ঢাকা ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

দেশের মানুষ যানজট সহ্য করে, আমি কেন পারবো না: কাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মন্ত্রী থাকা অবস্থায় কখনও রাস্তার উল্টো দিকে চলেননি বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘দেশের মানুষ যদি যানজট সহ্য করতে পারে, তাহলে আমি কেন পারবো না।’

রবিবার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সড়ক মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজধানী এবং দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে যেমন তীব্র যানজট আছে, তেমনি যানজট নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্পও চলছে। এগুলো শেষ হলে যন্ত্রণার অবসান হবে। আর এই প্রকল্প চলাকালে সড়কে যানজট কিছুটা বেশি থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটা সহ্য করা ছাড়া বিকল্প নেই।

কাদের বলেন, ‘নতুন কিছু জন্ম নিলে জন্মের যন্ত্রণা থাকবে। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নির্মাণের সময় কত দুর্ভোগ, কত কথা, কিন্তু এখন মাত্র দুই মিনিটে ফ্লাইওভার অতিক্রম করা যায়। যা আগে আড়াই ঘণ্টার ছিল। আজকে মেট্রোরেল, পদ্মা সেতুসহ অনেক প্রকল্প হচ্ছে। তাই আমাদের ধৈয্য ধরতে হবে।’
যানজট থাকলে মানুষের মধ্যে সড়কের উল্টো পাশ ধরে চলার প্রবণতা আছে। এতে দ্রুত গন্তব্যে যাওয়া যায় কখনও কখনও, কিন্তু সেই পথে আবার যানজট বেধে যায়।

সড়ক মন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই উল্টোপথে চলা বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, ‘এক ঈদ আমি বাইপাল থেকে চন্দ্রায় গিয়েছি চার ঘণ্টায়, যেখানে রং সাইড ব্যবহার করলে আমি ১৫ মিনিটে যেতে পারতাম। এখন যখন দুদক রাস্তায় নেমেছে তাই অনেক ভিআইপির টনক নড়েছে বলে আমি মনে করি।’

‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট নিরসন এক বছরের মধ্যে’

দেশের প্রধান সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের জন্য কয়েকটি সরু সেতুকে দায়ী করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সেতুর জায়গায় নতুন সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ হলে যানজট সমস্যার সমাধান হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাস মহাসড়কে দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর কাজ চলছে। এ নির্মাণ শেষ হলেই এ মহাসড়কের যানজট থাকবে না।’ ‘এ ব্রিজ নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। যা নির্দিষ্ট সময়ের আগে ও নির্ধারিত অর্থ থেকেও কম খরচ হচ্ছে এতে। ব্রিজ নির্মাণের আগে যানজটমুক্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রতিশ্রুতি আমি দিতে পারবো না। তবে ব্রিজটা তিনটা নির্মাণ হলে যানজটের কোন আশঙ্কা থাকবে না।’

‘ঢাকা-গাজীপুর সড়কেও যানজট থাকবে না’

ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কে নিত্য দিনের যানজটেরও অবসান হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন সড়ক মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি জানি বিমানবন্দরে নেমে অনেকই দুঃখ প্রকাশ করেন যে গাজীপুর শহরে যেতেই তিন চারঘণ্টা লেগে যায়। গাজীপুর থেকে সিটি গেট পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট হয়, তা আমি অস্বীকার করছি না। তবে গাজীপুর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট হচ্ছে। তাই আপাতত এটা সহ্য করতে হবে। হয়ে যখন যাবে তখন হয়তো আমি মন্ত্রী থাকব না। কিন্তু ভালোভাবে যাতায়াত করতে পারবেন।’

যন্ত্রণা সইতে হবে

মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে এখন ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটার যানজট হয়, তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে রিপোর্ট হচ্ছে। আমি এ রিপোর্টের বিরোধী নয়। একটা কথা মনে রাখতে হবে, আমাকে এ রাস্তাটা করতে হবে। গাজীপুর থেকে এলেঙ্গা মহাসড়কের কাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ হবে। তাই এ রাস্তা হওয়ার আগে যানজট, কিছু জনদুর্ভোগ হবেই, তা মেনে নেয়ার জন্য আমি সকলের কাছে অনুরোধ করব।’

‘এ রাস্তা আপনাদের (জনগণ) জন্য। রাস্তা স্থায়ী, কিন্তু আমি মন্ত্রী স্থায়ী নয়। আমি ভালো রাস্তা করে যেতে চাই। তাড়াহুড়ো করে শেষ করতে চাই না, মানসম্মত রাস্তা করতে চাই।’

ঘন কুয়াশায় সড়ক মহাসড়কে যানবাহন সতর্কভাবে চালানোর অনুরোধ জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘এতে দুর্ঘটনা থেকে আমরা রক্ষা পাব।’ বিআরটিসি চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

