ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হওয়া উচিত : জিনপিং দীপু মনি-মোজাম্মেল বাবু-ফারজানা রুপাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করল বিজেপি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের সোনারগাঁয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় স্বামী নিহত, স্ত্রী আহত লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত ওমানে একসঙ্গে বাংলাদেশি ৪ ভাইয়ের লাশ উদ্ধার এসএসসি জানুয়ারিতে এইচএসসি এপ্রিলে করার পক্ষে মত গুলি করে ১৯ লাখ টাকা ছিনতাই: ‎জামায়াত এমপির ভাগ্নে কারাগারে এক মাস বয়সি শিশুকে টিকার পরিবর্তে দেওয়া হলো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন

যুক্তরাষ্ট্রে জুম পেপ্যালের প্রচারণায় সোনালী এক্সচেঞ্জ বন্ধের উপক্রম

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইদানিং ফেসবুক খুললেই একটি কমার্শিয়াল ভেসে আসছে। জুম পেপ্যালব্যবহার করে স্বদেশে টাকা পাঠান। আর সে কমার্শিয়ালটির মডেল সোনালী ব্যাংকের সিইও এন্ড এমডি ওবায়েদুল আল মাসু স্বয়ং। এই অ্যাড বা কমার্শিয়াল দেখে যুক্তরাষ্ট্রের সোনালী এক্সচেঞ্জ গ্রাহকরা বিব্রত। সকলের কাছে একই প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী একচেঞ্জ কি বন্ধ হতে যাচ্ছে?

সোনালী এক্সচেঞ্জ সোনালী ব্যাংকের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। প্রবাসে সোনালী এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে দ্রুত এবং বৈধভাবে দেশে অর্থ পাঠানো হয়। প্রবাসীদের অর্থ নিরাপদে বৈধ পথে দেশে পাঠানোর সুবিধা দিতে ১৯৯৪ সালের ১২ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্কে যাত্রা শুরু করে সোনালী ব্যাংকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সোনালী এক্সচেঞ্জ। হেড অফিস নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটন। আটলান্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এর ১০টি শাখা রয়েছে।

কমার্শিয়াল সম্পর্কে জানতে নিউ ইয়র্কে সোনালী এক্সচেঞ্জের জেনারেল ম্যনেজার জহুরুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমিও কমার্শিয়ালটি দেখেছি তবে কেন এই কমার্শিয়াল তার কিছুই জানা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী এক্সচেঞ্জ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন সম্ভাবনাকেও তিনি উড়িয়ে দেন।

এ প্রতিনিধিকে তিনি আরও জানান আমাদের এক্সচেঞ্জ সেন্টারের কাছাকাছি যারা না থাকেন বা অফিসে আসতে সময় করতে পারেন না, তারা ডাকযোগে মানি অর্ডার বা চেকের মাধ্যমেও দেশে রেমিটেন্স পাঠিয়ে থাকেন। তাছাড়া সোনালী এক্সচেঞ্জের অনলাইন সার্ভিসও রয়েছে। যা ঘরে বসে যে কোন সময়ে দেশে টাকা পাঠানো যায়। রয়েছে ক্যাশ পিকআপ সার্ভিস। প্রবাসীরা প্রিয়জনদের কাছে টাকা পাঠালে তা সঙ্গে সঙ্গে তুলতে পারছেন।

সোনালী এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠানোর পর কোন সমস্যা হলে সাথে সাথে শাখায় গিয়ে সে সমস্যার সমাধান করতে পারছে। কিন্তু জুমে সমস্যা হলে কোথায় যাবে? তাদের কাস্টমার সার্ভিসে কল করতে হবে। হয়তো দেখা যাবে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোন ধরে বসে থাকতে হবে।

কথার ফাঁকে জানতে চাওয়া হয় ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া সোনালী এক্সচেঞ্জের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে। তিনি বলেন, সেখানে নতুন করে খোলার চিন্তা-ভাবনা আমাদের মাথায় আছে। নিউ ইয়র্কের পর পরই ক্যালফোর্নিয়া হচ্ছে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ঘনবসতি প্রদেশ।

যেখানে সোনালী এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সর্বনিন্ম ১শ’ ডলার পাঠাতে কমিশন বা ফিস ২ ডলার। আর জুম পেপ্যালে ৪.৯৯ অর্থাৎ ৫ ডালার। জুম পেপ্যালে অতিরিক্ত খরচ ৩ ডলার। জুম পেপ্যালের মাধ্যমে টাকা পাঠালে ফিস বেশি। গ্রাহক টাকাও পাচ্ছে ১ টাকা কম প্রতি ডলারে।

এ রিপোর্ট লেখার সময় ডলার কনভার্শন রেট সোনালী এক্সচেঞ্জ প্রতি ১শ’ ডলারে ৮৩ টাকা। আর জুমে ৮২। জুম পেপ্যাল প্রসঙ্গে সোনালী এক্সচেঞ্জের একজন গ্রাহক এবং স্থানীয় সাংবাদিক বশীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ যে শুভঙ্করের ফাঁকি’।

