ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বউ সাজার স্বপ্ন পূরণে হাসপাতালে বিয়ের আয়োজন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর অপেক্ষায় ২১ বছরের এক তরুণী। ক্যান্সার ধরা পড়েছে কিছুদিন আগে, চলছে কেমোথেরাপি। হয়তো আর বেশিদিন বাঁচবেন না। তার জীবন একটা স্বপ্ন ছিল বিয়ের পোশাকে কনে সাজবেন।

বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজন সবাই এসে শুভেচ্ছা জানাবে। কিন্তু মৃত্যুপথযাত্রী মেয়েটির সে স্বপ্ন এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে। এক বুক কষ্ট চেপে রেখে বউ সাজার দৃশ্য কল্পনা করেন হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে শুয়েই। আর পূরণ হলো না স্বপ্নটি!

তবে তরুণী ভাগ্য প্রসন্ন হলো। ঘনিষ্ট স্বজনরা তার স্বপ্নের কথা জানতো। সেই সূত্র ধরে তা স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসে তার ভাই। সহযোগিতা করে একটি চ্যারিটি সংগঠন।

হাসাপাতালেই আয়োজন করা হয় জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠান। যদিও বর নেই, তবু গোলাপী গালিচায় হেঁটে আসেন সাদা পোশাকে ও হাতে সাদা গোলাপের তোড়া নিয়ে ‘নববধু’। হাসপাতালের কর্মকর্তা, কর্মচারী, নার্স, চ্যারিটি সংগঠনের সদস্যসহ শুভাকাঙ্খীরা তুমুল হাততালি দিয়ে বরণ করে কনেকে। কাটা হয় বিয়ের কেকও। এভাবেই ইয়ং চোয়াং নামের তরুণীর বউ সাজার আকঙ্খা পুরণ হয়।

অনেকটা রূপকথার মতো মনে হলেও বাস্তবে এই বিয়ের ঘটনাটি ঘটে গত ২০ জানুয়ারি দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিং এর একটি হাসপাতালে।

ডেইলি মেইল জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষেও ইয়ংয়ের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে ডাক্তাররা জানতে পারেন তার ক্যান্সার হয়েছে। এ খবরে নতুন স্বামী ছেড়ে চলে যায় ইয়ংকে।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় ভাল কোনো হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি ইয়ং। স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালেই এখন মৃত্যুর অপেক্ষায় তিনি। ফলে অধরাই থেকে যাচ্ছিল আজীব লালিত স্বপ্নটি।

চ্যারিটি সংগঠনের অনুদানে জমকালো বিয়ের আয়োজন শেষে ইয়ং চোয়াং বলেন, আমি খুবই খুশি, আমার চিকিৎসা সফল হোক বা না হোক আমার মনে এখন আর কোনো ভয় নেই।

এদিকে এই তরুণী তার দেহের সব অঙ্গ দান করে দিয়েছেন। বিয়ের অনুষ্ঠানেই এই দানপত্রে স্বাক্ষর করেন। এসময় ইয়ং চোয়াং জানান, এই সনদই আমার বিয়ের সবচেয়ে সেরা উপহার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বউ সাজার স্বপ্ন পূরণে হাসপাতালে বিয়ের আয়োজন

আপডেট সময় ১১:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর অপেক্ষায় ২১ বছরের এক তরুণী। ক্যান্সার ধরা পড়েছে কিছুদিন আগে, চলছে কেমোথেরাপি। হয়তো আর বেশিদিন বাঁচবেন না। তার জীবন একটা স্বপ্ন ছিল বিয়ের পোশাকে কনে সাজবেন।

বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজন সবাই এসে শুভেচ্ছা জানাবে। কিন্তু মৃত্যুপথযাত্রী মেয়েটির সে স্বপ্ন এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে। এক বুক কষ্ট চেপে রেখে বউ সাজার দৃশ্য কল্পনা করেন হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে শুয়েই। আর পূরণ হলো না স্বপ্নটি!

তবে তরুণী ভাগ্য প্রসন্ন হলো। ঘনিষ্ট স্বজনরা তার স্বপ্নের কথা জানতো। সেই সূত্র ধরে তা স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসে তার ভাই। সহযোগিতা করে একটি চ্যারিটি সংগঠন।

হাসাপাতালেই আয়োজন করা হয় জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠান। যদিও বর নেই, তবু গোলাপী গালিচায় হেঁটে আসেন সাদা পোশাকে ও হাতে সাদা গোলাপের তোড়া নিয়ে ‘নববধু’। হাসপাতালের কর্মকর্তা, কর্মচারী, নার্স, চ্যারিটি সংগঠনের সদস্যসহ শুভাকাঙ্খীরা তুমুল হাততালি দিয়ে বরণ করে কনেকে। কাটা হয় বিয়ের কেকও। এভাবেই ইয়ং চোয়াং নামের তরুণীর বউ সাজার আকঙ্খা পুরণ হয়।

অনেকটা রূপকথার মতো মনে হলেও বাস্তবে এই বিয়ের ঘটনাটি ঘটে গত ২০ জানুয়ারি দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিং এর একটি হাসপাতালে।

ডেইলি মেইল জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষেও ইয়ংয়ের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে ডাক্তাররা জানতে পারেন তার ক্যান্সার হয়েছে। এ খবরে নতুন স্বামী ছেড়ে চলে যায় ইয়ংকে।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় ভাল কোনো হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি ইয়ং। স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালেই এখন মৃত্যুর অপেক্ষায় তিনি। ফলে অধরাই থেকে যাচ্ছিল আজীব লালিত স্বপ্নটি।

চ্যারিটি সংগঠনের অনুদানে জমকালো বিয়ের আয়োজন শেষে ইয়ং চোয়াং বলেন, আমি খুবই খুশি, আমার চিকিৎসা সফল হোক বা না হোক আমার মনে এখন আর কোনো ভয় নেই।

এদিকে এই তরুণী তার দেহের সব অঙ্গ দান করে দিয়েছেন। বিয়ের অনুষ্ঠানেই এই দানপত্রে স্বাক্ষর করেন। এসময় ইয়ং চোয়াং জানান, এই সনদই আমার বিয়ের সবচেয়ে সেরা উপহার।