ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব উন্নয়ন, অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের বিকল্প নাম বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ

কোটা সংস্কার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান, যানজটের ভোগান্তি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার্যত নাকচ করে দিলেও সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান নিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

তাদের এই কর্মসূচির কারণে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই মোড়টিতে তীব্র দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। আশেপাশের সড়ক বন্ধ হয়ে তৈরি হয়েছে যানজটের।

স্বাভাবিক কর্মদিবসে শিক্ষার্থীদের এমন কর্মসূচিতে আশেপাশের সড়কগুলোতে যাতায়াতকারীদেরকে দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে। তবে আন্দোলনকারীদেরকে সড়ক থেকে উঠিয়ে দিতে পুলিশ এই প্রতিবেদন লেখা অবধি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

কোটা সংস্কারের দাবিতে রবিবার সারা দেশে গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। কেন্দ্রীয়ভাবে বেলা দুইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে রাজু স্মৃতি ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে শাহবাগের মোড়ে এসে অবস্থান নেয় তারা।

তাঁদের দাবি, বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে কমাতে হবে। এই চাকরিতে কোটা সব মিলিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে পাঁচ ধরনের কোটা আছে। সব মিলিয়ে শতকরা ৫৬ শতাংশ নিয়োগ হয় কোটায়। অবশ্য কোটায় নিয়োগ মানে যোগ্যতা সম্পন্ন নয়, বিষয়টি এমন নয়। পরীক্ষায় চাকরি পাওয়ার মতো যোগ্য হলেই নিয়োগ দেয়া হয়।

যে কোটা রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোটা পায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো। মুক্তিযুদ্ধের পর সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটার ব্যবস্থা করা হয়।

১৯৯৬ সালে এই কোটার পরিধি বাড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদেরকেও সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর সরকার এই সুবিধা মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিদেরকেও দেয়।

এর বাইরে ১০ শতাংশ নারী কোটা, পশ্চাদপদ জেলার জন্য ১০ শতাংশ কোটা, পাঁচ শতাংশ কোটা আছে ক্ষদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য। আর এক শতাংশ কোটা আছে প্রতিবন্ধীদের জন্য।

গত কয়েকটি রাজনৈতিক সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলে দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। তবে এবার শিক্ষার্থীরা এই দাবি না তুলে সংস্কারের দাবি নিয়ে এসেছে যদিও কর্মসূচিতে কেবল মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টি নিয়েই প্রধানত বক্তব্য দেয়া হয়ে তাকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, এই কোটা কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে দেয়া হয়েছে। আর ৩০ শতাংশ কোটা কমানোর কোনো পরিকল্পনা যে নাই, সেটাও তিনি স্পষ্ট করেছেন নানা সমাবেশে।

সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা আসলেও কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা পিছু হটতে চাইছে না।

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ১৪ মার্চ ৫ দফা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি বাধার শিকার হয় তারা।

এরপরও বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।

আন্দোলনকারীদের যেসব দাবি রয়েছে, তার মধ্যে একটি অবশ্য সরকার মেনে নিয়েছে। সেটি হলো, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে সাধারণ চারকিপ্রার্থীর থেকে নিয়োগ।

এর বাইরে কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করার দাবি আছে তাদের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে সুরক্ষা পেতে কিছু উপায়

কোটা সংস্কার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান, যানজটের ভোগান্তি

আপডেট সময় ১০:০৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার্যত নাকচ করে দিলেও সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান নিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

তাদের এই কর্মসূচির কারণে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই মোড়টিতে তীব্র দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। আশেপাশের সড়ক বন্ধ হয়ে তৈরি হয়েছে যানজটের।

স্বাভাবিক কর্মদিবসে শিক্ষার্থীদের এমন কর্মসূচিতে আশেপাশের সড়কগুলোতে যাতায়াতকারীদেরকে দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে। তবে আন্দোলনকারীদেরকে সড়ক থেকে উঠিয়ে দিতে পুলিশ এই প্রতিবেদন লেখা অবধি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

কোটা সংস্কারের দাবিতে রবিবার সারা দেশে গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। কেন্দ্রীয়ভাবে বেলা দুইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে রাজু স্মৃতি ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে শাহবাগের মোড়ে এসে অবস্থান নেয় তারা।

তাঁদের দাবি, বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে কমাতে হবে। এই চাকরিতে কোটা সব মিলিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে পাঁচ ধরনের কোটা আছে। সব মিলিয়ে শতকরা ৫৬ শতাংশ নিয়োগ হয় কোটায়। অবশ্য কোটায় নিয়োগ মানে যোগ্যতা সম্পন্ন নয়, বিষয়টি এমন নয়। পরীক্ষায় চাকরি পাওয়ার মতো যোগ্য হলেই নিয়োগ দেয়া হয়।

যে কোটা রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোটা পায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো। মুক্তিযুদ্ধের পর সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটার ব্যবস্থা করা হয়।

১৯৯৬ সালে এই কোটার পরিধি বাড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদেরকেও সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর সরকার এই সুবিধা মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিদেরকেও দেয়।

এর বাইরে ১০ শতাংশ নারী কোটা, পশ্চাদপদ জেলার জন্য ১০ শতাংশ কোটা, পাঁচ শতাংশ কোটা আছে ক্ষদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য। আর এক শতাংশ কোটা আছে প্রতিবন্ধীদের জন্য।

গত কয়েকটি রাজনৈতিক সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলে দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। তবে এবার শিক্ষার্থীরা এই দাবি না তুলে সংস্কারের দাবি নিয়ে এসেছে যদিও কর্মসূচিতে কেবল মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টি নিয়েই প্রধানত বক্তব্য দেয়া হয়ে তাকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, এই কোটা কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে দেয়া হয়েছে। আর ৩০ শতাংশ কোটা কমানোর কোনো পরিকল্পনা যে নাই, সেটাও তিনি স্পষ্ট করেছেন নানা সমাবেশে।

সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা আসলেও কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা পিছু হটতে চাইছে না।

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ১৪ মার্চ ৫ দফা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি বাধার শিকার হয় তারা।

এরপরও বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।

আন্দোলনকারীদের যেসব দাবি রয়েছে, তার মধ্যে একটি অবশ্য সরকার মেনে নিয়েছে। সেটি হলো, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে সাধারণ চারকিপ্রার্থীর থেকে নিয়োগ।

এর বাইরে কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করার দাবি আছে তাদের।