ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩ নতুন দায়িত্ব পেলেন ফজলুর রহমান জুলাই সনদের আলোকে সংস্কারগুলো এগিয়ে নেব: আইনমন্ত্রী গণভোটের রায় অস্বীকার করা মানে জনগণকে অপমান করা: জামায়াত আমির কেশম দ্বীপে হামলার ‘মূল্য দিতে হবে’ যুক্তরাষ্ট্রকে:গালিবাফের হুঁশিয়ারি ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: সংসদীয় কমিটিকে মোদি সরকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-সারজিসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদনে আইফোন চুরির অভিযোগ শিল্প বাঁচাতে চাই সুষ্ঠু জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নতুন দায়িত্বে ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি নেপালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও কারফিউ জারি, প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের শান্তির বার্তা

শাহবাগ থেকে হটে ঢাবিতে আন্দোলনকারীরা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় দখল করে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি করা শিক্ষার্থীরা এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন।

রবিবার দুপুরের পর বেলা তিনটার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় আন্দোলনকারীরা। পাঁচ ঘণ্টা ধৈর্য ধরে অপেক্ষার পরও শিক্ষার্থীরা যখন সরতে রাজি হচ্ছিল না, তখন রাত সাতটা ৫৫ মিনিটের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। পাশাপাশি করা হয় লাঠিপেটা।

শাহবাগ থেকে সরে যেতে বাধ্য হওয়ার পর আন্দোলকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, মসজিদ, টিএসসি ও আশপাশে অবস্থান নেন।

অনেকে অবশ্য শাহবাগ থেকে বাংলামোটরের দিকে চলে আসেন। এ সময় পথচারীরা আশেপাশে আটকা পড়েন। শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও তাদেরকে লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা চলছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা ১০ শতাংশে নিয়ে আসাসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ শিক্ষার্থীদের পদযাত্রা কর্মসূচি ছিল। দুপুরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে আসে শাহবাগে। সেখানেই বসে পড়ে তারা। আর তাদের দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া অবধি সেখানেই অবস্থান নিয়ে থাকার ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।

শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অফিস ফেরত মানুষরা তীব্র ভোগান্তিতে পড়ে। পুরো শহরজুড়ে যানজটে আটকা পড়ে লাখো মানুষ।

আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবি- সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করার দাবি জানাচ্ছে।

নানা সময় সরকারের শেষ বছরে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। তবে এবার কোটা বাতিল না করে সংস্কারের দাবি সামনে আনছে আন্দোলনকারীরা। যদিও কর্মসূচিতে তারা কথা বলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোটা একাত্তরের যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে। এই কোটা বহাল থাকবে। আর কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হবে। এর বাইরে কিছু করা সম্ভব নয়।

সরকারপ্রধানের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটতে রাজি নয়। তারা দাবি আদায়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহবাগ থেকে হটে ঢাবিতে আন্দোলনকারীরা

আপডেট সময় ১০:১৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় দখল করে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি করা শিক্ষার্থীরা এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন।

রবিবার দুপুরের পর বেলা তিনটার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় আন্দোলনকারীরা। পাঁচ ঘণ্টা ধৈর্য ধরে অপেক্ষার পরও শিক্ষার্থীরা যখন সরতে রাজি হচ্ছিল না, তখন রাত সাতটা ৫৫ মিনিটের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। পাশাপাশি করা হয় লাঠিপেটা।

শাহবাগ থেকে সরে যেতে বাধ্য হওয়ার পর আন্দোলকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, মসজিদ, টিএসসি ও আশপাশে অবস্থান নেন।

অনেকে অবশ্য শাহবাগ থেকে বাংলামোটরের দিকে চলে আসেন। এ সময় পথচারীরা আশেপাশে আটকা পড়েন। শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও তাদেরকে লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা চলছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা ১০ শতাংশে নিয়ে আসাসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ শিক্ষার্থীদের পদযাত্রা কর্মসূচি ছিল। দুপুরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে আসে শাহবাগে। সেখানেই বসে পড়ে তারা। আর তাদের দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া অবধি সেখানেই অবস্থান নিয়ে থাকার ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।

শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অফিস ফেরত মানুষরা তীব্র ভোগান্তিতে পড়ে। পুরো শহরজুড়ে যানজটে আটকা পড়ে লাখো মানুষ।

আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবি- সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করার দাবি জানাচ্ছে।

নানা সময় সরকারের শেষ বছরে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। তবে এবার কোটা বাতিল না করে সংস্কারের দাবি সামনে আনছে আন্দোলনকারীরা। যদিও কর্মসূচিতে তারা কথা বলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোটা একাত্তরের যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে। এই কোটা বহাল থাকবে। আর কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হবে। এর বাইরে কিছু করা সম্ভব নয়।

সরকারপ্রধানের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটতে রাজি নয়। তারা দাবি আদায়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।