ঢাকা ০৬:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সিজারে সন্তান প্রসব, গজ রেখেই পেট সেলাই

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জ শহরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর গজ রেখেই রোগীর পেট সেলাই করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শহরের খানপুর এলাকায় ‘আমেনা জেনারেল হাসপাতাল’ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হওয়ার প্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যায় রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে। গত সেপ্টেম্বরে এই হাসপাতালে সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি হয়েছিলেন লিপি আক্তার।

তার বাচ্চার জন্মদানের জন্য সিজারিয়ান অপারেশন করেন ডাক্তার। এরপর বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবনতি ঘটে। পরে রোগীকে অন্য একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই জানা যায়, সিজারিয়ান অপারেশনের পর ভেতরের রক্ত ও অন্যান্য জিনিস পরিস্কার করার জন্য ব্যবহার করা গজ বের করা হয়নি।

ভুক্তভোগী রোগী লিপি বেগমের বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় মৌচাক এলাকায়। তার মা রোমেলা বেগম জানান, ‘গত ৫ সেপ্টেম্বর আমেনা জেনারেল হাসপাতালে লিপি আক্তারের সিজার করা হয়। এরপর কয়েকদিন হাসপাতালে থেকে বাড়ি চলে গেলে কয়েকদিন পর পেটের ড্রেসিং করানো হলে অপারেশনের জায়গায় ইনফেকশন হয়ে যায়।’

রোমেলা বেগম বলেন, ‘ড্রেসিংয়ের জন্য এভাবে ১৫ বার হাসপাতালে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা বরাবর একই কথা বলে। তবে এর মধ্যে রোগীর সিজারের সেলাই খুলে যায়। এতে রোগীর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যায়। সেলাই খোলা অবস্থায় প্রায় পাঁচ দিন হাসপাতালে পড়ে থেকে যান্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে।’

এভাবে বার বার সমস্যার কারণে হাসপাতালে আসার কারণে চিকিৎসক ও হাসপাতালের লোকেরা স্বজনদের বলেন, রোগীর পেট পঁচা, গন্ধ। তাইতো শুধু ইনফেকশন হয়।

‘সবশেষে আমার মেয়ের অবস্থার অবনতি দেখে তাকে ফ্যামিলি ল্যাব হাসপাতালে চিকিৎসায় জন্য নিয়ে গেলে তার পেট থেকে গজ বের হয়। গত দুই দিন আগে ২৫ ডিসেম্বর এই গজ তার পেট থেকে বের হলে সে এখন সংকটে রয়েছে। এখন আমার মেয়ের কী হবে। সে কি বাঁচবে নাকি মরবে কে জানে’-এ কথা বলে কাঁদতে থাকেন লিপি বেগমের মা।

হাসপাতালের স্বত্ত্বাধিকারী চিকিৎসক আমেনা বলেন, ‘ভুল হতেও পারে তবে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলতে পারছিনা। যদি এরুপ ভুল হয়ে থাকে তার দায়িত্ব নিতে হবে।’

বুধবার এই ঘটনায় আমেনা জেনারেল হাসপাতালের সামনে লিপির স্বজনরা বিক্ষোভ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যায় পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক শামীম বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সিজারে সন্তান প্রসব, গজ রেখেই পেট সেলাই

আপডেট সময় ১১:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জ শহরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর গজ রেখেই রোগীর পেট সেলাই করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শহরের খানপুর এলাকায় ‘আমেনা জেনারেল হাসপাতাল’ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হওয়ার প্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যায় রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে। গত সেপ্টেম্বরে এই হাসপাতালে সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি হয়েছিলেন লিপি আক্তার।

তার বাচ্চার জন্মদানের জন্য সিজারিয়ান অপারেশন করেন ডাক্তার। এরপর বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবনতি ঘটে। পরে রোগীকে অন্য একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই জানা যায়, সিজারিয়ান অপারেশনের পর ভেতরের রক্ত ও অন্যান্য জিনিস পরিস্কার করার জন্য ব্যবহার করা গজ বের করা হয়নি।

ভুক্তভোগী রোগী লিপি বেগমের বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় মৌচাক এলাকায়। তার মা রোমেলা বেগম জানান, ‘গত ৫ সেপ্টেম্বর আমেনা জেনারেল হাসপাতালে লিপি আক্তারের সিজার করা হয়। এরপর কয়েকদিন হাসপাতালে থেকে বাড়ি চলে গেলে কয়েকদিন পর পেটের ড্রেসিং করানো হলে অপারেশনের জায়গায় ইনফেকশন হয়ে যায়।’

রোমেলা বেগম বলেন, ‘ড্রেসিংয়ের জন্য এভাবে ১৫ বার হাসপাতালে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা বরাবর একই কথা বলে। তবে এর মধ্যে রোগীর সিজারের সেলাই খুলে যায়। এতে রোগীর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যায়। সেলাই খোলা অবস্থায় প্রায় পাঁচ দিন হাসপাতালে পড়ে থেকে যান্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে।’

এভাবে বার বার সমস্যার কারণে হাসপাতালে আসার কারণে চিকিৎসক ও হাসপাতালের লোকেরা স্বজনদের বলেন, রোগীর পেট পঁচা, গন্ধ। তাইতো শুধু ইনফেকশন হয়।

‘সবশেষে আমার মেয়ের অবস্থার অবনতি দেখে তাকে ফ্যামিলি ল্যাব হাসপাতালে চিকিৎসায় জন্য নিয়ে গেলে তার পেট থেকে গজ বের হয়। গত দুই দিন আগে ২৫ ডিসেম্বর এই গজ তার পেট থেকে বের হলে সে এখন সংকটে রয়েছে। এখন আমার মেয়ের কী হবে। সে কি বাঁচবে নাকি মরবে কে জানে’-এ কথা বলে কাঁদতে থাকেন লিপি বেগমের মা।

হাসপাতালের স্বত্ত্বাধিকারী চিকিৎসক আমেনা বলেন, ‘ভুল হতেও পারে তবে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলতে পারছিনা। যদি এরুপ ভুল হয়ে থাকে তার দায়িত্ব নিতে হবে।’

বুধবার এই ঘটনায় আমেনা জেনারেল হাসপাতালের সামনে লিপির স্বজনরা বিক্ষোভ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যায় পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক শামীম বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’