অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানীতে হেঁটে চলার সময় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ার ঘটনা কেড়ে নিল একজনের প্রাণ। গুরুতর আহত হয়েছে আরও একজন। ওই নারীও মারা যেতে পারতেন যদি না স্থানীয় তিনজন এগিয়ে এসে ঝুঁকি নিয়ে তাকে উদ্ধার করতেন।
রবিবার দুপুরে ওয়ারীর বনগ্রাম এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। প্রাণ হারানো যুবকের নাম জিন্নাহ বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে বেঁচে যাওয়া নারীর পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, সকালে বৃষ্টির পানি রাস্তায় জমেছিল। এ সময় জিন্নাহ সড়কের তীর ধরে বন্ধ থাকা দোকান ধরে আগাচ্ছিলেন। পাশের একটি বাড়ির বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে দোকানের লোহার শাটারে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। জিন্নাহ শাটার স্পর্শ করতেই বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হন তিনি। আর সেখান থেকে তিনি বেঁচে ফিরতে পারেননি।
জিন্নাহ ওয়ারীর বনগ্রাম এলাকাতেই থাকতেন। তিনি পেশায় ছিলেন সাইকেল মেরামত কর্মী। তবে তার গ্রামের বাড়ি কোথায়, সেটা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা সজিব কামরুল জানান, একই স্থানে একইভাবে আহত মেয়েটি অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। তবে মেয়েটির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। মেয়েটি এখন কেমন আছে সেটা সজীব কামরুলের মতো জানা নেই পুলিশেরও।
ওই নারীকে উদ্ধারের ভিডিও চিত্রও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছে। প্রায় তিন মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায় দোকানের সঙ্গে লেগে রাস্তায় জমে থাকা পানিতে পড়ে আছেন তরুণীটি।
প্রথমে একজন একটি কাঠ বা বাঁশের লাঠি নিয়ে তাকে টেনে আনার চেষ্টা করেন। পরে সেখানে আরও অন্তত তিনজন উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।
এ সময় দোতলা থেকে ভিডিও করা হচ্ছিল আর একজন নারী চিৎকার করে মেইন সুইচ বন্ধ করতে বলেন। এ সময় মেয়েটি চিৎকার করতে থাকেন। তিনি হাত নড়াচড়া করতে পারছিলেন। আর প্রত্যক্ষদর্শীরা তারও মৃত্যুর আশঙ্কায় ভীত হয়ে পড়েন।
খুঁটি দিয়ে টেনে আনার চেষ্টা যখন ব্যর্থ হচ্ছিল তখন অন্য একজন এগিয়ে এসে একটি বস্তাজাতীয় কিছু দিয়ে মেয়েটের পায়ে জড়িয়ে দেন। এরপর সেটি দিয়েই তারা মেয়েটিকে টেনে নিয়ে কোলে করে নিরাপদে নিয়ে যান। ততক্ষণে রাস্তায় মানুষের জটলা তৈরি হয়ে যায়।
জানতে চাইলে ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘নিহতের নাম জিন্নাহ। তিনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মারা গেছেন।’
‘বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে দোকানের শাটারের সঙ্গে লেগে ছিল। শাটার ধরতেই এই ব্যক্তি নিহত নয়। একজন নারীও আহত হয়েছেন।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















