ঢাকা ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

সেকেন্ডেই সাড়ে ৩২ কোটি টাকা লুটছে গ্রামীণফোন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাত্র এক সেকেন্ড। আর এই এক সেকেন্ডেই দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন লুটে নিল গ্রাহকের সাড়ে ৩২ কোটি টাকা। এভাবে প্রতি বছর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা অগোচরেই নিয়ে যাচ্ছে নরওয়ের মালিকানাধীন এই কোম্পানিটি। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রাহককে বিভিন্ন কন্টেটেন্টের জন্য ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন (ইচ্ছা না থাকা স্বত্ত্বেও) করাচ্ছে গ্রামীণফোন। বিভিন্ন কলসেন্টারের মাধ্যমে গ্রামীণফোন সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রাহকের অনুমতি না নিয়ে পণ্যের ভোক্তা তৈরির কথা বলে মোবাইল ফোনে একটি মেসেজ দেয়। এর পরপরই আরেকটি মেসেজ দিয়ে গ্রাহককে জানায় তার রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। এভাবে গ্রাহককে প্রথমে ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করে এক দফা টাকা কেটে নিচ্ছে।

এরপর আরেকটি মেসেজ দিয়ে বলা হয়- আপনি যদি গ্রাহক হতে না চান, তাহলে আপনাকে একটা এসএমএস পাঠাতে হবে (আপনি বাধ্য)। এই এসএমএস বাবদ আপনার একাউন্ট থেকে ২ টাকা ৪৪ পয়সা কেটে নেয়া হবে। এভাবে গ্রাহককে ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করে প্রথমে ২ টাকা ৪৪ পয়সা কেটে নিচ্ছে। এরপর আবার বন্ধ করতে কেটে নিচ্ছে ২ টাকা ৪৪ পয়সা।

এক সেকেন্ডের মধ্যেই একজন গ্রাহকের কাছ থেকে তারা পাচ্ছে প্রায় ৫ টাকা। এতে নিমিষেই গ্রাহকের সাড়ে ৩২ কোটি টাকা চলে যাচ্ছে গ্রামীণফোনের পকেটে। আর এটা বন্ধ করতে এসএমএস না দিলে প্রতিদিনই একাউন্ট থেকে ২ টাকা ৪৪ পয়সা করে কেটে নেবে গ্রামীণফোন। প্রতিদিন এভাবে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করা ভোক্তা আইনে দন্ডনীয় অপরাধ জেনেও গ্রামীণফোন চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রতারণা।

একজন গ্রাহক দৈনিক আকাশর কাছে নিজের পাওয়া এসএমএস দেখিয়ে অভিযোগ করেন, ‘আমার মোবাইলে ০০১৬২৩৫ নম্বর থেকে একটা মেসেজ এলো। মেসেজে লিখেছে- Content Bazar service started successfully. You will get content bazar service at 2.44tk/day. To stop sms STOP CB to 16235. Helpline: 01758855511, এর পরপরই আরেকটি মেসেজ এলো, সেটাতে লেখা- You have already started the ContentBazar! service. To start sms STOP CB to 16235.

এই ফোর্স রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে গ্রাহকের পকেটের টাকা কিভাবে হাতিয়ে নেয়া হয় জানতে চাইলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানান, কলসেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহককে যে ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করা হয় সেটা বন্ধ করতে গ্রাহককে ফিরতি এসএমএস দিতে হয়। অনেক সময় এটা বন্ধ করতে একাধিকার এসএমএস পাঠাতে হয়। ওই এসএমএস চার্জ এর ৭০ ভাগ টাকা পাবে অপারেটর আর ৩০ ভাগ পাবে কল সেন্টার।

সে হিসাবে গ্রামীণফোন একদিনে কয়েকটি কল সেন্টারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহককে বিভিন্ন পণ্যের জন্য ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করলে সেখান থেকে অন্তত ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া সম্ভব। এমনকি এভাবে সত্যিই গ্রাহকের পকেটের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া ওয়েলকাম টিউন, মুভি সার্ভিস, ভিডিও কন্টেন্ট সার্ভিসসহ নানা ধরনের সার্ভিসে তারা ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের কাজে গ্রাহক অধিকার আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন ঘটছে প্রতিদিন। অথচ এটা নিয়ে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ নেই।

জানা গেছে, গ্রামীণ ফোন একজন গ্রাহকের বছরজুড়ে পালাক্রমে অন্তত ২০টি পণ্যের এবং আরো ২০টি অনলাইন সার্ভিসের জন্য ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করে। এভাবে একজন গ্রাহকের পকেট থেকে বছরে অন্তত ১০০ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এ হিসাবে গ্রামীণফোন তাদের সাড়ে ৬ কোটি গ্রাহকের কাছ থেকে বছরে অন্তত সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বছরের পর বছর এভাবে গ্রামীণফোন গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ যেন চোখ বন্ধ করে রেখেছে। বিষয়টি বন্ধেরও কোন পদক্ষেপ নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

