অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আইনজীবীদের কথা না শুনতে পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, ‘আইনজীবীরা ওকালতি করে আপনাকে বাড়িছাড়া করেছেন। এরাই আপনাকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সংসদ থেকে বাইরে রেখেছে। এই আইনজীবীদের কথা শুনবেন না। তাদের কথা শুনলে আপনাকে অনেক বছর জেলে থাকতে হবে।’
সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় মোহাম্মদ নাসিম এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া আদালতের মাধ্যমে জেলে গেছেন মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কেউ চাই না তিনি জেলে থাকুন। তিনি আদালতের মাধ্যমে জেলে গেছেন। আদালতের মাধ্যমেই মুক্তি পাবেন।’
খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বক্তব্যের জবাবে নাসিম বলেন, ‘মওদুদ সাহেবরা বলছেন খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর প্রতিদিন তাদের ১০ লাখ ভোট বাড়ছে। যদি আপনাদের এত ভোট বাড়ে তাহলে আপনারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাচ্ছেন কেন? জামিন চাচ্ছেন কেন? জামিনের জন্য প্রতিদিন কেন কোর্টে যান। তিনি জেলে থাকলে তো আপনাদের ভোট বাড়বে। আপনাদের ভোট বেড়ে ৩০ কোটি হবে।’
বিএনপিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাসিম বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে মাঠে খেলতে চাই, একা খেলতে চাই না। সরকারের রেকর্ড অনেক ভালো। আমরা কেন অন্যকে ভয় পাব। আপনারা মাঠে আসেন। খেলে জিতেন। দয়া করে ফাউল করবেন না। মাঠেই ফাইনাল খেলা হবে।’
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, ‘সামনে নির্বাচন আসছে। এই নির্বাচনে আমরা এককভাবে লড়াই করতে চাই না। কারও ইচ্ছামতো নির্বাচন হবে না। দেশের সংবিধান রয়েছে। সেই সংবিধান অনুসারে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে সবাইকে আসতে হবে। সংবিধানের বাইরে গেলে আবারও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে। রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে।’ দেশে রাজনৈতিক সরকার যাতে না থাকে তার জন্য চক্রান্ত চলছে বলেও তিনি এ সময় দাবি করেন।
এর আগে বাঙালির উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনাকে আরও সময় দেওয়া বাঞ্ছনীয় মন্তব্য করে জাসদের মইন উদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘দেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আরও নম্রভাবে বিনয়ী হয়ে জনগণের কাছে যেতে পারলে তারা আবারও আমাদের সময় দেবে।
তিনি বলেন, নেহেরু বাদে ভারতে সংসদীয় পদ্ধতিতে ১৫ বছর রাজস্বের সুযোগ কেউ পাননি। আমরা সেই সুযোগ পেতে যাচ্ছি।’ মিয়ানমারের বিষয়ে সতর্ক হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাজারো চেষ্টা করলেও মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা ভবিষ্যৎ কঠিন হবে। মিয়ানমারের বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। তাদের সম্পর্কে আরও গভীরে যেতে হবে, স্ট্যাডি করতে হবে। তারা সকালে যেটা বলে বিকালে তার উল্টোটা বলে।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে পীর ফজলুর রহমান শিক্ষামন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি ঘুষ খান। শিক্ষামন্ত্রী সহনীয় পর্যায়ে ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ঘুষ খাওয়াকে বৈধতা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। শিক্ষামন্ত্রী নির্বিকার। তার টনক নড়েনা। ফেইসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর মধ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে পীর ফজলুর রহমান বলেন, ব্যাংক লুট হয়ে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণে বিপর্যস্ত ব্যাংক। অথচ অর্থমন্ত্রী নির্বিকার।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















