ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

হতাশ হওয়ার কিছুই নেই, এটা বিজ্ঞান: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনে সাফল্য না এলেও হতাশ না হতে নেতা-কর্মীদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরু ইসলাম আলমগীর। বর্তমান সরকারকে ফ্যাসিস্ট দাবি করে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ আমলে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের উদাহরণ টেনে ফখরুল বলেন, সময় লাগলেও আন্দোলনে সাফল্য আসবেই।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র ‘পুনরুদ্ধারের’ দাবিতে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় এ কথা বলেন ফখরুল। সম্মিলিত পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের ব্যানারে এই প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।

বিএনপি গত টানা পাঁচ বছর ধরে সরকারকে নতি স্বীকার করানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এই চেষ্টা করতে গিয়ে এখন অবধি কোনো সাফল্য পায়নি তারা। বরং সাংগঠনিকভাবে বিএনপির শক্তি হারানোর বিষয়টি স্পষ্ট। আর খালেদা জিয়ার কিছু হলে দেশে আগুন জ্বালানোর হুমকি এলেও গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি প্রধানকে কারাগারে নেয়ার পর থেকে বিএনপি বিশেষভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কথা বলে আসছে। আর এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিএনপিকে নিয়ে কটাক্ষও করছেন।

এর আগেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার এক বছর পর বিএনপি খালি হাতে ঘরে ফিরেছে সরকার পতনের ডাক দিয়ে। এবার তৃতীয়বারের মতো খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে আছে বিএনপি। তারপর হতাশ হওয়ার কিছু নেই জানিয়ে মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের বলেন, ‘আজকে হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। এখন হয়নি তো সামনে হবে। এটা তো বিজ্ঞান। হতেই হবে।’

‘আমরা বিএনপি আগের চেয়ে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ। আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ নেই। ঐক্যবদ্ধভাবেই আমাদের দলের নেত্রীর জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছি।’

আন্দোলনে সাফল্য আসনে সময় লাগে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ১২ বছর আন্দোলন হয়েছে। স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলন হয়েছে।’

‘আজকে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ভেবে চিন্তে আন্দোলন করতে হচ্ছে। বিএনপি বিপ্লবী দল নয়। বিএনপির উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে চায় বিএনপি। আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে সামনে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করছি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার মামলা ছাড়িয়ে গেছে। আসামি করা হয়েছে ১৮ লাখের বেশি নেতাকর্মীকে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নামেও মামলা।’

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘সে সময় (আইয়ুব ও এরশাদবিরোধী আন্দোলন) একটি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বলেই তাদেরকে ক্ষমতা থেকে নামানো গেছে। আজকে তাই বর্তমান ফ্যাসিস্ট এবং দানব সরকারকে হটাতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

‘আজকে এই আন্দোলনে শুধু বিএনপি নয় পেশাজীবীদেরকেও ভূমিকা রাখতে হবে। যারা বিগত আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’

ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রেণিপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করছি। সবাইকে এই ঐক্য গড়ার কাজ করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে দেশের মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে অতিষ্ঠ। মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। কথা বলার স্বাধীনতা নেই। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নেই। এ অবস্থা চলতে পারে না। আজকে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।’

‘আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এজন্যই তাকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে নির্জন কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। যা অন্যায় এবং বেআইনি।’

বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায় জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘সেই নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবার পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

হতাশ হওয়ার কিছুই নেই, এটা বিজ্ঞান: ফখরুল

আপডেট সময় ১১:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনে সাফল্য না এলেও হতাশ না হতে নেতা-কর্মীদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরু ইসলাম আলমগীর। বর্তমান সরকারকে ফ্যাসিস্ট দাবি করে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ আমলে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের উদাহরণ টেনে ফখরুল বলেন, সময় লাগলেও আন্দোলনে সাফল্য আসবেই।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র ‘পুনরুদ্ধারের’ দাবিতে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় এ কথা বলেন ফখরুল। সম্মিলিত পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের ব্যানারে এই প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।

বিএনপি গত টানা পাঁচ বছর ধরে সরকারকে নতি স্বীকার করানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এই চেষ্টা করতে গিয়ে এখন অবধি কোনো সাফল্য পায়নি তারা। বরং সাংগঠনিকভাবে বিএনপির শক্তি হারানোর বিষয়টি স্পষ্ট। আর খালেদা জিয়ার কিছু হলে দেশে আগুন জ্বালানোর হুমকি এলেও গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি প্রধানকে কারাগারে নেয়ার পর থেকে বিএনপি বিশেষভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কথা বলে আসছে। আর এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিএনপিকে নিয়ে কটাক্ষও করছেন।

এর আগেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার এক বছর পর বিএনপি খালি হাতে ঘরে ফিরেছে সরকার পতনের ডাক দিয়ে। এবার তৃতীয়বারের মতো খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে আছে বিএনপি। তারপর হতাশ হওয়ার কিছু নেই জানিয়ে মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের বলেন, ‘আজকে হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। এখন হয়নি তো সামনে হবে। এটা তো বিজ্ঞান। হতেই হবে।’

‘আমরা বিএনপি আগের চেয়ে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ। আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ নেই। ঐক্যবদ্ধভাবেই আমাদের দলের নেত্রীর জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছি।’

আন্দোলনে সাফল্য আসনে সময় লাগে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ১২ বছর আন্দোলন হয়েছে। স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলন হয়েছে।’

‘আজকে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ভেবে চিন্তে আন্দোলন করতে হচ্ছে। বিএনপি বিপ্লবী দল নয়। বিএনপির উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে চায় বিএনপি। আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে সামনে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করছি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার মামলা ছাড়িয়ে গেছে। আসামি করা হয়েছে ১৮ লাখের বেশি নেতাকর্মীকে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নামেও মামলা।’

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘সে সময় (আইয়ুব ও এরশাদবিরোধী আন্দোলন) একটি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বলেই তাদেরকে ক্ষমতা থেকে নামানো গেছে। আজকে তাই বর্তমান ফ্যাসিস্ট এবং দানব সরকারকে হটাতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

‘আজকে এই আন্দোলনে শুধু বিএনপি নয় পেশাজীবীদেরকেও ভূমিকা রাখতে হবে। যারা বিগত আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’

ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রেণিপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করছি। সবাইকে এই ঐক্য গড়ার কাজ করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে দেশের মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে অতিষ্ঠ। মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। কথা বলার স্বাধীনতা নেই। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নেই। এ অবস্থা চলতে পারে না। আজকে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।’

‘আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এজন্যই তাকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে নির্জন কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। যা অন্যায় এবং বেআইনি।’

বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায় জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘সেই নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।’