ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কারিগরি বা ব্যবসা নয়,বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাংলাদেশের জন্য গর্বের

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

শুধুমাত্র কারিগরি বা ব্যবসার বিষয়ই নয়, দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়ও। যদি এর যথাযথ ব্যবহার না করা হয় তাহলে দেশ অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয় রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে।

বুধবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিতে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: সম্ভাবনার মহাকাশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এর আয়োজন করে বিটিআরসি ও টেলিকম খাতের প্রতিবেদকদের সংগঠন টেলিকম রিপোর্টাস নেটওয়ার্ক (টিআরএনবি)।

বক্তারা বলেন, প্রকৃতপক্ষে আমরা যখন স্যাটেলাইট ব্যবহার করতে শুরু করব তখন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারব। মনে রাখতে যে তিন হাজার কোটি টাকা আমাদের তৈরি করতে বিনিয়োগ করেছি। তার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রথম চার পাঁচ বছরেই উঠিয়ে আনতে হবে। তাহলে গরিবের টাকায় করা এ স্যাটেলাইটের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘৪ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। ৭ মে প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সে তারিখেও উৎক্ষেপণের বিষয়টি চূড়ান্ত নাও হতে পারে। কারণ আবহাওয়ার উপর কারোই হাত নেই। আমাদের ৪মে আয়োজনের সব প্রস্তুতি ছিলো কিন্তু আজ সকালে তারিখ পেছানোর সংবাদ পেলাম।’

বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে তথ্য আছে, তাতে ৭ মে আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আশা করি এটাই চূড়ান্ত হবে, তবে বিষয়টা আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। আশা করি ৭ তারিখেই হয়ে যাবে। তাও আমরা ৪ থেকে ৫ দিন পর নিশ্চিত হব।’

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্পের পরিচালক মো. মোজবাউজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন কেবল কিছু ‘কানেকটিভিটির’ কাজ বাকি রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান বলেন, ‘সরকারের দুটি মাত্র কোম্পানি কেরু আর সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লাভজনক। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান লাভজনক না। এখানে বলা হচ্ছে, আগামী ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিনিয়োগের পুরো টাকা উঠে আসবে। এটা শুনতে ভাল লাগে। কিন্তু আমরা যদি ক্যাপাসিটি বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিক্রি করতে না পারি, তাহলে সেলিব্রেশন করে লাভ নেই।’

একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যে অরবিটাল স্লটে (১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) স্থাপন করা হবে, তার মাধ্যমে কাজ করা বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলোর জন্য হবে একটি চ্যালেঞ্জ। টেলিভিশন স্টেশনগুলো যাতে স্যাটেলাইটের সুবিধা পায়, সেজন্য যা দরকার তা করতে হবে।

‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২৬টি রাখছেন কেইউ-ব্যান্ডে। এ ব্যান্ডে টেলিভিশন চালাতে পারি না, এক ফোঁটা বৃষ্টি হলেও ফ্রিকোয়েন্সি কাজ করে না। ১৪টি সি-ব্যান্ডের জন্য আমরা আগ্রহী।’

গোলটেবিল আলোচনায় আরও অংশ নেন এডিএন টেলিকমের চিফ অপারেটিং অফিসার নাইম মোহাম্মদ ফাজলুন, ব্র্যাক ন্যানো স্যাটেলাইট প্রকল্পর পরিচালক খলিলুর রহমান, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান।

টিআরএনবি’র যৌথ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন টিআরএনবি সভাপতি সজল জাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কারিগরি বা ব্যবসা নয়,বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাংলাদেশের জন্য গর্বের

আপডেট সময় ০৪:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

শুধুমাত্র কারিগরি বা ব্যবসার বিষয়ই নয়, দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়ও। যদি এর যথাযথ ব্যবহার না করা হয় তাহলে দেশ অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয় রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে।

বুধবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিতে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: সম্ভাবনার মহাকাশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এর আয়োজন করে বিটিআরসি ও টেলিকম খাতের প্রতিবেদকদের সংগঠন টেলিকম রিপোর্টাস নেটওয়ার্ক (টিআরএনবি)।

বক্তারা বলেন, প্রকৃতপক্ষে আমরা যখন স্যাটেলাইট ব্যবহার করতে শুরু করব তখন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারব। মনে রাখতে যে তিন হাজার কোটি টাকা আমাদের তৈরি করতে বিনিয়োগ করেছি। তার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রথম চার পাঁচ বছরেই উঠিয়ে আনতে হবে। তাহলে গরিবের টাকায় করা এ স্যাটেলাইটের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘৪ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। ৭ মে প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সে তারিখেও উৎক্ষেপণের বিষয়টি চূড়ান্ত নাও হতে পারে। কারণ আবহাওয়ার উপর কারোই হাত নেই। আমাদের ৪মে আয়োজনের সব প্রস্তুতি ছিলো কিন্তু আজ সকালে তারিখ পেছানোর সংবাদ পেলাম।’

বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে তথ্য আছে, তাতে ৭ মে আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আশা করি এটাই চূড়ান্ত হবে, তবে বিষয়টা আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। আশা করি ৭ তারিখেই হয়ে যাবে। তাও আমরা ৪ থেকে ৫ দিন পর নিশ্চিত হব।’

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্পের পরিচালক মো. মোজবাউজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন কেবল কিছু ‘কানেকটিভিটির’ কাজ বাকি রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান বলেন, ‘সরকারের দুটি মাত্র কোম্পানি কেরু আর সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লাভজনক। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান লাভজনক না। এখানে বলা হচ্ছে, আগামী ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিনিয়োগের পুরো টাকা উঠে আসবে। এটা শুনতে ভাল লাগে। কিন্তু আমরা যদি ক্যাপাসিটি বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিক্রি করতে না পারি, তাহলে সেলিব্রেশন করে লাভ নেই।’

একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যে অরবিটাল স্লটে (১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) স্থাপন করা হবে, তার মাধ্যমে কাজ করা বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলোর জন্য হবে একটি চ্যালেঞ্জ। টেলিভিশন স্টেশনগুলো যাতে স্যাটেলাইটের সুবিধা পায়, সেজন্য যা দরকার তা করতে হবে।

‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২৬টি রাখছেন কেইউ-ব্যান্ডে। এ ব্যান্ডে টেলিভিশন চালাতে পারি না, এক ফোঁটা বৃষ্টি হলেও ফ্রিকোয়েন্সি কাজ করে না। ১৪টি সি-ব্যান্ডের জন্য আমরা আগ্রহী।’

গোলটেবিল আলোচনায় আরও অংশ নেন এডিএন টেলিকমের চিফ অপারেটিং অফিসার নাইম মোহাম্মদ ফাজলুন, ব্র্যাক ন্যানো স্যাটেলাইট প্রকল্পর পরিচালক খলিলুর রহমান, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান।

টিআরএনবি’র যৌথ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন টিআরএনবি সভাপতি সজল জাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দে।