ঢাকা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় বাংলাদেশ আট দফা পররাষ্ট্রনীতি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশ আট দফা পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। এর মধ্যে পাশের দেশ ভারতের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করছে বাংলাদেশ। বুধবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি’ বিষয়ক এক সেমিনারে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ‘বন্ধুত্ব সবার সঙ্গে, শত্রুতা কারো সঙ্গে নয়।’ এই নীতিতে বাংলাদেশ আটটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে এবং ভারতের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করছে। তবে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার নীতি হচ্ছে, ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়ানো।’

অর্থনৈতিক ও অন্যান্য স্বার্থেই পররাষ্ট্রনীতির প্রথমটিতে ইউরোপের দেশগুলোকে স্থান দেয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিয়ানমার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।’

মাহমুদ আলী বলেন, ‘সারা বিশ্ব জানে ২০১৭ সালে কীভাবে নির্যাতিত হয়ে সাড়ে ছয় লাখ মানুষ মাত্র তিন মাসে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখন দেশে অবস্থান করছে দশ লাখ মিয়ানমারের অধিবাসী। নানা কূটনৈতিক চাপের পর ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ সংক্রান্ত ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ সমঝোতা স্মারক সই হয়।’

সমুদ্র সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সমুদ্র বিজয় করেছি, এখন সেটার সীমানা রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা খুব গুরত্বের সঙ্গে দেখছি।’ ২০১৭ সালকে জাতিসংঘ মহাসচিব শান্তির বছর ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী আক্রমণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক বলেন, ‘২০১৮ সালে আমাদের পররাষ্ট্র নীতিতে কিছু বিষয় গুরুত্ব পাবে। এগুলো হলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু, পানি ইস্যু। এই প্রত্যেকটি ইস্যুই বিশ্বব্যাপী আলোচনার বিষয়। তবে আমাদের এগুলোর সঙ্গে ব্যবসা ও প্রযুক্তির ওপরও গুরুত্ব থাকবে। আমাদের পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দেয়ার চেষ্টা করব।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইআইএসএস এর চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ এবং মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আব্দুর রহমান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবার পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় বাংলাদেশ আট দফা পররাষ্ট্রনীতি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:১৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশ আট দফা পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। এর মধ্যে পাশের দেশ ভারতের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করছে বাংলাদেশ। বুধবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি’ বিষয়ক এক সেমিনারে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ‘বন্ধুত্ব সবার সঙ্গে, শত্রুতা কারো সঙ্গে নয়।’ এই নীতিতে বাংলাদেশ আটটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে এবং ভারতের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করছে। তবে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার নীতি হচ্ছে, ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়ানো।’

অর্থনৈতিক ও অন্যান্য স্বার্থেই পররাষ্ট্রনীতির প্রথমটিতে ইউরোপের দেশগুলোকে স্থান দেয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিয়ানমার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।’

মাহমুদ আলী বলেন, ‘সারা বিশ্ব জানে ২০১৭ সালে কীভাবে নির্যাতিত হয়ে সাড়ে ছয় লাখ মানুষ মাত্র তিন মাসে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখন দেশে অবস্থান করছে দশ লাখ মিয়ানমারের অধিবাসী। নানা কূটনৈতিক চাপের পর ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ সংক্রান্ত ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ সমঝোতা স্মারক সই হয়।’

সমুদ্র সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সমুদ্র বিজয় করেছি, এখন সেটার সীমানা রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা খুব গুরত্বের সঙ্গে দেখছি।’ ২০১৭ সালকে জাতিসংঘ মহাসচিব শান্তির বছর ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী আক্রমণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক বলেন, ‘২০১৮ সালে আমাদের পররাষ্ট্র নীতিতে কিছু বিষয় গুরুত্ব পাবে। এগুলো হলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু, পানি ইস্যু। এই প্রত্যেকটি ইস্যুই বিশ্বব্যাপী আলোচনার বিষয়। তবে আমাদের এগুলোর সঙ্গে ব্যবসা ও প্রযুক্তির ওপরও গুরুত্ব থাকবে। আমাদের পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দেয়ার চেষ্টা করব।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইআইএসএস এর চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ এবং মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আব্দুর রহমান।