ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

বউ সাজার স্বপ্ন পূরণে হাসপাতালে বিয়ের আয়োজন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর অপেক্ষায় ২১ বছরের এক তরুণী। ক্যান্সার ধরা পড়েছে কিছুদিন আগে, চলছে কেমোথেরাপি। হয়তো আর বেশিদিন বাঁচবেন না। তার জীবন একটা স্বপ্ন ছিল বিয়ের পোশাকে কনে সাজবেন।

বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজন সবাই এসে শুভেচ্ছা জানাবে। কিন্তু মৃত্যুপথযাত্রী মেয়েটির সে স্বপ্ন এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে। এক বুক কষ্ট চেপে রেখে বউ সাজার দৃশ্য কল্পনা করেন হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে শুয়েই। আর পূরণ হলো না স্বপ্নটি!

তবে তরুণী ভাগ্য প্রসন্ন হলো। ঘনিষ্ট স্বজনরা তার স্বপ্নের কথা জানতো। সেই সূত্র ধরে তা স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসে তার ভাই। সহযোগিতা করে একটি চ্যারিটি সংগঠন।

হাসাপাতালেই আয়োজন করা হয় জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠান। যদিও বর নেই, তবু গোলাপী গালিচায় হেঁটে আসেন সাদা পোশাকে ও হাতে সাদা গোলাপের তোড়া নিয়ে ‘নববধু’। হাসপাতালের কর্মকর্তা, কর্মচারী, নার্স, চ্যারিটি সংগঠনের সদস্যসহ শুভাকাঙ্খীরা তুমুল হাততালি দিয়ে বরণ করে কনেকে। কাটা হয় বিয়ের কেকও। এভাবেই ইয়ং চোয়াং নামের তরুণীর বউ সাজার আকঙ্খা পুরণ হয়।

অনেকটা রূপকথার মতো মনে হলেও বাস্তবে এই বিয়ের ঘটনাটি ঘটে গত ২০ জানুয়ারি দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিং এর একটি হাসপাতালে।

ডেইলি মেইল জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষেও ইয়ংয়ের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে ডাক্তাররা জানতে পারেন তার ক্যান্সার হয়েছে। এ খবরে নতুন স্বামী ছেড়ে চলে যায় ইয়ংকে।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় ভাল কোনো হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি ইয়ং। স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালেই এখন মৃত্যুর অপেক্ষায় তিনি। ফলে অধরাই থেকে যাচ্ছিল আজীব লালিত স্বপ্নটি।

চ্যারিটি সংগঠনের অনুদানে জমকালো বিয়ের আয়োজন শেষে ইয়ং চোয়াং বলেন, আমি খুবই খুশি, আমার চিকিৎসা সফল হোক বা না হোক আমার মনে এখন আর কোনো ভয় নেই।

এদিকে এই তরুণী তার দেহের সব অঙ্গ দান করে দিয়েছেন। বিয়ের অনুষ্ঠানেই এই দানপত্রে স্বাক্ষর করেন। এসময় ইয়ং চোয়াং জানান, এই সনদই আমার বিয়ের সবচেয়ে সেরা উপহার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

বউ সাজার স্বপ্ন পূরণে হাসপাতালে বিয়ের আয়োজন

আপডেট সময় ১১:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর অপেক্ষায় ২১ বছরের এক তরুণী। ক্যান্সার ধরা পড়েছে কিছুদিন আগে, চলছে কেমোথেরাপি। হয়তো আর বেশিদিন বাঁচবেন না। তার জীবন একটা স্বপ্ন ছিল বিয়ের পোশাকে কনে সাজবেন।

বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজন সবাই এসে শুভেচ্ছা জানাবে। কিন্তু মৃত্যুপথযাত্রী মেয়েটির সে স্বপ্ন এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে। এক বুক কষ্ট চেপে রেখে বউ সাজার দৃশ্য কল্পনা করেন হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে শুয়েই। আর পূরণ হলো না স্বপ্নটি!

তবে তরুণী ভাগ্য প্রসন্ন হলো। ঘনিষ্ট স্বজনরা তার স্বপ্নের কথা জানতো। সেই সূত্র ধরে তা স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসে তার ভাই। সহযোগিতা করে একটি চ্যারিটি সংগঠন।

হাসাপাতালেই আয়োজন করা হয় জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠান। যদিও বর নেই, তবু গোলাপী গালিচায় হেঁটে আসেন সাদা পোশাকে ও হাতে সাদা গোলাপের তোড়া নিয়ে ‘নববধু’। হাসপাতালের কর্মকর্তা, কর্মচারী, নার্স, চ্যারিটি সংগঠনের সদস্যসহ শুভাকাঙ্খীরা তুমুল হাততালি দিয়ে বরণ করে কনেকে। কাটা হয় বিয়ের কেকও। এভাবেই ইয়ং চোয়াং নামের তরুণীর বউ সাজার আকঙ্খা পুরণ হয়।

অনেকটা রূপকথার মতো মনে হলেও বাস্তবে এই বিয়ের ঘটনাটি ঘটে গত ২০ জানুয়ারি দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিং এর একটি হাসপাতালে।

ডেইলি মেইল জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষেও ইয়ংয়ের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে ডাক্তাররা জানতে পারেন তার ক্যান্সার হয়েছে। এ খবরে নতুন স্বামী ছেড়ে চলে যায় ইয়ংকে।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় ভাল কোনো হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি ইয়ং। স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালেই এখন মৃত্যুর অপেক্ষায় তিনি। ফলে অধরাই থেকে যাচ্ছিল আজীব লালিত স্বপ্নটি।

চ্যারিটি সংগঠনের অনুদানে জমকালো বিয়ের আয়োজন শেষে ইয়ং চোয়াং বলেন, আমি খুবই খুশি, আমার চিকিৎসা সফল হোক বা না হোক আমার মনে এখন আর কোনো ভয় নেই।

এদিকে এই তরুণী তার দেহের সব অঙ্গ দান করে দিয়েছেন। বিয়ের অনুষ্ঠানেই এই দানপত্রে স্বাক্ষর করেন। এসময় ইয়ং চোয়াং জানান, এই সনদই আমার বিয়ের সবচেয়ে সেরা উপহার।