ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি, নতুন বিতর্কের মুখে শুভেন্দু প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইনহাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী পেনশন ভোগান্তি কমাতে অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করছে সরকার তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ৫০ জনের মৃত্যু, আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা ইরান যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল মার্কিন সিনেট নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম গ্রেফতার সাপাহার সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় শূন্যরেখায় অবস্থান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দেশের রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব : বাণিজ্যমন্ত্রী রোনালদোর জোড়া আঘাত, পর্তুগালের ৫-০ গোলের বড় জয়

দেশের রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব : বাণিজ্যমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের রপ্তানি আয় এখনকার ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মন্ত্রী বলেন, সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারলে এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন নয়।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপি উপস্থাপন ও কনসালটেশন কর্মশালায় বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তবে কোন কোন খাতে কতদিনে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়নি মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে দেওয়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমন এক সময়ে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা তুললেন, যখন নানামুখী কারণে দেশের রপ্তানি খাত কার্যত ধুঁকছে। চলতি অর্থবছরের পুরো সময়জুড়ে রপ্তানি আয় রয়েছে নেতিবাচক ধারায়।

রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসের (জুলাই-মে) হিসাবে রপ্তানি থেকে আয় কমেছে। আগের অর্থবছরের চেয়ে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে চলতি অর্থবছরে মোট আয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

কর্মশালায় বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন। এ জন্য শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর জোর দিতে হবে।

‘এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস বা ইসিফোর-জে’ প্রকল্পের মূল ধারণা সময়োপযোগী হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম বড় দুর্বলতা বলে মনে করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা রাখতে হবে।

মন্ত্রীর ভাষ্য, চামড়া ও হালকা প্রকৌশল খাতে প্রতিষ্ঠিত অবকাঠামো আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশীয় শিল্প দ্রুত বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারে।

পাট খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির তুলনায় মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও পাটভিত্তিক ফেব্রিক উৎপাদনে বহুগুণ বেশি আয় সম্ভব। এ খাতে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কর্মশালায় তথ্য দেন বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের-র‍্যাপিড চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি, নতুন বিতর্কের মুখে শুভেন্দু

দেশের রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব : বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের রপ্তানি আয় এখনকার ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মন্ত্রী বলেন, সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারলে এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন নয়।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপি উপস্থাপন ও কনসালটেশন কর্মশালায় বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তবে কোন কোন খাতে কতদিনে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়নি মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে দেওয়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমন এক সময়ে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা তুললেন, যখন নানামুখী কারণে দেশের রপ্তানি খাত কার্যত ধুঁকছে। চলতি অর্থবছরের পুরো সময়জুড়ে রপ্তানি আয় রয়েছে নেতিবাচক ধারায়।

রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসের (জুলাই-মে) হিসাবে রপ্তানি থেকে আয় কমেছে। আগের অর্থবছরের চেয়ে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে চলতি অর্থবছরে মোট আয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

কর্মশালায় বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন। এ জন্য শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর জোর দিতে হবে।

‘এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস বা ইসিফোর-জে’ প্রকল্পের মূল ধারণা সময়োপযোগী হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম বড় দুর্বলতা বলে মনে করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা রাখতে হবে।

মন্ত্রীর ভাষ্য, চামড়া ও হালকা প্রকৌশল খাতে প্রতিষ্ঠিত অবকাঠামো আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশীয় শিল্প দ্রুত বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারে।

পাট খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির তুলনায় মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও পাটভিত্তিক ফেব্রিক উৎপাদনে বহুগুণ বেশি আয় সম্ভব। এ খাতে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কর্মশালায় তথ্য দেন বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের-র‍্যাপিড চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।