ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

বর্তমান কমিশন অনেক কঠোর: ইসি সচিব

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোনো ধরনের সামান্য ভুল-ত্রুটিও নির্বাচন কমিশন মাফ করবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন অনেক কঠিন। আগের চেয়ে অনেক কঠোর। যতক্ষণ না সুষ্ঠু নির্বাচন হবে ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন দেয়া হবে, এটা কিন্তু মাফ নেই।’

মঙ্গলবার সকালে আলফাডাঙ্গা পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন। উপজেলা মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। আগামী ২৮ ডিসেম্বর আলফাডাঙ্গা পৌরসভা ও আলফাডাঙ্গা, বুড়াইচ ও গোপালপুর ইউনিয়নে ভোট হবে।

ইসি সচিব বলেন, ‘যদি কোনো প্রার্থী কোনো কেন্দ্রে গণ্ডগোল করেন ওই ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য একবার নয় আমরা প্রয়োজন হলে দশবার নির্বাচন দেবো। কোনো কেন্দ্রে ভোট হয়ে যাওয়ার পর যদি শুনি বাক্সতে আগের রাতে ব্যালট পেপার ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব। প্রিসাইডিং অফিসার ঘোষণা দেয়ার পরও কিন্তু আমাদের ক্ষমতা আছে, প্রয়োজনে আবার নির্বাচন করাব।’

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইসির কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে সচিব বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি সেটা আনসার-ভিডিপি হোক, পুলিশ হোক, প্রিসাইডিং অফিসার হোক, পোলিং অফিসার হোক, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হোক, আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট হোক, যে কেউ যদি সে কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে তাহলে চাকরি থাকবে না।’

সচিব বলেন, ‘কোনো ধরনের সামান্য ভুল-ত্রুটিও যদি হয় তাহলে নির্বাচন কমিশন মাফ করবে না। আপনাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’ হেলালুদ্দীন বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার একটা দাবি আছে। আপনারাও নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলবেন। আপনারা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করবেন।’

সচিব বলেন, ‘আলফাডাঙ্গা নতুন পৌরসভায়। শুরুতেই যেন এই পৌরসভায় কোনো কালিমা না পড়ে সে জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব। আপনারা যদি সুষ্ঠুভাবে, সুন্দরভাবে ভোট প্রদান করেন, শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখেন, আমি সরকারের সচিব হিসেবে এই পৌরসভার উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চেষ্টা করব।’

মতবিনিময় সভায় বুড়াইচ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আহসানউদ্দৌলা রানা অভিযোগ করেন, তার ইউনিয়নের নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার হচ্ছে। জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিব বলেন, ‘আমরা যদি দেখি ভোটের আগের দিন বা দুদিন আগে কেউ টাকা নিয়ে ঘোরাঘুরি করছে, তাহলে টাকা তার যাবেই; টাকা যে বিলি করবে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে।’

সভার শুরুতে পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রূপা রায়ের সভাপতিত্বে আরও বক্তৃতা করেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরাদুল হক, ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. জামাল পাশা, ফরিদপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান তালুকদার, র‌্যাব-৮ এর কোম্পানি অধিনায়ক মো. রইছউদ্দিন, ফরিদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান, ফরিদপুর জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট এনামুল খাঁন, আলফাডাঙ্গার নির্বাচন কর্মকর্তা মমতাজ আল শিবলী, আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল করিম প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

বর্তমান কমিশন অনেক কঠোর: ইসি সচিব

আপডেট সময় ০৯:১৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোনো ধরনের সামান্য ভুল-ত্রুটিও নির্বাচন কমিশন মাফ করবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন অনেক কঠিন। আগের চেয়ে অনেক কঠোর। যতক্ষণ না সুষ্ঠু নির্বাচন হবে ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন দেয়া হবে, এটা কিন্তু মাফ নেই।’

মঙ্গলবার সকালে আলফাডাঙ্গা পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন। উপজেলা মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। আগামী ২৮ ডিসেম্বর আলফাডাঙ্গা পৌরসভা ও আলফাডাঙ্গা, বুড়াইচ ও গোপালপুর ইউনিয়নে ভোট হবে।

ইসি সচিব বলেন, ‘যদি কোনো প্রার্থী কোনো কেন্দ্রে গণ্ডগোল করেন ওই ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য একবার নয় আমরা প্রয়োজন হলে দশবার নির্বাচন দেবো। কোনো কেন্দ্রে ভোট হয়ে যাওয়ার পর যদি শুনি বাক্সতে আগের রাতে ব্যালট পেপার ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব। প্রিসাইডিং অফিসার ঘোষণা দেয়ার পরও কিন্তু আমাদের ক্ষমতা আছে, প্রয়োজনে আবার নির্বাচন করাব।’

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইসির কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে সচিব বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি সেটা আনসার-ভিডিপি হোক, পুলিশ হোক, প্রিসাইডিং অফিসার হোক, পোলিং অফিসার হোক, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হোক, আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট হোক, যে কেউ যদি সে কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে তাহলে চাকরি থাকবে না।’

সচিব বলেন, ‘কোনো ধরনের সামান্য ভুল-ত্রুটিও যদি হয় তাহলে নির্বাচন কমিশন মাফ করবে না। আপনাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’ হেলালুদ্দীন বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার একটা দাবি আছে। আপনারাও নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলবেন। আপনারা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করবেন।’

সচিব বলেন, ‘আলফাডাঙ্গা নতুন পৌরসভায়। শুরুতেই যেন এই পৌরসভায় কোনো কালিমা না পড়ে সে জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব। আপনারা যদি সুষ্ঠুভাবে, সুন্দরভাবে ভোট প্রদান করেন, শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখেন, আমি সরকারের সচিব হিসেবে এই পৌরসভার উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চেষ্টা করব।’

মতবিনিময় সভায় বুড়াইচ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আহসানউদ্দৌলা রানা অভিযোগ করেন, তার ইউনিয়নের নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার হচ্ছে। জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিব বলেন, ‘আমরা যদি দেখি ভোটের আগের দিন বা দুদিন আগে কেউ টাকা নিয়ে ঘোরাঘুরি করছে, তাহলে টাকা তার যাবেই; টাকা যে বিলি করবে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে।’

সভার শুরুতে পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রূপা রায়ের সভাপতিত্বে আরও বক্তৃতা করেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরাদুল হক, ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. জামাল পাশা, ফরিদপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান তালুকদার, র‌্যাব-৮ এর কোম্পানি অধিনায়ক মো. রইছউদ্দিন, ফরিদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান, ফরিদপুর জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট এনামুল খাঁন, আলফাডাঙ্গার নির্বাচন কর্মকর্তা মমতাজ আল শিবলী, আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল করিম প্রমুখ।