অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর বিদেশে থাকা তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা দলটির দীনতার প্রমাণ বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানও দুই মামলায় দণ্ডিত। তিনি পলাতক। বিএনপিতে সক্রিয় এবং কর্মঠ লোকজন আছে। তাদেরকে খালেদা জিয়া কেন বিশ্বাস করতে পারলেন না।
সোমবার গণভবনে ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটি সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে তার গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নিজের আত্মীয় স্বজনকে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি না করে জিল্লুর রহমানকে করেছিলেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার দিনেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেদিনই লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে বিএনপি।
যে মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে, সেই মামলায় তারেক রহমানের দণ্ড হয়েছে ১০ বছরের। অর্থপাচারের মামলায় এর আগেও তার সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রায় হওয়ার পর, এক নাম্বার ভাইস প্রেসিডেন্ট হবে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বা চেয়ারপারসন। কিন্তু এখন যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপাসন করা হলো সেও হলো ফেরারী আসামি, দেশেও নাই।’
‘এখানে আমার একটা প্রশ্ন, জানি না জবাব দিতে পারবেন কিনা? বিএনপিতে কি একটা নেতাও নাই যিনি দেশে বর্তমানে অবস্থান করছেন… এ রকম কি কোন নেতাই নাই যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করা যেত?’
‘বিএনপির নেতৃত্বে কি এতই দৈন্যদশা? আমি জানি না, দলের চেয়ারপারসনের কারো উপর এতটুকু ভরসা ছিল না যে বাংলাদেশে বসবাস করা কাউকে তো দায়িত্ব দেয়া যায়?’।
‘তাদের নেতাদের কাছেই জানতে চান এখন তারা আন্দোলন, টান্দোলন করছেন, তারাই বলুক, আপনাদের কারো কি এতটুকু যোগ্যতা ছিল না, যে দলের ভারপাপ্ত চেয়ারপারসন হিসাবে কাজ করতে পারবেন?’।
‘আর কিছু বলতে চাই না, আমরা কিছু কথা বলতে গেলেই তো দোষী।’
তারেক রহমানও প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে আর রাজনীতি করবেন না মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়ে চলে গেল। এরপর মামলায় শাস্তি হলো। এই মামলার একটাও কিন্তু আমাদের দেয়া না। এ মামলা কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেয়া।’
‘আমেরিকার এফবিআই তদন্ত করল সেখানে ধরা পড়ল তার দুর্নীতি। এফবিআই এখানে এসে সাক্ষী দিয়ে গেছে। তারপর সে সাজাপ্রাপ্ত। সাত বছরের সাজা এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা। তাকেই করতে হলো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। অর্থ্যাৎ বিএনপিতে এখন যে নেতারা আছে, এখন আমি দেখি তাঁরা খুবই কাজ করছে, খুবই কর্মঠ। সেখান থেকে কি একটা লোক খুঁজে পাওয়া গেল না, যাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া যায়?’।
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হওয়ার পরের কাহিনি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৭ সালের জুলাই আমাকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়। তখন কোর্টে যখন বলল আমাকে আমাকে জেলে পাঠাবেই। সেখানে যারা ছিল তাদেরকে জানিয়ে দিলাম জিল্লুর রহমান সাহেব ভারপ্রাপ্ত ভারাপ্রাপ্ত সভাপতি হবেন। এবং জিল্লুর রহমান সাহেব ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেন।’
‘আমি কিন্তু আর কাউকে করতে চাইনি। আমি কিন্তু আমার বোন কেও করিনি, ছেলেকেও করিনি, কাউকে করিনি, প্রবাসী কাউকে করিনি। আমি দেশের ভেতর থেকে একজনকে সভাপতি করে দিয়েছি।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