দেশের মানুষ যানজট সহ্য করে, আমি কেন পারবো না: কাদের

আপডেট সময় ১০:১৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মন্ত্রী থাকা অবস্থায় কখনও রাস্তার উল্টো দিকে চলেননি বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘দেশের মানুষ যদি যানজট সহ্য করতে পারে, তাহলে আমি কেন পারবো না।’

রবিবার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সড়ক মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজধানী এবং দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে যেমন তীব্র যানজট আছে, তেমনি যানজট নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্পও চলছে। এগুলো শেষ হলে যন্ত্রণার অবসান হবে। আর এই প্রকল্প চলাকালে সড়কে যানজট কিছুটা বেশি থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটা সহ্য করা ছাড়া বিকল্প নেই।

কাদের বলেন, ‘নতুন কিছু জন্ম নিলে জন্মের যন্ত্রণা থাকবে। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নির্মাণের সময় কত দুর্ভোগ, কত কথা, কিন্তু এখন মাত্র দুই মিনিটে ফ্লাইওভার অতিক্রম করা যায়। যা আগে আড়াই ঘণ্টার ছিল। আজকে মেট্রোরেল, পদ্মা সেতুসহ অনেক প্রকল্প হচ্ছে। তাই আমাদের ধৈয্য ধরতে হবে।’
যানজট থাকলে মানুষের মধ্যে সড়কের উল্টো পাশ ধরে চলার প্রবণতা আছে। এতে দ্রুত গন্তব্যে যাওয়া যায় কখনও কখনও, কিন্তু সেই পথে আবার যানজট বেধে যায়।

সড়ক মন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই উল্টোপথে চলা বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, ‘এক ঈদ আমি বাইপাল থেকে চন্দ্রায় গিয়েছি চার ঘণ্টায়, যেখানে রং সাইড ব্যবহার করলে আমি ১৫ মিনিটে যেতে পারতাম। এখন যখন দুদক রাস্তায় নেমেছে তাই অনেক ভিআইপির টনক নড়েছে বলে আমি মনে করি।’

‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট নিরসন এক বছরের মধ্যে’

দেশের প্রধান সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের জন্য কয়েকটি সরু সেতুকে দায়ী করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সেতুর জায়গায় নতুন সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ হলে যানজট সমস্যার সমাধান হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাস মহাসড়কে দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর কাজ চলছে। এ নির্মাণ শেষ হলেই এ মহাসড়কের যানজট থাকবে না।’ ‘এ ব্রিজ নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। যা নির্দিষ্ট সময়ের আগে ও নির্ধারিত অর্থ থেকেও কম খরচ হচ্ছে এতে। ব্রিজ নির্মাণের আগে যানজটমুক্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রতিশ্রুতি আমি দিতে পারবো না। তবে ব্রিজটা তিনটা নির্মাণ হলে যানজটের কোন আশঙ্কা থাকবে না।’

‘ঢাকা-গাজীপুর সড়কেও যানজট থাকবে না’

ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কে নিত্য দিনের যানজটেরও অবসান হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন সড়ক মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি জানি বিমানবন্দরে নেমে অনেকই দুঃখ প্রকাশ করেন যে গাজীপুর শহরে যেতেই তিন চারঘণ্টা লেগে যায়। গাজীপুর থেকে সিটি গেট পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট হয়, তা আমি অস্বীকার করছি না। তবে গাজীপুর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট হচ্ছে। তাই আপাতত এটা সহ্য করতে হবে। হয়ে যখন যাবে তখন হয়তো আমি মন্ত্রী থাকব না। কিন্তু ভালোভাবে যাতায়াত করতে পারবেন।’

যন্ত্রণা সইতে হবে

মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে এখন ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটার যানজট হয়, তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে রিপোর্ট হচ্ছে। আমি এ রিপোর্টের বিরোধী নয়। একটা কথা মনে রাখতে হবে, আমাকে এ রাস্তাটা করতে হবে। গাজীপুর থেকে এলেঙ্গা মহাসড়কের কাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ হবে। তাই এ রাস্তা হওয়ার আগে যানজট, কিছু জনদুর্ভোগ হবেই, তা মেনে নেয়ার জন্য আমি সকলের কাছে অনুরোধ করব।’

‘এ রাস্তা আপনাদের (জনগণ) জন্য। রাস্তা স্থায়ী, কিন্তু আমি মন্ত্রী স্থায়ী নয়। আমি ভালো রাস্তা করে যেতে চাই। তাড়াহুড়ো করে শেষ করতে চাই না, মানসম্মত রাস্তা করতে চাই।’

ঘন কুয়াশায় সড়ক মহাসড়কে যানবাহন সতর্কভাবে চালানোর অনুরোধ জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘এতে দুর্ঘটনা থেকে আমরা রক্ষা পাব।’ বিআরটিসি চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম।