ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

খালগুলো ময়লার ভাগাড় বানিয়ে দুর্ভোগে মিরপুরবাসী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খাল পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য হলেও রাজধানীর মিরপুর এলাকার খালগুলো ব্যবহার হচ্ছে ময়লার ভাগাড় হিসেবে। খাল সংলগ্ন বাড়ির সব ময়লার নিরাপদ সংস্থান পশ্চিম শেওড়াপাড়ার পয়ঃনিষ্কাশনের খালটি। বৃষ্টি মানেই এ এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য দুর্ভোগের বার্তা। সব জেনে বুঝেও এখনো কোনো কাজে হাত দেয়নি ওয়াসার ড্রেনেজ বিভাগ।

দৈনন্দিনের ময়লা খালে ফেলে নিজেরাই ভুগছেন বর্ষায়। আধঘণ্টার বৃষ্টিতে খালের পানি পৌঁছে যাচ্ছে বসতবাড়িতে। স্থানীয় বাজার, দোকানপাটের ময়লা ফেলা হচ্ছে এই খালে। যার ফলে এখন ময়লার বিশাল স্তুপ ‘মিরপুর খাল’।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. লোকমানের দাবি, ‘বাজারের ময়লা সব খালেই পড়ে। যে যেভাবে পারে কালে ময়লা ফেলে। পরিষ্কারের মাথাব্যথা কারোই নেই। আবার খালও আগেই চাইতে অনেক চিকন হয়ে গেছে। দুই পাশে পাঁচ ফিট করে দখল হয়ে গেছে।’
উন্নতির দেখা না পাওয়া গেলেও চোখে পড়ে চরম দুরবস্থা। পল্লবী, সেকসন-১১ এলাকার ‘সবুজ বাংলা আবাসিক এলাকা’। যার কোল ঘেঁষে বয়ে চলা খালটি জায়গায় জায়গায় থমকে গেছে। ময়লা জমে প্রায় সম্পূর্ণ ব্যাহত পানি চলাচল। খাল দখল করে গড়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি বসতবাড়ি। মিরপুর-৩ নম্বর ওয়ার্ডটির ৩০ ফিট প্রস্থের খাল এখন পাঁচ ফিট।

স্থানীয় কলেজ ছাত্র মনির হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘খালের উপর বাড়ি তোলার কারণে কয়েকটি বাড়ি ভেঙে দেয়া হয়েছিল। ভাঙার কিছুদিন পর আবার তারা বাড়ি তোলে। পানি যাওয়ার জায়গা নেই। ময়লার উপর দিয়ে হাঁটাচলা করা যায়।’

খালের ময়লার উপর চলাচল করা যাচ্ছে। খালের উপরেই যে বাড়ি করা হয়েছে তা সুস্পষ্ট। বাড়ির নিচ দিয়ে দেখা যাচ্ছে ৪/৫ ফিটের খাল। পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ায়, সৃষ্টি হয়েছে তীব্র গন্ধ।

পল্লবী ‘সাংবাদিক কলোনি’র অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। কলোনির রাস্তা উঁচু করার খালে পানি বাড়লে এখন আর কলোনি অবধি পৌঁছায় না। কিন্তু খালে পৌঁছায় কলোনির ময়লা।

‘সাংবাদিক আ/এ’ খাল যা সাংবাদিক কলোনি খাল নামে পরিচিত। খালটি এখন পুরোপুরি ময়লার দখলে। খালে যে পানি আছে, ময়লার কারণে তা দেখার উপায় নেই। তবে, পানির দেখা মিলবে পাশের ‘আদর্শ নগর’ রাস্তায়। খালে পানি নামতে না পারায়, তা জমছে রাস্তায়। ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।

এছাড়া বৃষ্টি হলে এক হাঁটু পানি জমে পল্লবী প্রধান সড়কটিতে। ময়লা জমে কমে গেছে খালের গভীরতা। তাই পনের-বিশ মিনিটের বৃষ্টিতে খাল ভরে পানি চলে আসে রাস্তায়। ফলে, ভোগান্তির শেষ থাকে না, এ এলাকায় বসবাসকারীদের।

স্থানীয় রিকশাচালক মো. সুলতান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘কাজ সবাই করছে, যে নেতা হইছে সেই করছে। খালি আমগো কোনো লাভ হয় নাই। আধা ঘণ্টা বৃষ্টি হইলেই খাল ভইরা পানি আহে রাস্তায়। এরমধ্যে মানুষ থাকে কেমনে? আমগোরে দেখার কেউ নাই।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

খালগুলো ময়লার ভাগাড় বানিয়ে দুর্ভোগে মিরপুরবাসী

আপডেট সময় ১১:২২:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খাল পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য হলেও রাজধানীর মিরপুর এলাকার খালগুলো ব্যবহার হচ্ছে ময়লার ভাগাড় হিসেবে। খাল সংলগ্ন বাড়ির সব ময়লার নিরাপদ সংস্থান পশ্চিম শেওড়াপাড়ার পয়ঃনিষ্কাশনের খালটি। বৃষ্টি মানেই এ এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য দুর্ভোগের বার্তা। সব জেনে বুঝেও এখনো কোনো কাজে হাত দেয়নি ওয়াসার ড্রেনেজ বিভাগ।

দৈনন্দিনের ময়লা খালে ফেলে নিজেরাই ভুগছেন বর্ষায়। আধঘণ্টার বৃষ্টিতে খালের পানি পৌঁছে যাচ্ছে বসতবাড়িতে। স্থানীয় বাজার, দোকানপাটের ময়লা ফেলা হচ্ছে এই খালে। যার ফলে এখন ময়লার বিশাল স্তুপ ‘মিরপুর খাল’।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. লোকমানের দাবি, ‘বাজারের ময়লা সব খালেই পড়ে। যে যেভাবে পারে কালে ময়লা ফেলে। পরিষ্কারের মাথাব্যথা কারোই নেই। আবার খালও আগেই চাইতে অনেক চিকন হয়ে গেছে। দুই পাশে পাঁচ ফিট করে দখল হয়ে গেছে।’
উন্নতির দেখা না পাওয়া গেলেও চোখে পড়ে চরম দুরবস্থা। পল্লবী, সেকসন-১১ এলাকার ‘সবুজ বাংলা আবাসিক এলাকা’। যার কোল ঘেঁষে বয়ে চলা খালটি জায়গায় জায়গায় থমকে গেছে। ময়লা জমে প্রায় সম্পূর্ণ ব্যাহত পানি চলাচল। খাল দখল করে গড়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি বসতবাড়ি। মিরপুর-৩ নম্বর ওয়ার্ডটির ৩০ ফিট প্রস্থের খাল এখন পাঁচ ফিট।

স্থানীয় কলেজ ছাত্র মনির হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘খালের উপর বাড়ি তোলার কারণে কয়েকটি বাড়ি ভেঙে দেয়া হয়েছিল। ভাঙার কিছুদিন পর আবার তারা বাড়ি তোলে। পানি যাওয়ার জায়গা নেই। ময়লার উপর দিয়ে হাঁটাচলা করা যায়।’

খালের ময়লার উপর চলাচল করা যাচ্ছে। খালের উপরেই যে বাড়ি করা হয়েছে তা সুস্পষ্ট। বাড়ির নিচ দিয়ে দেখা যাচ্ছে ৪/৫ ফিটের খাল। পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ায়, সৃষ্টি হয়েছে তীব্র গন্ধ।

পল্লবী ‘সাংবাদিক কলোনি’র অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। কলোনির রাস্তা উঁচু করার খালে পানি বাড়লে এখন আর কলোনি অবধি পৌঁছায় না। কিন্তু খালে পৌঁছায় কলোনির ময়লা।

‘সাংবাদিক আ/এ’ খাল যা সাংবাদিক কলোনি খাল নামে পরিচিত। খালটি এখন পুরোপুরি ময়লার দখলে। খালে যে পানি আছে, ময়লার কারণে তা দেখার উপায় নেই। তবে, পানির দেখা মিলবে পাশের ‘আদর্শ নগর’ রাস্তায়। খালে পানি নামতে না পারায়, তা জমছে রাস্তায়। ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।

এছাড়া বৃষ্টি হলে এক হাঁটু পানি জমে পল্লবী প্রধান সড়কটিতে। ময়লা জমে কমে গেছে খালের গভীরতা। তাই পনের-বিশ মিনিটের বৃষ্টিতে খাল ভরে পানি চলে আসে রাস্তায়। ফলে, ভোগান্তির শেষ থাকে না, এ এলাকায় বসবাসকারীদের।

স্থানীয় রিকশাচালক মো. সুলতান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘কাজ সবাই করছে, যে নেতা হইছে সেই করছে। খালি আমগো কোনো লাভ হয় নাই। আধা ঘণ্টা বৃষ্টি হইলেই খাল ভইরা পানি আহে রাস্তায়। এরমধ্যে মানুষ থাকে কেমনে? আমগোরে দেখার কেউ নাই।’