অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার বিবিরবাগিচা এলাকার গৃহ শিক্ষিকার বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে সানজিদা আক্তার নামে ১০ বছরের একটি শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। ওই শিশুটির পরিবারের দাবি শিক্ষিকার স্বামী শিশুটিকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় যাত্রবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
শিশুটির পরিবার যাকে অভিযুক্ত করছে, তিনি পালিয়ে গেছেন। আর পুলিশের করা সুরতহাল প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রতিবেদনে শিশুটির গায়ে আঘাত বা যৌন নির্যাতন হয়েছে কি না, সে প্রসঙ্গই উল্লেখ করা হয়নি। যদিও ময়নাতদন্তের সময় বেশ কিছু লক্ষণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। তবে এখনও প্রতিবেদন তৈরি হয়নি।
শিশুটির মামা দৈনিক আকাশকে জানান, গত শনিবার বিকাল চারটার দিকে উত্তর যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচা দুই নম্বর গেটের ৭২/২/এম নম্বর বাড়িতে ফুলকলি হাইস্কুলের শিক্ষিকা নুসরাত জাহান মনির বাসায় পড়তে গিয়েছিল তার ভাগ্নি। পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শিক্ষিকার বাসার পঞ্চম তলার শয়নকক্ষে বৈদ্যুতিক পাখার রডে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে।
এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ অপমৃত্যু মামলা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিশুটির মামা।
তবে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমান দৈনিক আকাশের কাছে দাবি করেন, শিশুটির পরিবারই প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেছে। এখন তারা অন্য কারো প্ররোচনায় হত্যা মামলা করতে চাইছে।
‘আমরা তাদের বলেছি মামলা তো একটি করেছেন, তদন্ত হোক না। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসুক। প্রমাণ পেলে অপমৃত্যু মামলাই হত্যা মামলায় রূপ নেবে সমস্যা কি?
শিশুটির পরিবারের দাবি, ওই শিক্ষিকার স্বামী ধর্ষণ করে হত্যার পর একে আত্মহত্যা বলে প্রমাণ করতে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে। তবে শিক্ষিকার নুসরাত জাহান মনির দাবি, খেলার ছলে শিশুটির গলায় ফাঁস লেগে যায়।
শিশুটির বাবা ঢাকায় ছোট ট্রাক চালান। তার মা গৃহিনী। উত্তর যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচা এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকেন তারা। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জে।
শিশুটির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনের কোন দাগ বা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। আর শিশুটির ময়নাতদন্ত হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘পুলিশ শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদনে যৌন নিপীড়নের কথা উল্লেখ করেনি। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যা পাওয়া যাবে তাই লেখা হবে।’
দৈনিক আকাশের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে ওই চিকিৎসক নিজের পরিচয় প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘পুলিশ তার সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেননি। সেখানে চারজন স্বাক্ষীও সই করেছেন। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনের সঙ্গে ময়নাতদন্তে পাওয়া তথ্যের মিল নেই।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























