ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ইরান খুব ভালো থাকবে: ট্রাম্প উপজেলা পরিষদে কক্ষ বরাদ্দ পাচ্ছেন সংসদ সদস্যরা, সংসদে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মা হারা কন্যার বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি, আবেগাপ্লুত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মৌলভীবাজারের যুবক নিহত স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কর্তন করে হাসপাতালে স্ত্রী সংসদে গাড়ি চাইলেন হাসনাত, জামায়াত আমির বললেন, ছোটদের ‘না’ বলতে নেই অনলাইন ভ্যাট রিটার্নে অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা : এনবিআর চেয়ারম্যান ৪ ঘণ্টা পর জামিন পেলেন বাচ্চাসহ কারাগারে পাঠানো সেই মহিলা লীগ নেত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

রিকশাওয়ালা থেকে ধর্মগুরু, অতঃপর ধর্ষণে আসক্ত বাবা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

অবশেষে ধর্ষণের দায়ে শাস্তি পেলেন ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু। ১৬ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রিকশাচালক থেকে হঠাৎ করে ধর্মগুরু হয়ে যাওয়া আসারামকে বিচারের মুখোমুখি করা মোটেই সহজ কাজ ছিল না। গত পাঁচ বছর ধরে তার বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ মামলা চালাতে আদালত ও পুলিশকে বেগ পেতে হয়েছে।

বিশেষ করে তার মামলার ৯ সাক্ষীর ওপরই একে একে হামলা হয়েছে। এতে তিন সাক্ষী নিহত হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বুধবার রাজস্থানের জোধপুরের বিশেষ আদালত আসারামকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

জানা গেছে, আসারাম বাপুর জীবনের একটি অংশ কেটেছে আজমির শরিফ। তখন তিনি রিকশা চালাতেন। তখন এই ধর্মগুরুর নাম ছিল আসুমাল সিন্ধি। আজমির শরিফের দরগায় পুণ্যার্থীদের রিকশা করে পৌঁছে দিতেন তিনি।

সেখানে আসারাম টানা দুই বছর রিকশা চালান। এখনও বহু পুরনো রিকশাচালক তার কথা মনে রেখেছেন। আজমির রিকশা ইউনিয়নের সদস্য পান্না ওস্তাদ বলেন, ‘ধর্মগুরু হিসেবে খ্যাতি পাওয়ার পরই আমরা আসরামকে চিনতে পারি।’

আসারামের জন্ম পাকিস্তানের সিন্ধুপ্রদেশে। আসারামের যখন সাত বছর বয়স, তখন তার পরিবার গুজরাটে চলে আসে।

১৯৬৩ সালে আজকের আসারাম বাপু আজমির চলে যান। প্রবীণ আইনজীবী চিরঞ্জিৎ সিং ওবেরয় বলেন, ‘আসুমালের বাবা পরিবার নিয়ে পরে আজমিরে চলে আসেন। সেখানে খারিকুইতে থাকতেন তারা। আসুমাল খুবই পরিশ্রম করত।’

জানা গেছে, পুণ্যার্থীদের দরগায় পৌঁছে দিতে দিতেই আধ্যাত্মিক বিষয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আসারাম। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন ধর্মগুরু।

প্রথমে একটি ছোট আশ্রম দিয়ে ধর্ম ব্যবসা শুরু করেন তিনি। পরে তা মহীরুহের চেহারা নেয়। অনেক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে।

কিন্তু ধর্ম ব্যবসা করে পাওয়া বিপুল বিত্তবৈভব আসারামের মাথা খারাপ করে ফেলে। প্রথমে নিজেকে ভগবানের দূত বলে দাবি করেন।

একপর্যায়ে শিষ্যদের আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেয়ার নাম করে যৌন নিপীড়নে জড়িয়ে পড়েন। আসারাম তার নারী শিষ্যদের রাতের অন্ধকারে আশ্রমের নির্জন কক্ষে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দিতেন। ওই সময় তাদের ধর্ষণ করা হতো।

এর মধ্যে ২০১৩ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ‘প্রেতাত্মার হাত’ থেকে বাঁচানোর নাম করে জোধপুরের মানাই গ্রামে নিজ আশ্রমে এনে ধর্ষণ করে ধর্মগুরু আসারাম।

ওই কিশোরীর বাড়ি উত্তরপ্রদেশের শাহজহানপুরে। সে মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারায় আসারামের আরেকটি আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করত।

