অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ২৩ বাংলাদেশির মরদেহ বাংলাদেশ দূতাবাসে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পরই সেখানে তাদের জানাজা হবে।
সোমবার সকালে নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসে তাদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তারপর দুপুরে তাদের দেশে আনা হবে এবং বিকাল ৪টায় বিএএফ ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু কুর্মিটোলায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস এসব তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে বাকি তিন বাংলাদেশির মরদেহ এখনও শনাক্ত হয়নি। এ তিনজনের ক্ষেত্রে যদি ডিএনএ টেস্ট করাতে হয় তাহলে সময় লাগবে ১০ থেকে ২১ দিন।
অন্যদিকে বিমান দুর্ঘটনায় আহতরা সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে তাদের কিছুটা মানসিক অসুস্থতা রয়েছে, যার চিকিৎসা চলছে। দু’সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি ফিরতে পারবেন তারা।
রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম,সচিব সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, আহতদের চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. সামন্ত লাল সেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সোহেল মাহমুদ নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাজ করছেন। তিনি জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত তারা ৩৩টি মরদেহ চিহ্নিত করতে পেরেছেন। আরও ৪ থেকে ৫টি মরদেহ চিহ্নিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি, ১৪ জন নেপালি এক একজন চীনের নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশি মরদেহ মোট ২৬টি। বাকি আটজনকে এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তারা ধারণা করছেন, ডিএনএ টেস্ট ছাড়াই ওই আটজনের মধ্যে তিন থেকে চারজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। যাদের শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে তাদের ক্ষেত্রে সেটাই করা হবে। আমাদের দূতাবাসের পক্ষ থেকে নেপাল সরকারকে মরদেহ চিহ্নিত ও হস্তান্তর সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেয়া হয়েছে। ওই চিঠি অনুমোদনের পর তাদের ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করা হবে।
তিনি বলেন, যাদের ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সোমবারের (আজ) মধ্যে যাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে তাদের সোমবারই দেশে আনা হবে। ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের নিয়ে আসবে। বিমান বাহিনীর সি-১৩০ বিমানে লাশ আনা হবে।
নিহতদের স্বজনরা সোমবার ভোর ৬টায় এসে কাগজপত্রসহ মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বাসিতে (দূতাবাসে) যাবেন। সেখানে প্রথম জানাজা হবে। এরপর সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে মরদেহগুলো বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে। মরদেহের স্বজনদের নিয়ে একটি বিমান বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেবে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে। এর আধা ঘণ্টা পর মরদেহ নিয়ে রওনা হবে দুটি বিমান।
একটি ইউএস-বাংলার বিমান এবং আরেকটি এয়ারফোর্সের বিমান। এয়ারপোর্টে দু’জন করে স্বজন ভেতরে ঢোকার সুযোগ পাবেন। নেপাল থেকে যে স্বজনরা বাংলাদেশ ফিরবেন তারা ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করার পর অপেক্ষা করবেন। কে কোথায় মরদেহ নিতে চান ইউএস-বাংলাকে জানালে মরদেহ সেখানে পৌঁছে দেয়া হবে। মরদেহের হিসেবে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা বিমানবন্দরে করা থাকবে।
নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালে ১৮ বাংলাদেশির মরদেহ শনাক্তের কথা জানানো হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের পাঁচ দিন পর ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে এসব মরদেহ উপস্থিত নিকটাত্মীয়দের দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এই ১৮ জনের মধ্যে রয়েছেন- পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশীদ, কেবিন ক্রু খাজা হোসেন মো. শফি এবং যাত্রী ফয়সাল আহমেদ, বিলকিস আরা, মোসাম্মৎ আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, সানজিদা হক, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, শিশু তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এসএম মাহমুদুর রহমান, তাহিরা তানভীন শশী রেজা, শিশু অনিরুদ্ধ জামান, মো. নুরুজ্জামান ও মো. রফিকুজ জামান। এছাড়া রোববার বিকালে ওই বিমানের ক্রু শারমিন আক্তার নাবিলার লাশ শনাক্ত হয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















