ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস আবারও ঢাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, মানুষের ভোগান্তি ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন তারা যেন প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করেন’:নজরুল ইসলাম নির্বাচনে কোনও ব্যাঘাত ঘটলে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বিঘ্নিত হবে: শামসুজ্জামান দুদু নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা হতে পারে: রয়টার্স আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করলে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব: প্রধান উপদেষ্টা নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত

দুই সিটির নির্বাচন ইসির জন্য অগ্নিপরীক্ষা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। তবে জনসাধারণের মনে এই নির্বাচন নিয়ে রয়েছে শঙ্কা, আতঙ্ক ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। সিটি নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে না করতে পারলে তার প্রভাব পড়বে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। আর তাই আসন্ন এই দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইসির জন্য অগ্নিপরীক্ষা বলে মত দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন আমাদের কাছে রেগুলার কাজের অংশ। আইনানুগ নির্বাচন হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা যা করা দরকার আমরা তা করব। তবে তিনি প্রশ্ন রাখেন ‘নির্বাচন কী শুধু কমিশন করে?’

নির্বাচনে ইসির ভূমিকা নিয়ে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন আছে- কী ভাবছেন? এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ‘চিন্তার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন নিয়ে আমরা হার্ড লাইনে। নির্বাচনে কারচুপি কিংবা নির্বাচনী আচরণ বহির্ভূত যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা প্রস্তুত।’

নির্বচনে সেনা মোতায়েন প্রশ্নে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সেনা মোতায়েন না হলেও পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে। প্রয়োজন হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আরো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আনা হবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইসির জন্য অবশ্যই অগ্নিপরীক্ষা। শুধু ইসির জন্য নয়, সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারি দলের জন্য এটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইসির ভূমিকা সর্বাধিক। তারা চাইলে খারাপ নির্বাচন ঠেকাতে পারে, নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করতে পারে। কিন্তু তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে না, যদি ইসিকে সরকার এবং সরকারি দল প্রয়োজনীয় সহায়তা না করে।

সুজন সম্পাদক আরো বলেন, এই নির্বাচনে কী হবে তার একটি বার্তা কিন্তু জনগণের কাছে পৌঁছাবে। যেমন যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয় তখন ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তার বিষয়টি প্রকাশ পাবে। আর যদি পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন হয় তাহলে ভবিষ্যতে নির্বাচনগুলো কেমন হবে সেই বার্তাও কিন্তু জনগণ পেয়ে যাবে।

আপনি গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীদের নিয়ে জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠান করেছেন। এতে কী দেখলেন বা বুঝলেন এমন প্রশ্নে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দুই সিটিতেই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিস্থিতি লক্ষ করা গেছে। তবে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সন্দেহ এবং শঙ্কা আছে আসলে তারা ভোট দিতে পারবে কি না। এসব শঙ্কাবোধের কথা কেউ পাবলিকলি প্রকাশ করেছেন, কেউ প্রাইভেটলি। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে ইসি এই তরিকা কিভাবে পার হতে চাইবে।

যোগাযোগ করা হলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু খুলনা বা গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নয়, বাকি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইসি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে না পারলে জনগণ বুঝে যাবে এই ইসি দিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচন সঠিকভাবে সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষ বুঝে যাবে আগামীতে রাজনীতির আরো অন্ধকার পরিবেশ ঘনিয়ে আসছে। আর যদি ইসি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে তাহলে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে মানুষ আশাবাদী হয়ে উঠবে। সুতরাং ইসির জন্য সিটি করপোরেশন নির্বাচন খানিকটা অগ্নিপরীক্ষার মতোই।

খুলনা মহানগরের খালিশপুরের একটি চায়ের দোকানদার কুতুব উদ্দীন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আর কোনো গ্যাঞ্জাম না হলে মানুষ ভোট দিতে পারবে। ভোট দিতে পারলে সাধারণ মানুষ মুক্ত হতে পারবে। মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আছে নির্যাতনে। তবে ভোট দিতে পারবে বলে তো মনে হয় না।

এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের একজন ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মানুষ ভয়ে আছে, আতঙ্কে আছে। কোনোভাবে মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে বিএনটিকে আটকে রাখতে পারবে না কেউ। তবে অনেকেই ধারণা করছে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের দিয়ে জাল ভোট দেওয়াতে পারে ক্ষমতাসীনরা। যাদের অনেকেই হয়তো গাজীপুরের ভোটারই না। এসব ব্যাপারে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।

