আকাশ নিউজ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের তরুণ কথাসাহিত্যিক ‘তকিব তৌফিক’ এর প্রথম উপন্যাস ‘এপিলেপটিক হায়দার’ গত ২৭ ডিসেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে । নালন্দা প্রকাশনা এবং দেশের অন্যতম প্রচ্ছদশিল্পী হিমেল হকের করা প্রচ্ছদেই প্রকাশিত হল এপিলেপটিক হায়দার। ১২ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং ‘এপিলেপটিক হায়দার’ উপন্যাসের প্রচ্ছদ প্রথম প্রকাশ পায়। সেই থেকেই “এপিলেপটিক হায়দার” নিয়ে সবার মধ্যে কৌতূহল কাজ করে আসছে। অধীর আগ্রহে অপেক্ষারত ছিল ‘এপিলেপটিক হায়দার’ এর জন্য সৃষ্ট পাঠকগন। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষে প্রকাশ পেল এপিলেপটিক হায়দার।
লেখক তকিব তৌফিক এই প্রতিবেদককে জানান, আমার উপন্যাস ‘এপিলেপটিক হায়দার’-এ দুটো বিষয়ে ব্যক্ত করেছি:
১) রোগ নিয়ে সামাজিক স্টিগমা
২) এবং আত্মশুদ্ধি
১. আমাদের শিক্ষিত সমাজ এখনো অশিক্ষিতদের মত অনেক ধ্যান-ধারণা নিয়ে চলছে। এখনো এই সমাজে রয়েছে কুসংস্কার রীতিনীতি। রোগব্যাধির উপরেও এর প্রভাব বিস্তার করে ভয়াবহ ভাবে। সুস্থ সমাজে মৃগীরোগীদের কোণা চোখে দেখা হয়। প্রতিনিয়ত কান জ্বালা কথা শুনিয়ে সর্বসাধারণ হতে আলাদা করে দেয়া হয় মৃগীরোগীদের। বেশিরভাগ সময় তাদেরকে তাদের অসুখের কথা উপস্থাপন করে দুর্বল করে রাখা হয়। কর্মক্ষেত্রেও তাদের অকেজো বলে অভিহিত করা হয়। কিন্তু এটা কতটা উচিত! মানবিক দিক থেকে বলতে গেলে এটি সম্পূর্ণ অনুচিত ও অমানবিক। আমাদের মানতে হবে তারাও আমাদের মত সাধারণ। কেবল তাদের শরীরে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত রোগ আছে বলেই আমরা তাদেরকে আমাদের সাধারণের দলে রাখিনা। আমরা তাদের আলাদা করে দেই সাধরণের ভীড় থেকে। মাঝে মাঝে সাধারণের প্রতিপক্ষ হিসেবেও তাদের অভিহিত করা হয়। এটা অন্যায়, এটা অবিচার। সর্বসাধারণের মত সর্বত্র স্বাধীনভাবে অবাধ বিচরণের মাধ্যমেই তাদের বেঁচে ত্থাকার অধিকার আছে, আর আমাদের উচিত তাদের অধিকার তাদের ফিরিয়ে দেয়া। আমরা সুস্থ ও সভ্য সমাজের নাগরিক হয়ে অন্যের বেঁচে থাকার অধিকার নিয়ে টানাহেঁচড়া করতে পারিনা। আমাদের কোন অধিকার নেই অন্যের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেয়ার।
২. আমাদের বিশ্বাস কতটা তাৎপর্যবহ! আমরা মনের ভেতর গচ্ছিত রাখা সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাসের মর্যাদা কতখানি দিতে পারি? সত্যিই কি আমাদের বিশ্বাসের বাস্তবিক অর্থে বিশ্বাস! নাকি বলতে হয় বলেই! বিশ্বাস? এই বিশ্বাস কতটা শক্তিশালী? নাকি এই এ বিশ্বাস স্বচ্ছ কাচের আয়নার মত দুর্বল, যা একটু আঘাতে চূর্ণ হয়! বিশ্বাস হওয়া উচিত বিশ্বাসের মত। প্রত্যহ সঠিক কর্ম সাধনই হল বিশ্বাসের বহি:প্রকাশ। আর ধর্মানুভূতির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা বড়গলায় দাবি করি ‘আমি ধর্মে বিশ্বাস রাখি, আমি সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করি’, কিন্তু আসলেই কি বিশ্বাস করি? যদি বিশ্বাসই করি তাহলে ধর্মের প্রত্যহ কর্ম সাধনে এত অবহেলা কেন! যেই মহান সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করি বলে দাবি করি, কেন তাকে ভালবেসে, ভয় করে তার বেধে দেয়া নিয়মগুলোকে এড়িয়ে চলি! এতে কি আমাদের বিশ্বাসটুকু বিশ্বাসে রইল? নাকি বিশ্বাসটুকু কেবলই আমাদের মনগড়া! অতএব আমাদের বুঝা উচিত কোন পথে বিপদ আর কোন সুপথে অনন্তকালের নেয়ামত।
বইটি পাওয়া যাবে রকমারি ও বাতিঘর চট্টগ্রামে।
মনজুর হোসেন, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























