ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে চুক্তি হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে এক সংবাদ ‌সম্মেলনে গুতেরেস বলেন, ‌‌‌‘সবচেয়ে খারাপ বিষয় হবে এই মানুষগুলোকে বাংলাদেশের ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারের ক্যাম্পে সরিয়ে নেয়া’।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে রোহিঙ্গারা তাদের গ্রামে ফিরতে পারবে নাকি তাদের ক্যাম্পে থাকতে হবে সে বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার বলে মনে করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোও এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত সাড়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ঘরে ফেরার পথ করে দিতে মঙ্গলবার মিয়ানমারের সঙ্গে ওই চুক্তি করে বাংলাদেশ।

‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ চুক্তিতে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরতের কথা বলা হয়েছে। এই চুক্তি হওয়ার দিনই তার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয় মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শরণার্থীরা ঘরে ফেরার জন্য কাতর হয়ে আছে।

এতে বলা হয়, মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এখনও সৃষ্টি না হওয়ায় তারা যেতে চান না। আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী সারা বিশ্বের রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ছয় লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমার সরকার এবং দেশটির সেনাবাহিনীর আচরণে এখনও কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলো হল- আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এআরএনও), বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে (বিআরওইউকে), ব্রিটিশ রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন ইউকে, বার্মিজ রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন ডেনমার্ক, বার্মিজ রোহিঙ্গা অ্যাসোসিয়েশন জাপান (বিআরএজে), রোহিঙ্গা অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক ইন জাপান, বার্মিজ রোহিঙ্গা কমিউনিটি অস্ট্রেলিয়া (বিআরসিএ), বার্মিজ রোহিঙ্গা অ্যাসোসিয়েশন ইন কুইন্সল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া (বিআরএকিউএ), কানাডিয়ান বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন, ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিল (ইআরসি), মিয়ানমার এথনিক রোহিঙ্গা হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইন মালয়েশিয়া (এমইআরএইচআরওএম), রোহিঙ্গা আমেরিকান সোসাইটি, রোহিঙ্গা আরাকানিজ রিফুজি কমিটি, রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন জার্মানি, রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন সুইজারল্যান্ড, রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন ফিনল্যান্ড, রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন ইতালি, রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন সুইডেন, রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন নরওয়ে, রোহিঙ্গা সোসাইটি মালয়েশিয়া (আরএসএম) এবং রোহিঙ্গা সোসাইটি নেদারল্যান্ডস।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডি-৮ জোটে বাণিজ্যিক চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ বাংলাদেশের

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে চুক্তি হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ

আপডেট সময় ১১:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে এক সংবাদ ‌সম্মেলনে গুতেরেস বলেন, ‌‌‌‘সবচেয়ে খারাপ বিষয় হবে এই মানুষগুলোকে বাংলাদেশের ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারের ক্যাম্পে সরিয়ে নেয়া’।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে রোহিঙ্গারা তাদের গ্রামে ফিরতে পারবে নাকি তাদের ক্যাম্পে থাকতে হবে সে বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার বলে মনে করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোও এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত সাড়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ঘরে ফেরার পথ করে দিতে মঙ্গলবার মিয়ানমারের সঙ্গে ওই চুক্তি করে বাংলাদেশ।

‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ চুক্তিতে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরতের কথা বলা হয়েছে। এই চুক্তি হওয়ার দিনই তার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয় মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শরণার্থীরা ঘরে ফেরার জন্য কাতর হয়ে আছে।

এতে বলা হয়, মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এখনও সৃষ্টি না হওয়ায় তারা যেতে চান না। আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী সারা বিশ্বের রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ছয় লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমার সরকার এবং দেশটির সেনাবাহিনীর আচরণে এখনও কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলো হল- আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এআরএনও), বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে (বিআরওইউকে), ব্রিটিশ রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন ইউকে, বার্মিজ রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন ডেনমার্ক, বার্মিজ রোহিঙ্গা অ্যাসোসিয়েশন জাপান (বিআরএজে), রোহিঙ্গা অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক ইন জাপান, বার্মিজ রোহিঙ্গা কমিউনিটি অস্ট্রেলিয়া (বিআরসিএ), বার্মিজ রোহিঙ্গা অ্যাসোসিয়েশন ইন কুইন্সল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া (বিআরএকিউএ), কানাডিয়ান বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন, ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিল (ইআরসি), মিয়ানমার এথনিক রোহিঙ্গা হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইন মালয়েশিয়া (এমইআরএইচআরওএম), রোহিঙ্গা আমেরিকান সোসাইটি, রোহিঙ্গা আরাকানিজ রিফুজি কমিটি, রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন জার্মানি, রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন সুইজারল্যান্ড, রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন ফিনল্যান্ড, রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন ইতালি, রোহিঙ্গা কমিউনিটি ইন সুইডেন, রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন নরওয়ে, রোহিঙ্গা সোসাইটি মালয়েশিয়া (আরএসএম) এবং রোহিঙ্গা সোসাইটি নেদারল্যান্ডস।