ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার। বর্তমান সরকার দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে বহুমাত্রিক এবং নিবিড় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য বজলুল হক হারুনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই আইন দুটির বিধিমালা-২০১৫ ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিবন্ধিতাবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিবন্ধিতাবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতায় পরিচালিত ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে একটি করে অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। ২০১০ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এ যাবৎ ১২ হাজার ১০৯ জন অটিজমের শিকার শিশু ও ব্যক্তিকে বিনামূল্যে ম্যানুয়াল ও ইনস্ট্রুমেন্টাল থেরাপি সার্ভিস প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৩২টি ভ্রাম্যমাণ থেরাপি ভ্যানের মাধ্যমে গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনামূল্যে নিবন্ধিত থেরাপিউটিক সেবাগ্রহীতার সংখ্যা দুই লাখ ৪৯ হাজার ৩৫ জন এবং প্রদত্ত সেবা সংখ্যা পাঁচ লাখ ২০ হাজার ১৮৩টি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ক্যাম্পাসে ২০১১ সালে একটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অটিজম চালু করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকায় চারটি, ছয়টি বিভাগীয় শহরে ছয়টি ও গাইবান্ধা জেলায় একটিসহ মোট ১১টি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৬২টি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুল চালু করা হয়েছে। ওই স্কুলে বিএসএড ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেয়ার-গিভারের সমন্বয়ে স্কুলগুলো পরিচালিত হচ্ছে। ওই স্কুলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৮৫৩ জন।

তিনি বলেন, এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাধ্যমেও গত ৮ বছরে দেশের অটিস্টিক প্রতিবন্ধী শিশুদের সার্বিকতায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইনস্টিটিউট ফর পেডিয়াট্রিক নিউরো-ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম- ইপনা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অটিজম ও স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক জাতীয় পর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি ও জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ফাস্ট ট্রাক সার্ভিস ও মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রমে অটিজম বিষয়টি অন্তর্ভুক্তকরণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ‘অটিজম ও স্নায়ু-বিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক সেল গঠন জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০১১ সালে ঢাকায় অটিজম ও এনডিডিবিষয়ক প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং গত বছর এপ্রিলে ভুটানের থিম্পুতে দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উভয় সম্মেলনের মূল উদ্যোক্তা ছিল বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের এনজিও ঋণ শোধের দায়িত্ব নেবে সরকার: মির্জা ফখরুল

প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:১৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার। বর্তমান সরকার দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে বহুমাত্রিক এবং নিবিড় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য বজলুল হক হারুনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই আইন দুটির বিধিমালা-২০১৫ ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিবন্ধিতাবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিবন্ধিতাবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতায় পরিচালিত ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে একটি করে অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। ২০১০ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এ যাবৎ ১২ হাজার ১০৯ জন অটিজমের শিকার শিশু ও ব্যক্তিকে বিনামূল্যে ম্যানুয়াল ও ইনস্ট্রুমেন্টাল থেরাপি সার্ভিস প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৩২টি ভ্রাম্যমাণ থেরাপি ভ্যানের মাধ্যমে গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনামূল্যে নিবন্ধিত থেরাপিউটিক সেবাগ্রহীতার সংখ্যা দুই লাখ ৪৯ হাজার ৩৫ জন এবং প্রদত্ত সেবা সংখ্যা পাঁচ লাখ ২০ হাজার ১৮৩টি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ক্যাম্পাসে ২০১১ সালে একটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অটিজম চালু করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকায় চারটি, ছয়টি বিভাগীয় শহরে ছয়টি ও গাইবান্ধা জেলায় একটিসহ মোট ১১টি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৬২টি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুল চালু করা হয়েছে। ওই স্কুলে বিএসএড ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেয়ার-গিভারের সমন্বয়ে স্কুলগুলো পরিচালিত হচ্ছে। ওই স্কুলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৮৫৩ জন।

তিনি বলেন, এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাধ্যমেও গত ৮ বছরে দেশের অটিস্টিক প্রতিবন্ধী শিশুদের সার্বিকতায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইনস্টিটিউট ফর পেডিয়াট্রিক নিউরো-ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম- ইপনা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অটিজম ও স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক জাতীয় পর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি ও জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ফাস্ট ট্রাক সার্ভিস ও মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রমে অটিজম বিষয়টি অন্তর্ভুক্তকরণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ‘অটিজম ও স্নায়ু-বিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক সেল গঠন জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০১১ সালে ঢাকায় অটিজম ও এনডিডিবিষয়ক প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং গত বছর এপ্রিলে ভুটানের থিম্পুতে দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উভয় সম্মেলনের মূল উদ্যোক্তা ছিল বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।