সেকেন্ডেই সাড়ে ৩২ কোটি টাকা লুটছে গ্রামীণফোন

আপডেট সময় ১২:৩৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাত্র এক সেকেন্ড। আর এই এক সেকেন্ডেই দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন লুটে নিল গ্রাহকের সাড়ে ৩২ কোটি টাকা। এভাবে প্রতি বছর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা অগোচরেই নিয়ে যাচ্ছে নরওয়ের মালিকানাধীন এই কোম্পানিটি। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রাহককে বিভিন্ন কন্টেটেন্টের জন্য ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন (ইচ্ছা না থাকা স্বত্ত্বেও) করাচ্ছে গ্রামীণফোন। বিভিন্ন কলসেন্টারের মাধ্যমে গ্রামীণফোন সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রাহকের অনুমতি না নিয়ে পণ্যের ভোক্তা তৈরির কথা বলে মোবাইল ফোনে একটি মেসেজ দেয়। এর পরপরই আরেকটি মেসেজ দিয়ে গ্রাহককে জানায় তার রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। এভাবে গ্রাহককে প্রথমে ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করে এক দফা টাকা কেটে নিচ্ছে।

এরপর আরেকটি মেসেজ দিয়ে বলা হয়- আপনি যদি গ্রাহক হতে না চান, তাহলে আপনাকে একটা এসএমএস পাঠাতে হবে (আপনি বাধ্য)। এই এসএমএস বাবদ আপনার একাউন্ট থেকে ২ টাকা ৪৪ পয়সা কেটে নেয়া হবে। এভাবে গ্রাহককে ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করে প্রথমে ২ টাকা ৪৪ পয়সা কেটে নিচ্ছে। এরপর আবার বন্ধ করতে কেটে নিচ্ছে ২ টাকা ৪৪ পয়সা।

এক সেকেন্ডের মধ্যেই একজন গ্রাহকের কাছ থেকে তারা পাচ্ছে প্রায় ৫ টাকা। এতে নিমিষেই গ্রাহকের সাড়ে ৩২ কোটি টাকা চলে যাচ্ছে গ্রামীণফোনের পকেটে। আর এটা বন্ধ করতে এসএমএস না দিলে প্রতিদিনই একাউন্ট থেকে ২ টাকা ৪৪ পয়সা করে কেটে নেবে গ্রামীণফোন। প্রতিদিন এভাবে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করা ভোক্তা আইনে দন্ডনীয় অপরাধ জেনেও গ্রামীণফোন চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রতারণা।

একজন গ্রাহক দৈনিক আকাশর কাছে নিজের পাওয়া এসএমএস দেখিয়ে অভিযোগ করেন, ‘আমার মোবাইলে ০০১৬২৩৫ নম্বর থেকে একটা মেসেজ এলো। মেসেজে লিখেছে- Content Bazar service started successfully. You will get content bazar service at 2.44tk/day. To stop sms STOP CB to 16235. Helpline: 01758855511, এর পরপরই আরেকটি মেসেজ এলো, সেটাতে লেখা- You have already started the ContentBazar! service. To start sms STOP CB to 16235.

এই ফোর্স রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে গ্রাহকের পকেটের টাকা কিভাবে হাতিয়ে নেয়া হয় জানতে চাইলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানান, কলসেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহককে যে ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করা হয় সেটা বন্ধ করতে গ্রাহককে ফিরতি এসএমএস দিতে হয়। অনেক সময় এটা বন্ধ করতে একাধিকার এসএমএস পাঠাতে হয়। ওই এসএমএস চার্জ এর ৭০ ভাগ টাকা পাবে অপারেটর আর ৩০ ভাগ পাবে কল সেন্টার।

সে হিসাবে গ্রামীণফোন একদিনে কয়েকটি কল সেন্টারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহককে বিভিন্ন পণ্যের জন্য ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করলে সেখান থেকে অন্তত ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া সম্ভব। এমনকি এভাবে সত্যিই গ্রাহকের পকেটের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া ওয়েলকাম টিউন, মুভি সার্ভিস, ভিডিও কন্টেন্ট সার্ভিসসহ নানা ধরনের সার্ভিসে তারা ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের কাজে গ্রাহক অধিকার আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন ঘটছে প্রতিদিন। অথচ এটা নিয়ে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ নেই।

জানা গেছে, গ্রামীণ ফোন একজন গ্রাহকের বছরজুড়ে পালাক্রমে অন্তত ২০টি পণ্যের এবং আরো ২০টি অনলাইন সার্ভিসের জন্য ফোর্স রেজিষ্ট্রেশন করে। এভাবে একজন গ্রাহকের পকেট থেকে বছরে অন্তত ১০০ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এ হিসাবে গ্রামীণফোন তাদের সাড়ে ৬ কোটি গ্রাহকের কাছ থেকে বছরে অন্তত সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বছরের পর বছর এভাবে গ্রামীণফোন গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ যেন চোখ বন্ধ করে রেখেছে। বিষয়টি বন্ধেরও কোন পদক্ষেপ নেই।