ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন: আসিফ নজরুল ওরা দেশকে ভালোবাসার নামে আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে: চরমোনাই পীর বিশ্বকাপে বাংলাদেশে বাদকে দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিলো আইসিসি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা আমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, যা প্রয়োজন তাই করব: মির্জা আব্বাস নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না : সুজন শিশুদের সঠিক শিক্ষা প্রদানের জন্য আমরা প্রাইমারি শিক্ষার ওপর জোর দিতে চাচ্ছি: তারেক রহমান ‘অতীতেও পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকব’:মির্জা ফখরুল দ.আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন

ট্রাভেলসের আড়ালে উচ্চ কমিশনে সোনা চোরাচালান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ছয়টি ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স রয়েছে মাহবুবুর রহমানের। প্রকাশ্যে চলে ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা আর আড়ালে স্বর্ণ চোরাচালান। প্রতি মাসে স্বর্ণের তিনটি চালান আসত। প্রতি কেজিতে তার কমিশন এক লাখ টাকা। গত ছয় বছরে যে পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি- তা এভাবেই।

শনিবার র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত মাহবুবুর রহমান। ভোরে কাজী মাহবুবুর রহমান ও মীর জাকির হোসেনকে আটক করে র‌্যাব-১। এ সময় চোরাচালানের ১০০ গ্রাম ওজনের ১৩৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টর এলাকায় মাহবুবুরের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তারা দুইজন আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সদস্য। মূলত মাহবুবুর রহমান চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। জাকির মূলত ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করতেন।

এর আগে শুক্রবার দুপুর দুইটার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন মাহবুবুর রহমান। স্বর্ণের ব্যাগটি তিনি উড়োজাহাজে ফেলে আসেন। পরে সন্ধ্যার দিকে গিয়ে গেট থেকে স্বর্ণসহ ব্যাগটি নিয়ে আসেন। র‌্যাবের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল ব্যাগ নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরছেন। শনিবার ভোর চারটার দিকে র‌্যাব সদস্যরা বাড়িতে ঢুকে মাহবুবুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তিনি স্বর্ণ চোরাচালানের কথা স্বীকার করেন।

সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, মাহবুবুর দুবাইয়ের স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। সেখানে যা সিদ্ধান্ত হতো, মাহবুবুর তাই বাস্তবায়ন করতেন। দেশে স্বর্ণের চালান আসার পর তার দায়িত্ব ছিল খুচরা বাজারে বিক্রি করা। জাকিরের দায়িত্ব ছিল দোকানে দোকানে স্বর্ণ পৌঁছে দেওয়া।

২০১০ সালে সাড়ে তিন কোটি টাকা দিয়ে উত্তরা ছয় নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কের ১২ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট কেনেন মাহাবুবুর।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের অধিনায়ক বলেন, কীভাবে বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণ বের হতো সেটাই তদন্ত করা হবে এবং জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

মাহবুবুরের বাড়ির দারোয়ান ইউনুস সাহাবুল্লাহ বলেন, তিন মাস যাবৎ মাহবুবুরের স্ত্রী ও দুই ছেলে মেয়ে আমেরিকায় আছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার চাইলে বিশ্বকাপ বয়কট করবে পাকিস্তান: নাকভি

ট্রাভেলসের আড়ালে উচ্চ কমিশনে সোনা চোরাচালান

আপডেট সময় ০৯:২১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ছয়টি ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স রয়েছে মাহবুবুর রহমানের। প্রকাশ্যে চলে ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা আর আড়ালে স্বর্ণ চোরাচালান। প্রতি মাসে স্বর্ণের তিনটি চালান আসত। প্রতি কেজিতে তার কমিশন এক লাখ টাকা। গত ছয় বছরে যে পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি- তা এভাবেই।

শনিবার র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত মাহবুবুর রহমান। ভোরে কাজী মাহবুবুর রহমান ও মীর জাকির হোসেনকে আটক করে র‌্যাব-১। এ সময় চোরাচালানের ১০০ গ্রাম ওজনের ১৩৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টর এলাকায় মাহবুবুরের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তারা দুইজন আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সদস্য। মূলত মাহবুবুর রহমান চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। জাকির মূলত ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করতেন।

এর আগে শুক্রবার দুপুর দুইটার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন মাহবুবুর রহমান। স্বর্ণের ব্যাগটি তিনি উড়োজাহাজে ফেলে আসেন। পরে সন্ধ্যার দিকে গিয়ে গেট থেকে স্বর্ণসহ ব্যাগটি নিয়ে আসেন। র‌্যাবের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল ব্যাগ নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরছেন। শনিবার ভোর চারটার দিকে র‌্যাব সদস্যরা বাড়িতে ঢুকে মাহবুবুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তিনি স্বর্ণ চোরাচালানের কথা স্বীকার করেন।

সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, মাহবুবুর দুবাইয়ের স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। সেখানে যা সিদ্ধান্ত হতো, মাহবুবুর তাই বাস্তবায়ন করতেন। দেশে স্বর্ণের চালান আসার পর তার দায়িত্ব ছিল খুচরা বাজারে বিক্রি করা। জাকিরের দায়িত্ব ছিল দোকানে দোকানে স্বর্ণ পৌঁছে দেওয়া।

২০১০ সালে সাড়ে তিন কোটি টাকা দিয়ে উত্তরা ছয় নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কের ১২ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট কেনেন মাহাবুবুর।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের অধিনায়ক বলেন, কীভাবে বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণ বের হতো সেটাই তদন্ত করা হবে এবং জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

মাহবুবুরের বাড়ির দারোয়ান ইউনুস সাহাবুল্লাহ বলেন, তিন মাস যাবৎ মাহবুবুরের স্ত্রী ও দুই ছেলে মেয়ে আমেরিকায় আছেন।