আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
৩০/৪০ জন বাংলাদেশি সমর্থক মাঠে এসেছিলেন। তাদের বেশিরভাগেই বাংলাদেশ ইনিংসের পর গ্যালারি ছেড়েছেন হতাশায়। পরিষ্কার বুঝে নিয়েছেন, এ ম্যাচে কী ফল হতে পারে। বাংলাদেশে যারা টিভি সেটের সামনে বসে খেলা দেখছিলেন, ১৩৯ রানে ইনিংস থামার পর তাদেরও বোধ করি একই অবস্থা হয়েছে। তারাও হয়তো খেলা দেখা বাদ দিয়ে অন্য কাজে মন দিয়েছেন।
আমরা যারা খেলা কাভার করতে বাংলাদেশ থেকে এখানে এসেছি, তাদের জন্য সত্যিই বড্ড বিব্রতকর পরিস্থিতি। আশেপাশে ভারতীয়, শ্রীলঙ্কান সাংবাদিকরা বাংলাদেশের খেলা দেখে হাসি ঠাট্টা করেছেন। সেটা পাশে বসে গিলতে হয়েছে সমানে। একজন তো বলেই ফেললেন, বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলো কেন? টুর্নামেন্টটাই তো বিবর্ণ হয়ে গেল। তার প্রশ্ন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে। সত্যিই তো। তিনি অন্যায় কিছু বলেননি।
প্রেমাদাসার ব্যাটিং উইকেটে ১৪০ রান অতি সহজ টার্গেট। যতই দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে আসুক, ভারতের জন্য এটা কোনো ব্যাপারই ছিল না। হয়তো তিন চারটি উইকেট পড়বে- এই তো। হ্যাঁ, সেটাই হয়েছে। টার্গেটে পৌঁছাতে মাত্র ৪ উইকেট হারাতে হয়েছে, ৬ উইকেটে জয়। ভারত খেলা শেষ করে দিয়েছে ১৮.৪ ওভারে। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছিল তারা। তবে বাংলাদেশকে হারিয়ে স্বস্তি নিয়ে হোটেলে ফিরেছে ভারতীয় দল। ধাওয়ান করেছেন ৫৫ রান।
গত কয়েক মাস ধরে ব্যাটিং টানা ডোবাচ্ছে বাংলাদেশকে। এ ম্যাচেও বিরক্তিকর ব্যাটিং। ওভার প্রতি বাংলাদেশ তুলেছে মাত্র ৬.৯৫ করে। ২০ ওভারে ম্যাচে ৫৮টিই ডট বল। চার ১২টি, ছক্কা মাত্র ৩টি।
টি-টোয়েন্টি যে খেলতে পারেন না সেটা আবারও বুঝিয়ে দিলেন তারা। জড়তা দিয়ে শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার। উনাদকাটের প্রথম ওভারেই দুবার সুযোগ দিয়েছিলেন সৌম্য। দুবারই ভাগ্য ভালো ছিল তার। পরের ওভারের তৃতীয় বলেও আরেকবার পরাস্থ হন সৌম্য। তৃতীয় ওভারে গিয়ে বিদায় নেন তিনি। ১২ বলে করেন ১৪।
গত কয়েক ম্যাচ ধরে রান পাচ্ছেন না তামিম। আজও যে বেশি দূর যেতে পারবেন না, সেটা শুরু থেকেই বোঝা গিয়েছিল, লড়াইয়ের হাব ভাব দেখে। সেটাই হয়েছে। ১৬ বলে ১৫ করে বিদায় নেন তিনি। দুই ওপেনারের ব্যর্থতায় প্রথম পাওয়ার প্লেতে আসে মাত্র ৪৪ রান। এখানেই বাংলাদেশ ইনিংসের বারোটা বেজে গেছে। প্রথম ৬ ওভারে যেখানে ১০ করে ওঠার কথা সেখানে রান উঠেছে ৭ এর একটু উপরে।
রান রেট বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন মুশফিক। কিন্তু ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে কয়েকবার পরাস্থ হয়ে শেষমেশ ১৮ বলে ২২ রান করেন ফিরেন তিনি। সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং করেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৮ বলে মাত্র ১! টি টোয়েন্টিতে তো ৮ বলে ২০ করার কথা। ২০ ওভারের ম্যাচে টেস্ট মেজাজ! অধিনায়কের কাছ থেকে এমন দায়িত্বহীন ব্যাটিং হলে দলের অবস্থা বুঝুন।
লিটন কুমার দাস প্রায় ডজন খানেক বার পরাস্থ হয়ে শেষমেশ ৩০ বলে ৩৪ রান করে বিদায় নেন। মিরাজ করেছেন ৪ বলে ৩। টানা ব্যর্থ সাব্বিরের ছিল আজ অগ্নি পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় পাস করার জন্য লড়েছেন। কিন্তু এটা তো ওয়ানডে ব্যাটিং। ২০ ওভারের ম্যাচে ২৬ বলে ৩০ রান নিশ্চয়ই বাহবা পাবার দাবি রাখে না।
সেরা বোলারদের দেশে রেখে এসেছে ভারত। যারা খেলছেন তাদের বোশরভাগই যুব দলের বোলার। এদের সামলাতেই যবুথবু অবস্থা বাংলাদেশের। প্রথম সারির বোলারর এলে আরো না জানি কী হতো!
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ফল: ছয় উইকেটে জয়ী ভারত।
বাংলাদেশ ইনিংস: ১৩৯/৮ (২০ ওভার)
(তামিম ইকবাল ১৫, সৌম্য সরকার ১৪, লিটন দাস ৩৪, মুশফিকুর রহিম ১৮, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১, সাব্বির রহমান ৩০, মেহেদী হাসান মিরাজ ৩, তাসকিন আহমেদ ৮*, রুবেল হোসেন ০, মোস্তাফিজুর রহমান ১*; জয়দেব উনাদকাত ৩/৩৮, ওয়াশিংটন সুন্দর ০/২৩, শারদুল ঠাকুর ১/২৫, যুজবেন্দ্র চাহাল ১/১৯, বিজয় শঙ্কর ২/৩২)।
ভারত ইনিংস: ১৪০/৪ (১৮.৪ ওভার)
(রোহিত শর্মা ১৭, শিখর ধাওয়ান ৫৫, রিশাব পান্ত ৭, সুরেশ রায়না ২৮, মনিশ পান্ডে ২৭*, দিনেশ কার্তিক ২*; মোস্তাফিজুর রহমান ১/৩১, তাসকিন আহমেদ ১/২৮, রুবেল হোসেন ২/২৪, মেহেদী হাসান মিরাজ ০/২১, সৌম্য সরকার ০/৮, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/১১, নাজমুল ইসলাম অপু ০/১৫)।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























