বলা হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজি না হওয়ায় ঢামেক মর্গের ফ্রিজে রেখে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়।

বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফ্রিজ থেকে লাশ বের করার সময় লাশের বাম চৌয়ালের মাংস কেটে নেয়ার দৃশ্য দেখতে পায় স্বজনরা। শিশুসন্তানের লাশের এ অবস্থা দেখে পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন তারা। শিশুটির চাচা মো. সুজন হাওলাদার দৈনিক আকাশকে বলেন, লাশ ফ্রিজে রাখার আগে পুলিশকে দেখানোর জন্য ছবি তোলা হয়। পরে মর্গের ফ্রিজ থেকে লাশ বের করার সময় দেখা যায় লাশের মুখের বাম পাশের চোখের সীমানা থেকে কান পর্যন্ত মাংস কেটে নেয়া হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, কেউ মাংস কেটে অন্য লাশের শরীরে লাগাতে এ কাণ্ড করেছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ময়নাতদন্তে লাশ কাটাছেঁড়া করা হবে জেনেই পুলিশের সহায়তায় বিনা ময়নাতদন্তে লাশ নেয়ার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ অনুমতিও দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের অজান্তে দেড় বছরের মৃত শিশুর শরীর থেকে এভাবে মাংস কেটে নেয়া হলো।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পূর্ণ অমানবিক। এটা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। কারও শরীর থেকে মাংস নিতে হলে অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতে হবে।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. শাহ আলম তালুকদার দৈনিক আকাশকে বলেন, এ রকম একটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে আমি স্পষ্ট নই। প্রকৃত ঘটনা জানতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুলশান থানার এসআই ফারুক আলম দৈনিক আকাশকে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শিশুটির পরিবার বিনা ময়নাতদন্তে লাশ নেয়ার জন্য থানায় আবেদন করেন। আমরা সেখানে যেয়ে পদ্ধতিগত দিক ঠিক রেখে লাশ হস্তান্তর করি। লাশ পাওয়ার পর তার স্বজনরা জানায় শিশুটির মুখের মাংস কেটে নেয়া হয়েছে। পরে আমরা হাসপাতালের উপপরিচালককে বিষয়টি জানালে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার চাইলে বিশ্বকাপ বয়কট করবে পাকিস্তান: নাকভি

ঢামেক মর্গ থেকে মৃত শিশুর মাংস চুরি

আপডেট সময় ১০:৪১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের ফ্রিজে রাখা এক শিশুর মুখের মাংস কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সোহাগ হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার দেড় বছরের শিশুসন্তান মারা যায়। লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে লাশ বের করতে গিয়ে দেখি তার মুখের বাম পাশের মাংস অনেকটাই কেটে নেয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও শিশুটির পরিবার জানায়, ২৫ এপ্রিল রান্না করা গরম ডালের মধ্যে পড়ে যায় শিশু সোহান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় শিশুটি মারা যায়।

পরিবারের পক্ষ থেকে লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের জন্য বলা হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজি না হওয়ায় ঢামেক মর্গের ফ্রিজে রেখে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়।

বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফ্রিজ থেকে লাশ বের করার সময় লাশের বাম চৌয়ালের মাংস কেটে নেয়ার দৃশ্য দেখতে পায় স্বজনরা। শিশুসন্তানের লাশের এ অবস্থা দেখে পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন তারা। শিশুটির চাচা মো. সুজন হাওলাদার দৈনিক আকাশকে বলেন, লাশ ফ্রিজে রাখার আগে পুলিশকে দেখানোর জন্য ছবি তোলা হয়। পরে মর্গের ফ্রিজ থেকে লাশ বের করার সময় দেখা যায় লাশের মুখের বাম পাশের চোখের সীমানা থেকে কান পর্যন্ত মাংস কেটে নেয়া হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, কেউ মাংস কেটে অন্য লাশের শরীরে লাগাতে এ কাণ্ড করেছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ময়নাতদন্তে লাশ কাটাছেঁড়া করা হবে জেনেই পুলিশের সহায়তায় বিনা ময়নাতদন্তে লাশ নেয়ার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ অনুমতিও দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের অজান্তে দেড় বছরের মৃত শিশুর শরীর থেকে এভাবে মাংস কেটে নেয়া হলো।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পূর্ণ অমানবিক। এটা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। কারও শরীর থেকে মাংস নিতে হলে অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতে হবে।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. শাহ আলম তালুকদার দৈনিক আকাশকে বলেন, এ রকম একটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে আমি স্পষ্ট নই। প্রকৃত ঘটনা জানতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুলশান থানার এসআই ফারুক আলম দৈনিক আকাশকে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শিশুটির পরিবার বিনা ময়নাতদন্তে লাশ নেয়ার জন্য থানায় আবেদন করেন। আমরা সেখানে যেয়ে পদ্ধতিগত দিক ঠিক রেখে লাশ হস্তান্তর করি। লাশ পাওয়ার পর তার স্বজনরা জানায় শিশুটির মুখের মাংস কেটে নেয়া হয়েছে। পরে আমরা হাসপাতালের উপপরিচালককে বিষয়টি জানালে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।