ঢাকা ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ক্যান্সার সারানোর নতুন পদ্ধতি

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ৪৪ বছর বয়সী ডিমাস প্যাডিলা। একটি কোম্পানির প্রতিনিধি এই যুবক কয়েক বছর ধরে গলার ক্যান্সারে ভুগছিলেন। প্রথমবার অপারেশন শেষে থেরাপি নেয়ার পরে পরীক্ষায় দেখা গেল ক্যান্সার কোষ ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু দুই বছর পর আবার ফিরে এলো এই মারণ ব্যাধি। আবার অপারেশন করা হলো। আবারো থেরাপির পর পরীক্ষায় ধরা পড়ল রোগমুক্ত হয়েছেন তিনি। কিন্তু এক বছরের মাথায় আবার টিউমার দেখা দিল। ডাক্তাররা নিশ্চিত হলেন তার শরীর থেকে ক্যান্সার কোষ পুরোপুরি ধ্বংস হচ্ছে না।

একদিন টাম্পার মোফিট ক্যান্সার সেন্টারের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ফ্রেডারিক লকির সঙ্গে প্যাডিলার পরিচয় হলো। তিনি লকিকে তার কষ্টের কথা খুলে বলেন। তখন লকি তাকে জানালেন তিনি চিমারিক এন্টিজেন রিসেপটর টি-সেল থেরাপি (সংক্ষেপে সিএআর টি-সেল থেরাপি) নিয়ে গবেষণা করছেন। এর মাধ্যমে জেনেটিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোগীর নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো শক্তিশালী করে তোলা হয়। তিনি প্যাডিলার রক্ত থেকে টি-সেল সংগ্রহ করেন। এরপর বিজ্ঞানীরা ওই সেলগুলোতে নোভেল জিন প্রবেশ করিয়ে দেন। এর ফলে কোষগুলোর এমন এক প্রকার শক্তি তৈরী হলো যাতে এগুলো ক্যান্সার কোষের বিশেষ প্রোটিনকে আক্রমণ করে তাকে শুষে নিতে পারে। পরবর্তীতের এই কোষগুলোকে আবার প্যাডিলার রক্তে প্রবেশ করানো হলো। এর ফল হলো অকল্পনীয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে তার টিউমার শুকাতে শুকাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। প্রায় ১৮ মাস পার হয়ে গেছে এরপর। তার শরীরে কোনো টিউমার আর ফিরে আসেনি। চলে গেছে শারিরীক সব ধরনের জটিলতাও। দিব্যি সুস্থ শরীরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেয়ে গেছেন। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, এই গবেষণায় অংশ নেয়া ১০১ জন রোগীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে পুরোমুক্তি মুক্তি পেয়েছেন ক্যান্সার থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন জিন থেরাপি নামে পরিচিত এই চিকিত্সা পদ্ধতির অনুমোদন দিতে রাজি হয়েছে সফলতার হার দেখে। তবে অন্যান্য চিকিত্সা পদ্ধতির মতো এরও কিছুটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে বলে তারা জানিয়েছেন। সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ডটকম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ক্যান্সার সারানোর নতুন পদ্ধতি

আপডেট সময় ০৯:০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ ২০১৮

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ৪৪ বছর বয়সী ডিমাস প্যাডিলা। একটি কোম্পানির প্রতিনিধি এই যুবক কয়েক বছর ধরে গলার ক্যান্সারে ভুগছিলেন। প্রথমবার অপারেশন শেষে থেরাপি নেয়ার পরে পরীক্ষায় দেখা গেল ক্যান্সার কোষ ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু দুই বছর পর আবার ফিরে এলো এই মারণ ব্যাধি। আবার অপারেশন করা হলো। আবারো থেরাপির পর পরীক্ষায় ধরা পড়ল রোগমুক্ত হয়েছেন তিনি। কিন্তু এক বছরের মাথায় আবার টিউমার দেখা দিল। ডাক্তাররা নিশ্চিত হলেন তার শরীর থেকে ক্যান্সার কোষ পুরোপুরি ধ্বংস হচ্ছে না।

একদিন টাম্পার মোফিট ক্যান্সার সেন্টারের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ফ্রেডারিক লকির সঙ্গে প্যাডিলার পরিচয় হলো। তিনি লকিকে তার কষ্টের কথা খুলে বলেন। তখন লকি তাকে জানালেন তিনি চিমারিক এন্টিজেন রিসেপটর টি-সেল থেরাপি (সংক্ষেপে সিএআর টি-সেল থেরাপি) নিয়ে গবেষণা করছেন। এর মাধ্যমে জেনেটিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোগীর নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো শক্তিশালী করে তোলা হয়। তিনি প্যাডিলার রক্ত থেকে টি-সেল সংগ্রহ করেন। এরপর বিজ্ঞানীরা ওই সেলগুলোতে নোভেল জিন প্রবেশ করিয়ে দেন। এর ফলে কোষগুলোর এমন এক প্রকার শক্তি তৈরী হলো যাতে এগুলো ক্যান্সার কোষের বিশেষ প্রোটিনকে আক্রমণ করে তাকে শুষে নিতে পারে। পরবর্তীতের এই কোষগুলোকে আবার প্যাডিলার রক্তে প্রবেশ করানো হলো। এর ফল হলো অকল্পনীয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে তার টিউমার শুকাতে শুকাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। প্রায় ১৮ মাস পার হয়ে গেছে এরপর। তার শরীরে কোনো টিউমার আর ফিরে আসেনি। চলে গেছে শারিরীক সব ধরনের জটিলতাও। দিব্যি সুস্থ শরীরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেয়ে গেছেন। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, এই গবেষণায় অংশ নেয়া ১০১ জন রোগীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে পুরোমুক্তি মুক্তি পেয়েছেন ক্যান্সার থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন জিন থেরাপি নামে পরিচিত এই চিকিত্সা পদ্ধতির অনুমোদন দিতে রাজি হয়েছে সফলতার হার দেখে। তবে অন্যান্য চিকিত্সা পদ্ধতির মতো এরও কিছুটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে বলে তারা জানিয়েছেন। সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ডটকম।