ঢাকা ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

ত্রিভুবন ট্র্যাজেডি, ২৩ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বাংলাদেশির জানাজা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ সোমবার বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বিকাল পৌনে ছয়টায় শুরু হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া।

আগে থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে স্টেডিয়ামের পরিবেশ ভারী হয়ে ছিল। মরদেহ হস্তান্তরের সময় রোল ওঠে কান্নার। একেকজনের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কান্নার রোল আরও উচ্চকিত হয়। হৃদয়বিদারক এই পরিবেশ চোখে জল আনে উপস্থিত সবার।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় সহযোগিতা করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তারা মরদেহগুলো একে একে বয়ে এনে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে গাড়িতে তুলে দেন।

এর আগে আজ আসরের নামাজের পর ৫টা ২০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে ওই ২৩ জনের জানাজা সম্পন্ন হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিমানমন্ত্রী শাহজাহান কামালসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সরকারি কর্মকর্তা, সেনাকর্মকর্তা, নিহতদের স্বজন-সহকর্মী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা জানান। আর জাতীয় সংসদের পক্ষে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর স্বজন ও সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় নিহতদের প্রতি।

এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে আনা হয় ২৩টি মরদেহ। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৃষ্টি হয় এক শোকাবহ পরিবেশের।

তারও আগে চারটা ১০ মিনিটের দিকে ২৩টি মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ কার্গো বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে মরদেহ গ্রহণ করেন সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিমানমন্ত্রী শাহাজাহান কামাল।

আজ বেলা আড়াইটার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে ২৩ মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় এয়ারক্রাফটটি। এর মধ্যে ছিল আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার, শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল আহমেদ, সানজিদা ও নুরুজ্জামানের মরদেহ।

গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। বিমানের ৭১ আরোহীর মধ্যে চার ক্রুসহ ৫১ জন মারা যান। তাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। ২৩ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও অন্য তিনজনকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

ত্রিভুবন ট্র্যাজেডি, ২৩ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

আপডেট সময় ০৮:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বাংলাদেশির জানাজা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ সোমবার বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বিকাল পৌনে ছয়টায় শুরু হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া।

আগে থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে স্টেডিয়ামের পরিবেশ ভারী হয়ে ছিল। মরদেহ হস্তান্তরের সময় রোল ওঠে কান্নার। একেকজনের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কান্নার রোল আরও উচ্চকিত হয়। হৃদয়বিদারক এই পরিবেশ চোখে জল আনে উপস্থিত সবার।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় সহযোগিতা করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তারা মরদেহগুলো একে একে বয়ে এনে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে গাড়িতে তুলে দেন।

এর আগে আজ আসরের নামাজের পর ৫টা ২০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে ওই ২৩ জনের জানাজা সম্পন্ন হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিমানমন্ত্রী শাহজাহান কামালসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সরকারি কর্মকর্তা, সেনাকর্মকর্তা, নিহতদের স্বজন-সহকর্মী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা জানান। আর জাতীয় সংসদের পক্ষে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর স্বজন ও সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় নিহতদের প্রতি।

এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে আনা হয় ২৩টি মরদেহ। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৃষ্টি হয় এক শোকাবহ পরিবেশের।

তারও আগে চারটা ১০ মিনিটের দিকে ২৩টি মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ কার্গো বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে মরদেহ গ্রহণ করেন সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিমানমন্ত্রী শাহাজাহান কামাল।

আজ বেলা আড়াইটার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে ২৩ মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় এয়ারক্রাফটটি। এর মধ্যে ছিল আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার, শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল আহমেদ, সানজিদা ও নুরুজ্জামানের মরদেহ।

গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। বিমানের ৭১ আরোহীর মধ্যে চার ক্রুসহ ৫১ জন মারা যান। তাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। ২৩ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও অন্য তিনজনকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।