স্থানীয় প্রবাসীরা বলছেন, সোনালী ব্যাংকের সিইও এবং এমডি ওবায়েদুল আল মাসুদ প্রবাসীদের সঙ্গে কেন এ ধরনের প্রতারণা করছেন তা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের কারও বোধগম্য নয়। এমন প্রতারণা করলে প্রবাসীরা বৈধভাবে অর্থ না পাঠিয়ে অবৈধ পথে পাঠাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হওয়া উচিত : জিনপিং

যুক্তরাষ্ট্রে জুম পেপ্যালের প্রচারণায় সোনালী এক্সচেঞ্জ বন্ধের উপক্রম

আপডেট সময় ০২:২০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইদানিং ফেসবুক খুললেই একটি কমার্শিয়াল ভেসে আসছে। জুম পেপ্যালব্যবহার করে স্বদেশে টাকা পাঠান। আর সে কমার্শিয়ালটির মডেল সোনালী ব্যাংকের সিইও এন্ড এমডি ওবায়েদুল আল মাসু স্বয়ং। এই অ্যাড বা কমার্শিয়াল দেখে যুক্তরাষ্ট্রের সোনালী এক্সচেঞ্জ গ্রাহকরা বিব্রত। সকলের কাছে একই প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী একচেঞ্জ কি বন্ধ হতে যাচ্ছে?

সোনালী এক্সচেঞ্জ সোনালী ব্যাংকের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। প্রবাসে সোনালী এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে দ্রুত এবং বৈধভাবে দেশে অর্থ পাঠানো হয়। প্রবাসীদের অর্থ নিরাপদে বৈধ পথে দেশে পাঠানোর সুবিধা দিতে ১৯৯৪ সালের ১২ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্কে যাত্রা শুরু করে সোনালী ব্যাংকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সোনালী এক্সচেঞ্জ। হেড অফিস নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটন। আটলান্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এর ১০টি শাখা রয়েছে।

কমার্শিয়াল সম্পর্কে জানতে নিউ ইয়র্কে সোনালী এক্সচেঞ্জের জেনারেল ম্যনেজার জহুরুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমিও কমার্শিয়ালটি দেখেছি তবে কেন এই কমার্শিয়াল তার কিছুই জানা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী এক্সচেঞ্জ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন সম্ভাবনাকেও তিনি উড়িয়ে দেন।

এ প্রতিনিধিকে তিনি আরও জানান আমাদের এক্সচেঞ্জ সেন্টারের কাছাকাছি যারা না থাকেন বা অফিসে আসতে সময় করতে পারেন না, তারা ডাকযোগে মানি অর্ডার বা চেকের মাধ্যমেও দেশে রেমিটেন্স পাঠিয়ে থাকেন। তাছাড়া সোনালী এক্সচেঞ্জের অনলাইন সার্ভিসও রয়েছে। যা ঘরে বসে যে কোন সময়ে দেশে টাকা পাঠানো যায়। রয়েছে ক্যাশ পিকআপ সার্ভিস। প্রবাসীরা প্রিয়জনদের কাছে টাকা পাঠালে তা সঙ্গে সঙ্গে তুলতে পারছেন।

সোনালী এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠানোর পর কোন সমস্যা হলে সাথে সাথে শাখায় গিয়ে সে সমস্যার সমাধান করতে পারছে। কিন্তু জুমে সমস্যা হলে কোথায় যাবে? তাদের কাস্টমার সার্ভিসে কল করতে হবে। হয়তো দেখা যাবে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোন ধরে বসে থাকতে হবে।

কথার ফাঁকে জানতে চাওয়া হয় ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া সোনালী এক্সচেঞ্জের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে। তিনি বলেন, সেখানে নতুন করে খোলার চিন্তা-ভাবনা আমাদের মাথায় আছে। নিউ ইয়র্কের পর পরই ক্যালফোর্নিয়া হচ্ছে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ঘনবসতি প্রদেশ।

যেখানে সোনালী এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সর্বনিন্ম ১শ’ ডলার পাঠাতে কমিশন বা ফিস ২ ডলার। আর জুম পেপ্যালে ৪.৯৯ অর্থাৎ ৫ ডালার। জুম পেপ্যালে অতিরিক্ত খরচ ৩ ডলার। জুম পেপ্যালের মাধ্যমে টাকা পাঠালে ফিস বেশি। গ্রাহক টাকাও পাচ্ছে ১ টাকা কম প্রতি ডলারে।

এ রিপোর্ট লেখার সময় ডলার কনভার্শন রেট সোনালী এক্সচেঞ্জ প্রতি ১শ’ ডলারে ৮৩ টাকা। আর জুমে ৮২। জুম পেপ্যাল প্রসঙ্গে সোনালী এক্সচেঞ্জের একজন গ্রাহক এবং স্থানীয় সাংবাদিক বশীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ যে শুভঙ্করের ফাঁকি’।

স্থানীয় প্রবাসীরা বলছেন, সোনালী ব্যাংকের সিইও এবং এমডি ওবায়েদুল আল মাসুদ প্রবাসীদের সঙ্গে কেন এ ধরনের প্রতারণা করছেন তা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের কারও বোধগম্য নয়। এমন প্রতারণা করলে প্রবাসীরা বৈধভাবে অর্থ না পাঠিয়ে অবৈধ পথে পাঠাবে।