ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

দেশে তো এখন আর ভোট হয় না: এরশাদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আমাদের সামনে সুদিন অপেক্ষা করছে। এ দেশের মানুষ দুই দলকে চায় না। সন্ত্রাস-দুর্নীতি চায় না।

তিনি আরও বলেন, ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন হতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো দেশে তো এখন আর ভোট হয় না। তবে এখন মানুষ অনেক সচেতন, এবার কিছুটা হলেও ভোট হতে পারে। তাই জনগণের কাছে যেতে হবে।

সোমবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপার লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসব কথা বলেন।

বই দুটির একটি ‘জাতীয় পার্টি কেন করবেন’ ও অন্যটি কবিতার বই ‘তোমার জন্য’।

দলের নেতাকর্মীদের বই দুটি পড়ার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, এখন মন্দির লুট হয়, জমি দখল হয়। জাতীয় পার্টির সময় এগুলো হয়নি। তাই মানুষ আমাদের চায়। মানুষ আজ অত্যাচারে অতিষ্ঠ। বর্তমানে মেধার চেয়ে দলের কদর বেশি। গতকালও (রোববার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ মারামারি করেছে।

তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে হিন্দুদের জন্য ৩০টি আসন সংরক্ষিত রাখব। কারণ তারা এত টাকা খরচ করে সংসদে আসতে পারে না।

সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু তিনি করেছেন উল্লেখ করে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৮৭ সালে আমিই আইন করেছিলাম সব অফিস আদালতে বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু আমরা সবকিছু ভুলে যাই, তেমনি এটাও ভুলে গেছি।

তিনি বলেন, ১৯৮৭ সালে প্রণীত এই আইনে বলা আছে সংবিধানের তিন নম্বর অনুচ্ছেদের বিধানকে পরিপূর্ণ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইনে বলা আছে- বাংলা ভাষা প্রচলন আইন-১৯৮৭ নামে অভিহিত হবে।

নেতাকর্মীদের জাতীয় পার্টির সময়ের উন্নয়নের কথা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, ঢাকার যানজটের কারণে চলা যায় না। এ নিয়ে কেউ কিছু ভাবছে না, ১০ বছর পর এই শহরের অবস্থা কী হবে- প্রশ্ন করেন এরশাদ।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির ৯ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। জাতীয় পার্টি কেন করবেন- তা এই বইটিতে বলা আছে। এই বইয়ের প্রতিটি তথ্য সত্য। এখানে বানোয়াট কোনো তথ্য নেই। সাধারণ মানুষকে এই বই পড়তে উৎসাহিত করতে হবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকায় এখন আড়াই কোটি মানুষ, কিছুদিন পর পাঁচ কোটি হবে। তখন কী অবস্থা হবে। তাই আমি বলেছি, ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করব। শুধু বিভাগ করলে হবে না। প্রদেশ করতে হবে। সেখানে আলাদা সরকার থাকবে, তাহলে মানুষ ঢাকায় আসবে না।

এরশাদ বলেন, এখন সব জায়গায় দুর্নীতি ও দলীয়করণ। কনস্টেবল নিয়োগে ১০ লাখ, শিক্ষক নিয়োগে লাগে ২০ লাখ। এটা এখন ঘৃণিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। এসব আমাদের সময় ছিল না।

আকাশ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী আলমগীর সিকদার লোটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সুনীল শুভরায়, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, রিন্টু আনোয়ার, দফতর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

দেশে তো এখন আর ভোট হয় না: এরশাদ

আপডেট সময় ০২:৪৬:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আমাদের সামনে সুদিন অপেক্ষা করছে। এ দেশের মানুষ দুই দলকে চায় না। সন্ত্রাস-দুর্নীতি চায় না।

তিনি আরও বলেন, ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন হতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো দেশে তো এখন আর ভোট হয় না। তবে এখন মানুষ অনেক সচেতন, এবার কিছুটা হলেও ভোট হতে পারে। তাই জনগণের কাছে যেতে হবে।

সোমবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপার লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসব কথা বলেন।

বই দুটির একটি ‘জাতীয় পার্টি কেন করবেন’ ও অন্যটি কবিতার বই ‘তোমার জন্য’।

দলের নেতাকর্মীদের বই দুটি পড়ার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, এখন মন্দির লুট হয়, জমি দখল হয়। জাতীয় পার্টির সময় এগুলো হয়নি। তাই মানুষ আমাদের চায়। মানুষ আজ অত্যাচারে অতিষ্ঠ। বর্তমানে মেধার চেয়ে দলের কদর বেশি। গতকালও (রোববার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ মারামারি করেছে।

তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে হিন্দুদের জন্য ৩০টি আসন সংরক্ষিত রাখব। কারণ তারা এত টাকা খরচ করে সংসদে আসতে পারে না।

সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু তিনি করেছেন উল্লেখ করে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৮৭ সালে আমিই আইন করেছিলাম সব অফিস আদালতে বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু আমরা সবকিছু ভুলে যাই, তেমনি এটাও ভুলে গেছি।

তিনি বলেন, ১৯৮৭ সালে প্রণীত এই আইনে বলা আছে সংবিধানের তিন নম্বর অনুচ্ছেদের বিধানকে পরিপূর্ণ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইনে বলা আছে- বাংলা ভাষা প্রচলন আইন-১৯৮৭ নামে অভিহিত হবে।

নেতাকর্মীদের জাতীয় পার্টির সময়ের উন্নয়নের কথা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, ঢাকার যানজটের কারণে চলা যায় না। এ নিয়ে কেউ কিছু ভাবছে না, ১০ বছর পর এই শহরের অবস্থা কী হবে- প্রশ্ন করেন এরশাদ।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির ৯ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। জাতীয় পার্টি কেন করবেন- তা এই বইটিতে বলা আছে। এই বইয়ের প্রতিটি তথ্য সত্য। এখানে বানোয়াট কোনো তথ্য নেই। সাধারণ মানুষকে এই বই পড়তে উৎসাহিত করতে হবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকায় এখন আড়াই কোটি মানুষ, কিছুদিন পর পাঁচ কোটি হবে। তখন কী অবস্থা হবে। তাই আমি বলেছি, ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করব। শুধু বিভাগ করলে হবে না। প্রদেশ করতে হবে। সেখানে আলাদা সরকার থাকবে, তাহলে মানুষ ঢাকায় আসবে না।

এরশাদ বলেন, এখন সব জায়গায় দুর্নীতি ও দলীয়করণ। কনস্টেবল নিয়োগে ১০ লাখ, শিক্ষক নিয়োগে লাগে ২০ লাখ। এটা এখন ঘৃণিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। এসব আমাদের সময় ছিল না।

আকাশ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী আলমগীর সিকদার লোটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সুনীল শুভরায়, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, রিন্টু আনোয়ার, দফতর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ।