ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছিলেন জালাল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিরপুরের পীরেরবাগে সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে নিহত গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জালাল উদ্দিন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখায় পাঁচ বছর আগে রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছিলেন।

২০১৩ সালে গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকার জন্য জালালকে সে সময় রাষ্ট্রপতি পদক পিপিএম সেবা দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই পদক পরিয়ে দেন তিনি।

আর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েই সন্ত্রাসীদের গুলিতে জীবন দিতে হলো জালাল উদ্দিনকে। ১৯৮৯ সালে কনস্টেবল পদে পুলিশে যোগ দেন জালাল। রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়ার সময় জালাল উদ্দিন উপপরিদর্শক পদ মর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন।

রাজধানীর ওয়ারী থানায় দীর্ঘদিন থাকার পর দুই মাস আগে পদোন্নতি পেয়ে জালাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন।

সোমবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের একটি পল্লবীর জোনাল টিমের সঙে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে যান জালাল উদ্দিন। তারা সেখানে গেলে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। এ সময় জালালউদ্দিনের মাথায় গুলি লাগে।

ওই রাতেই জালালকে রাজধানীর বেসরকারি স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত দুইটার দিকে তিনি মারা যান। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে জালাল উদ্দিনের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জালাল উদ্দিনের মাথার বাঁ পাশে গুলি লাগে। গুলির আঘাতে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেছেন, জালালের খুনিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। খুনিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশের দুটি অস্ত্র সন্ধানে জালালউদ্দিনসহ একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়েছিল জানিয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশের দুটি অস্ত্র মিরপুর থেকে খোয়া গিয়েছিল। সেই অস্ত্রের সন্ধানে একটা টিম সেখানে গিয়েছিল। তারা অভিযানে যায়নি রেকি করতে গিয়েছিল। সেখানেই সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হন জালাল।

দুপুরে জালালের দেহ জানাজার জন্য রাজারবাগ পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। জানাজায় অংশ নেন পুলিশর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জালাল উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানার ভোলাপাড়া গ্রামে। সেখানে আজ রাতে তার দাফন করার কথা আছে।

জালালের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছার পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়। তার বৃদ্ধা মা সন্তানের ছবি হাতে নিয়ে বিলাপ করতে থাকেন। জালাল ঢাকার সবুজবাগ থানার পূর্ব বাসাবোর একটি বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকতেন। তাঁর স্কুলপড়ুয়া দুই মেয়ে আছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছিলেন জালাল

আপডেট সময় ০৮:৩১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিরপুরের পীরেরবাগে সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে নিহত গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জালাল উদ্দিন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখায় পাঁচ বছর আগে রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছিলেন।

২০১৩ সালে গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকার জন্য জালালকে সে সময় রাষ্ট্রপতি পদক পিপিএম সেবা দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই পদক পরিয়ে দেন তিনি।

আর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েই সন্ত্রাসীদের গুলিতে জীবন দিতে হলো জালাল উদ্দিনকে। ১৯৮৯ সালে কনস্টেবল পদে পুলিশে যোগ দেন জালাল। রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়ার সময় জালাল উদ্দিন উপপরিদর্শক পদ মর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন।

রাজধানীর ওয়ারী থানায় দীর্ঘদিন থাকার পর দুই মাস আগে পদোন্নতি পেয়ে জালাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন।

সোমবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের একটি পল্লবীর জোনাল টিমের সঙে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে যান জালাল উদ্দিন। তারা সেখানে গেলে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। এ সময় জালালউদ্দিনের মাথায় গুলি লাগে।

ওই রাতেই জালালকে রাজধানীর বেসরকারি স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত দুইটার দিকে তিনি মারা যান। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে জালাল উদ্দিনের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জালাল উদ্দিনের মাথার বাঁ পাশে গুলি লাগে। গুলির আঘাতে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেছেন, জালালের খুনিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। খুনিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশের দুটি অস্ত্র সন্ধানে জালালউদ্দিনসহ একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়েছিল জানিয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশের দুটি অস্ত্র মিরপুর থেকে খোয়া গিয়েছিল। সেই অস্ত্রের সন্ধানে একটা টিম সেখানে গিয়েছিল। তারা অভিযানে যায়নি রেকি করতে গিয়েছিল। সেখানেই সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হন জালাল।

দুপুরে জালালের দেহ জানাজার জন্য রাজারবাগ পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। জানাজায় অংশ নেন পুলিশর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জালাল উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানার ভোলাপাড়া গ্রামে। সেখানে আজ রাতে তার দাফন করার কথা আছে।

জালালের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছার পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়। তার বৃদ্ধা মা সন্তানের ছবি হাতে নিয়ে বিলাপ করতে থাকেন। জালাল ঢাকার সবুজবাগ থানার পূর্ব বাসাবোর একটি বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকতেন। তাঁর স্কুলপড়ুয়া দুই মেয়ে আছে।