ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন তারা যেন প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করেন’:নজরুল ইসলাম নির্বাচনে কোনও ব্যাঘাত ঘটলে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বিঘ্নিত হবে: শামসুজ্জামান দুদু নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা হতে পারে: রয়টার্স আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করলে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব: প্রধান উপদেষ্টা নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার

ঢাবি ক্যাম্পাস শান্ত, হলে ফিরেছেন আন্দোলনকারীরা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হলে ফেরার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

পুলিশ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশের জলকামান, সাঁজোয়া যান ও প্রিজনভ্যান অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া শাহবাগ এলাকায় র‌্যাবের গাড়ির অবস্থান রয়েছে।

আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দোয়েল চত্বর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া করতে দেখা গেছে। তবে সকাল ৯টায় দোয়েল চত্বর ক্যাম্পাসের কোনো সড়কেই আন্দোলনকারীদের কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া পদযাত্রাকে ঘিরে ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে পড়ে। হাজার হাজার আন্দোলনকারী ক্যাম্পাস থেকে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।

এর পর পুলিশ অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান শুরু করলে আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে এসে টিএসসিতে অবস্থান নেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে সেখানে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

পরে রাতভর পুরো ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। রাত দেড়টার দিকে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর চালান।

সেখানে পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা টিএসসিতে এসে অবস্থান নেন। সেখানে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরাও মিছিল নিয়ে এসে যোগ দেন।

রাত ৩টার দিকে টিএসসিতেও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগ হামলা করে। তখন ছাত্রীরা টিএসসির ভেতরে ও রোকেয়া হলে আশ্রয় নেন। অন্যদিকে ছাত্ররা বাংলা একাডেমি ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে গিয়ে অবস্থান নেন।

সর্বশেষ ভোরে শহীদুল্লাহ হলে জড়ো হন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ৬টায় সেখানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে উপস্থিত হলে উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ওই সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকলে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়।

তখন আন্দোলনকারী ও হলের সাধারণ ছাত্ররা একযোগে ছাত্রলীগকে ধাওয়া করে দোয়েল চত্বরে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে ছাত্রলীগ টিএসসি হয়ে মধুর কেন্টিনে এসে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা দোয়েল চত্বরে অবস্থান নেন।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দোয়েল চত্বর থেকে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।

এ নিয়ে উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পিছু হটে হলে ফিরে যান। এর পর আর আন্দোলনকারীরা কোথাও বের না হওয়ায় ক্যাম্পাস শান্ত হতে শুরু করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ক্যাম্পাস শান্ত, হলে ফিরেছেন আন্দোলনকারীরা

আপডেট সময় ১১:৫৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হলে ফেরার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

পুলিশ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশের জলকামান, সাঁজোয়া যান ও প্রিজনভ্যান অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া শাহবাগ এলাকায় র‌্যাবের গাড়ির অবস্থান রয়েছে।

আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দোয়েল চত্বর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া করতে দেখা গেছে। তবে সকাল ৯টায় দোয়েল চত্বর ক্যাম্পাসের কোনো সড়কেই আন্দোলনকারীদের কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া পদযাত্রাকে ঘিরে ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে পড়ে। হাজার হাজার আন্দোলনকারী ক্যাম্পাস থেকে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।

এর পর পুলিশ অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান শুরু করলে আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে এসে টিএসসিতে অবস্থান নেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে সেখানে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

পরে রাতভর পুরো ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। রাত দেড়টার দিকে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর চালান।

সেখানে পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা টিএসসিতে এসে অবস্থান নেন। সেখানে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরাও মিছিল নিয়ে এসে যোগ দেন।

রাত ৩টার দিকে টিএসসিতেও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগ হামলা করে। তখন ছাত্রীরা টিএসসির ভেতরে ও রোকেয়া হলে আশ্রয় নেন। অন্যদিকে ছাত্ররা বাংলা একাডেমি ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে গিয়ে অবস্থান নেন।

সর্বশেষ ভোরে শহীদুল্লাহ হলে জড়ো হন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ৬টায় সেখানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে উপস্থিত হলে উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ওই সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকলে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়।

তখন আন্দোলনকারী ও হলের সাধারণ ছাত্ররা একযোগে ছাত্রলীগকে ধাওয়া করে দোয়েল চত্বরে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে ছাত্রলীগ টিএসসি হয়ে মধুর কেন্টিনে এসে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা দোয়েল চত্বরে অবস্থান নেন।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দোয়েল চত্বর থেকে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।

এ নিয়ে উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পিছু হটে হলে ফিরে যান। এর পর আর আন্দোলনকারীরা কোথাও বের না হওয়ায় ক্যাম্পাস শান্ত হতে শুরু করে।