গত ৩১ মার্চ গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। আর ৩১টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস

দুই সিটির নির্বাচন ইসির জন্য অগ্নিপরীক্ষা

আপডেট সময় ১১:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। তবে জনসাধারণের মনে এই নির্বাচন নিয়ে রয়েছে শঙ্কা, আতঙ্ক ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। সিটি নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে না করতে পারলে তার প্রভাব পড়বে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। আর তাই আসন্ন এই দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইসির জন্য অগ্নিপরীক্ষা বলে মত দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন আমাদের কাছে রেগুলার কাজের অংশ। আইনানুগ নির্বাচন হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা যা করা দরকার আমরা তা করব। তবে তিনি প্রশ্ন রাখেন ‘নির্বাচন কী শুধু কমিশন করে?’

নির্বাচনে ইসির ভূমিকা নিয়ে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন আছে- কী ভাবছেন? এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ‘চিন্তার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন নিয়ে আমরা হার্ড লাইনে। নির্বাচনে কারচুপি কিংবা নির্বাচনী আচরণ বহির্ভূত যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা প্রস্তুত।’

নির্বচনে সেনা মোতায়েন প্রশ্নে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সেনা মোতায়েন না হলেও পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে। প্রয়োজন হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আরো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আনা হবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইসির জন্য অবশ্যই অগ্নিপরীক্ষা। শুধু ইসির জন্য নয়, সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারি দলের জন্য এটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইসির ভূমিকা সর্বাধিক। তারা চাইলে খারাপ নির্বাচন ঠেকাতে পারে, নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করতে পারে। কিন্তু তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে না, যদি ইসিকে সরকার এবং সরকারি দল প্রয়োজনীয় সহায়তা না করে।

সুজন সম্পাদক আরো বলেন, এই নির্বাচনে কী হবে তার একটি বার্তা কিন্তু জনগণের কাছে পৌঁছাবে। যেমন যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয় তখন ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তার বিষয়টি প্রকাশ পাবে। আর যদি পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন হয় তাহলে ভবিষ্যতে নির্বাচনগুলো কেমন হবে সেই বার্তাও কিন্তু জনগণ পেয়ে যাবে।

আপনি গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীদের নিয়ে জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠান করেছেন। এতে কী দেখলেন বা বুঝলেন এমন প্রশ্নে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দুই সিটিতেই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিস্থিতি লক্ষ করা গেছে। তবে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সন্দেহ এবং শঙ্কা আছে আসলে তারা ভোট দিতে পারবে কি না। এসব শঙ্কাবোধের কথা কেউ পাবলিকলি প্রকাশ করেছেন, কেউ প্রাইভেটলি। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে ইসি এই তরিকা কিভাবে পার হতে চাইবে।

যোগাযোগ করা হলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু খুলনা বা গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নয়, বাকি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইসি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে না পারলে জনগণ বুঝে যাবে এই ইসি দিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচন সঠিকভাবে সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষ বুঝে যাবে আগামীতে রাজনীতির আরো অন্ধকার পরিবেশ ঘনিয়ে আসছে। আর যদি ইসি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে তাহলে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে মানুষ আশাবাদী হয়ে উঠবে। সুতরাং ইসির জন্য সিটি করপোরেশন নির্বাচন খানিকটা অগ্নিপরীক্ষার মতোই।

খুলনা মহানগরের খালিশপুরের একটি চায়ের দোকানদার কুতুব উদ্দীন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আর কোনো গ্যাঞ্জাম না হলে মানুষ ভোট দিতে পারবে। ভোট দিতে পারলে সাধারণ মানুষ মুক্ত হতে পারবে। মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আছে নির্যাতনে। তবে ভোট দিতে পারবে বলে তো মনে হয় না।

এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের একজন ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মানুষ ভয়ে আছে, আতঙ্কে আছে। কোনোভাবে মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে বিএনটিকে আটকে রাখতে পারবে না কেউ। তবে অনেকেই ধারণা করছে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের দিয়ে জাল ভোট দেওয়াতে পারে ক্ষমতাসীনরা। যাদের অনেকেই হয়তো গাজীপুরের ভোটারই না। এসব ব্যাপারে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।

গত ৩১ মার্চ গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। আর ৩১টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন।