অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দুর্নীতি দমন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে হতাশা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আদুল মুহিত। বলেছেন, যে আশা নিয়ে সংস্থাটি করা হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রায়ই বলে থাকি একটি কথা। আমাদের দেশের দুর্নীতি নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। এটা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা হয়। এই দুর্নীতির জন্য দুদক-টুদক বানিয়েছি। কিন্তু তাতে খুব একটা ফল পাওয়া যাচ্ছে সেটা বলা যাবে না।’
শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন মুহিত। দু্র্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর কার্যক্রমে সাফল্য না আসার পর ২০০৪ সালের ৯ মে গঠন হয় দুর্নীতি দমন কমিশন। এরপর ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্থাটি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি বলে খোদ দুদকের কর্তাব্যক্তিরাই বলে আসছেন। সংস্থাটি যে মামলা করে তা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার সমস্যা একাধিক চেয়ারম্যান তুলে ধরেছেন।
গত ৭ ডিসেম্বর খোদ দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ তার সংস্থার কর্মকর্তাদের দক্ষতা এবং নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বলেছেন, তাদের কাজে সন্তুষ্ট নন তিনি। অবশ্য দুদক সম্প্রতি দুর্নীতির তথ্য পেতে একটি হটলাইন চালূ করেছে। এই লাইনে বিনামূল্যে তথ্য দেয়া যাচ্ছে। দুদক নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও দুর্নীতি নির্মূলে তথ্য প্রযুক্তি হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, এটা দিয়ে অকল্পনীয় ফলাফল পাওয়া যায়।
নিজ এলাকায় এলাকার একটি কলেজের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কলেজটিতে অর্থকষ্ট লেগেই থাকত। প্রতি বছর আয় দেখাত এক লাখ। কিন্তু ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে হওয়ার পর কলেজটিতে তার পরের বছরই আয় হলো ৮০ লাখ টাকা। এখন অবশ্য কলেজটি সরকারি হয়েছে।’
প্রবাসী আয় নিয়েও অসন্তোষ জানান অর্থমন্ত্রী। বলেন, ‘এখন দেশের সব এলাকার লোক প্রবাসে অবস্থান করছে। এক কোটি প্রবাসী আমাদের। কিন্তু খুব বেশি রেমিটেন্স আসছে না। এর কারণ কী সেটা বের করার জন্য আমরা তদন্ত করছি আমরা। আশা করি শিগগির সেটা জানতে পারব।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রবাসীদের জন্য একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে হবে। যে প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ পাবে।’
স্কলার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রীর ভাই এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, প্রবাসীদের যথাযথ সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। বাংলাদেশের এ অবস্থায় আসার পেছনে প্রবাসীদের অবদান আছে। তারা রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে, দেশের দুর্যোগে পাশে দাড়াচ্ছে, দেশের বিনিয়োগে অবদান রাখছে।’
প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করার জন্য আসলে নানা অসুবিধায় পড়ে জানিয়ে মোমেন বলেন, দেশে বিনিয়োগের জন্য প্রবাসীরা যে নিবন্ধন করেন তার তিন থেকে চার শতাংশ বিনিয়োগ করেন। এটা আমেরিকায় হয় ১০০ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট এম ই চৌধুরী শামীম জানান, প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নয়টি মানদণ্ডে ১৭ জনকে ‘স্কলার অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা কররে শিগগির। এ জন্য ১৭২৬ জন আবেদন পড়েছে জানিয়ে শামীম জানান, তারা আপাতত ৪০ জন বাছাই করেছেন। এদের থেকে ১৭ জনকে বাছাই করতে আমরা কমিটি করা হয়েছে।
যে নয়টি মানদণ্ডে পুরস্কার দেয়া হবে সেগুলো হলো: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্মাননা স্মারক, তাজউদ্দীন আহমদ সম্মাননা স্মারক, পণ্ডিত রবি শংকর ও জর্জ হ্যারিসন সম্মাননা স্মারক, ড. কুদরত-ই-খুদা সম্মাননা স্মারক, এফ আর খান সম্মাননা স্মারক, আর পি সাহা সম্মাননা স্মারক, ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম সম্মাননা স্মারক, স্যামসন এইচ চৌধুরী সম্মাননা স্মারক ও ফজলে হাসান আবেদ সম্মাননা স্মারক।
অন্য সম্মাননাগুলো প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা পেলেও ফজলে হাসান আবেদ সম্মাননা স্মারক পাবেন বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকেরা। আজ প্রথম বেসরকারিভাবে প্রথম প্রবাসী দিবস পালন করা হয়েছে জানিয়ে আগামী বছর এই দিনটি সরকারিভাবে পালন করার আশার কথা জানান চৌধুরী শামীম।
অনুষ্ঠানে স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী দিলারা আফরোজ খান বক্তব্য জানান, স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও সেন্টার ফর এনআরবি ফাউন্ডেসন ২০০৫ সালে তাদের কার্যক্রম প্রথম শুরু করে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 