তাকে প্রেতাত্মার হাত থেকে বাঁচানোর নাম করে সেখান থেকে জোধপুরের আশ্রমে ডেকে আনেন আসারাম। পরে ওই কিশোরী পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে আসারামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ছাড়া গুজরাটের সুরাটে দুই বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আসারাম ও তার ছেলে নারায়ণ সাইয়ের বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর নারায়ণকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে গ্রেফতারের পর থেকে আসারাম বাপু জোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সেখানেই তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ইরান খুব ভালো থাকবে: ট্রাম্প

রিকশাওয়ালা থেকে ধর্মগুরু, অতঃপর ধর্ষণে আসক্ত বাবা

আপডেট সময় ১২:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

অবশেষে ধর্ষণের দায়ে শাস্তি পেলেন ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু। ১৬ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রিকশাচালক থেকে হঠাৎ করে ধর্মগুরু হয়ে যাওয়া আসারামকে বিচারের মুখোমুখি করা মোটেই সহজ কাজ ছিল না। গত পাঁচ বছর ধরে তার বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ মামলা চালাতে আদালত ও পুলিশকে বেগ পেতে হয়েছে।

বিশেষ করে তার মামলার ৯ সাক্ষীর ওপরই একে একে হামলা হয়েছে। এতে তিন সাক্ষী নিহত হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বুধবার রাজস্থানের জোধপুরের বিশেষ আদালত আসারামকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

জানা গেছে, আসারাম বাপুর জীবনের একটি অংশ কেটেছে আজমির শরিফ। তখন তিনি রিকশা চালাতেন। তখন এই ধর্মগুরুর নাম ছিল আসুমাল সিন্ধি। আজমির শরিফের দরগায় পুণ্যার্থীদের রিকশা করে পৌঁছে দিতেন তিনি।

সেখানে আসারাম টানা দুই বছর রিকশা চালান। এখনও বহু পুরনো রিকশাচালক তার কথা মনে রেখেছেন। আজমির রিকশা ইউনিয়নের সদস্য পান্না ওস্তাদ বলেন, ‘ধর্মগুরু হিসেবে খ্যাতি পাওয়ার পরই আমরা আসরামকে চিনতে পারি।’

আসারামের জন্ম পাকিস্তানের সিন্ধুপ্রদেশে। আসারামের যখন সাত বছর বয়স, তখন তার পরিবার গুজরাটে চলে আসে।

১৯৬৩ সালে আজকের আসারাম বাপু আজমির চলে যান। প্রবীণ আইনজীবী চিরঞ্জিৎ সিং ওবেরয় বলেন, ‘আসুমালের বাবা পরিবার নিয়ে পরে আজমিরে চলে আসেন। সেখানে খারিকুইতে থাকতেন তারা। আসুমাল খুবই পরিশ্রম করত।’

জানা গেছে, পুণ্যার্থীদের দরগায় পৌঁছে দিতে দিতেই আধ্যাত্মিক বিষয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আসারাম। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন ধর্মগুরু।

প্রথমে একটি ছোট আশ্রম দিয়ে ধর্ম ব্যবসা শুরু করেন তিনি। পরে তা মহীরুহের চেহারা নেয়। অনেক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে।

কিন্তু ধর্ম ব্যবসা করে পাওয়া বিপুল বিত্তবৈভব আসারামের মাথা খারাপ করে ফেলে। প্রথমে নিজেকে ভগবানের দূত বলে দাবি করেন।

একপর্যায়ে শিষ্যদের আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেয়ার নাম করে যৌন নিপীড়নে জড়িয়ে পড়েন। আসারাম তার নারী শিষ্যদের রাতের অন্ধকারে আশ্রমের নির্জন কক্ষে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দিতেন। ওই সময় তাদের ধর্ষণ করা হতো।

এর মধ্যে ২০১৩ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ‘প্রেতাত্মার হাত’ থেকে বাঁচানোর নাম করে জোধপুরের মানাই গ্রামে নিজ আশ্রমে এনে ধর্ষণ করে ধর্মগুরু আসারাম।

ওই কিশোরীর বাড়ি উত্তরপ্রদেশের শাহজহানপুরে। সে মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারায় আসারামের আরেকটি আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করত।

তাকে প্রেতাত্মার হাত থেকে বাঁচানোর নাম করে সেখান থেকে জোধপুরের আশ্রমে ডেকে আনেন আসারাম। পরে ওই কিশোরী পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে আসারামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ছাড়া গুজরাটের সুরাটে দুই বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আসারাম ও তার ছেলে নারায়ণ সাইয়ের বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর নারায়ণকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে গ্রেফতারের পর থেকে আসারাম বাপু জোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সেখানেই তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।