অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শেষে এই নির্বাচনকে সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অন্যতম সেরা নির্বাচন হিসেবে দাবি করেছে বেসরকারি সংগঠন ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় সংস্থাটি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর মধ্যে রংপুর সিটি নির্বাচনকে অন্যতম সেরা নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেন সংগঠনটির পরিচালক ড. মো. আব্দুল আলীম।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল আলীম বলেন, ‘কোনো ধরনের সহিংসতা ও নির্বাচনী অনিয়ম ছাড়াই উৎসব-আমেজে রংপুর সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচন ছিল সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং নির্বাচনী প্রশাসনকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে যথাযথ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা গেছে। ভোটাররাও সুশৃঙ্খলভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।’
সংস্থাটির পরিচালক বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে আমরা বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছি। সর্বশেষ ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ, এরপর কুমিল্লা। কুমিল্লায়ও আমরা ১২টির মতো ঘটনা পেলেও রংপুরে তেমন কিছুই পাইনি।’
আব্দুল আলীম বলেন, ‘তবে রংপুর সিটির একটি নির্বাচন কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) স্বল্প সময়ের জন্য স্থবির হয়ে গিয়েছিল। ইভিএম অচল হয়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে কারিগরি দল সেটা সচল করেছে।’
রংপুর নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার শতকরা ৭০ ভাগ। কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সময় ৮১ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সকালের দিকে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ মোট ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ডের ২৬টি কেন্দ্র ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছে। পর্যবেক্ষণকৃত ভোট কেন্দ্রেগুলোর ৯৩.৬ ভাগ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট, ৯৫.১ ভাগ কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ও ৯২.৯ ভাগ কেন্দ্রে জাতীয় পার্টি প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ছিলেন।’
জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার চালুর আগে আরও সময় নেয়া উচিত বলে মনে করেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘গ্রামের মানুষ এখনো ইভিএম বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞ। গ্রামে যারা কাজ করেন তাদের আঙুলের টিস্যুর কারণে ইভিএমে চাপ দিলে বরাবর পড়ে না। তখন দেখেছি টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে দিলে আবার ঠিকই নেয়। তাই বলছি ব্রাজিলেও ইভিএম চালু করতে ২৬ বছর সময় নিয়েছে। আমাদেরও সময় নেয়া উচিত।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















