ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের আগে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অবকাঠামো

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গ্রামীণ অবকাঠোমো উন্নয়নে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গ্রামীণ অর্থনীতিসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও বেশি চাঙ্গা করতে পল্লী অঞ্চলের রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার, গ্রামীণ হাট-বাজার উন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছে সরকার। এজন্য নেয়া হচ্ছে একের পর এক মেগা প্রকল্প। বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে বড় অংকের অর্থ। এরই অংশ হিসেবে আসন্ন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে একসঙ্গে তিনটি প্রকল্প উপস্থাপন হবে। এসব প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) থেকে পল্লী অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক এসব প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ময়মনসিংহ অঞ্চল পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, রাজশাহী বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির আগামী মঙ্গলবারের সভায় এসব প্রকল্প উপস্থাপিত হবে।

প্রকল্প তিনটি চলতি বছর থেকে ২০২২ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভাট নির্মাণ ও সংস্কার, সড়ক প্রশস্তকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, গ্রামীণ হাট-বাজার উন্নয়ন, প্রাইমারি স্কুল সংযোগ সড়ক নির্মাণ হবে।

এ প্রসঙ্গে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অর্থনীতিতে গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা রাখা। দেশের গ্রামীণ অঞ্চলের অবকাঠামো তথা সার্বিক উন্নয়নে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি জোর দেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের চেহারাই পাল্টে যাবে।

জানা গেছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ১৮৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার ৬০ উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন।

অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ধরা হয়েছে দুই হাজার ৮০ কোটি টাকা। এ বিভাগের পাবনা, রাজশাহী সদর, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়া জেলার ৫৮টি উপজেলায় এ অর্থ ব্যয় হবে।

একই সঙ্গে রংপুর বিভাগও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। এ বিভাগের জন্য ব্যয় ধরা হচ্ছে দুই হাজার ৮৮৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড়, ঠাকুগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার ৫৮ উপজেলার অবকাঠামো উন্নয়ন হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন হবে। এতে কৃষি ও অকৃষি অর্থনীতি সচল হবে। এছাড়া গ্রামীণ জনগণের জন্য রাস্তা, বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে। এছাড়া স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে কর্মস্ংস্থানের সৃষ্টি হবে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে পরিবহন ব্যয় কমবে। কৃষি ও অকৃষি উৎপাদন বাড়বে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ বিবেচনায় একনেকে প্রকল্পগুলো উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

নির্বাচনের আগে এমন প্রকল্প গ্রহণ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের সব প্রকল্পই রাজনৈতিক। প্রকল্প নেয়ার কারণে যদি ভোট পাওয়া যায় তাহলে ক্ষতি কী? উন্নয়ন হবে গ্রাম ও শহরে, সমানুপাতিক হারে। বৃষ্টি ও বিভিন্ন কারণে গ্রামীণ রাস্তা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে গ্রামভিত্তিক প্রকল্প আসছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনের আগে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অবকাঠামো

আপডেট সময় ১১:৫৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গ্রামীণ অবকাঠোমো উন্নয়নে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গ্রামীণ অর্থনীতিসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও বেশি চাঙ্গা করতে পল্লী অঞ্চলের রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার, গ্রামীণ হাট-বাজার উন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছে সরকার। এজন্য নেয়া হচ্ছে একের পর এক মেগা প্রকল্প। বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে বড় অংকের অর্থ। এরই অংশ হিসেবে আসন্ন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে একসঙ্গে তিনটি প্রকল্প উপস্থাপন হবে। এসব প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) থেকে পল্লী অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক এসব প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ময়মনসিংহ অঞ্চল পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, রাজশাহী বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির আগামী মঙ্গলবারের সভায় এসব প্রকল্প উপস্থাপিত হবে।

প্রকল্প তিনটি চলতি বছর থেকে ২০২২ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভাট নির্মাণ ও সংস্কার, সড়ক প্রশস্তকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, গ্রামীণ হাট-বাজার উন্নয়ন, প্রাইমারি স্কুল সংযোগ সড়ক নির্মাণ হবে।

এ প্রসঙ্গে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অর্থনীতিতে গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা রাখা। দেশের গ্রামীণ অঞ্চলের অবকাঠামো তথা সার্বিক উন্নয়নে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি জোর দেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের চেহারাই পাল্টে যাবে।

জানা গেছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ১৮৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার ৬০ উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন।

অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ধরা হয়েছে দুই হাজার ৮০ কোটি টাকা। এ বিভাগের পাবনা, রাজশাহী সদর, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়া জেলার ৫৮টি উপজেলায় এ অর্থ ব্যয় হবে।

একই সঙ্গে রংপুর বিভাগও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। এ বিভাগের জন্য ব্যয় ধরা হচ্ছে দুই হাজার ৮৮৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড়, ঠাকুগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার ৫৮ উপজেলার অবকাঠামো উন্নয়ন হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন হবে। এতে কৃষি ও অকৃষি অর্থনীতি সচল হবে। এছাড়া গ্রামীণ জনগণের জন্য রাস্তা, বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে। এছাড়া স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে কর্মস্ংস্থানের সৃষ্টি হবে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে পরিবহন ব্যয় কমবে। কৃষি ও অকৃষি উৎপাদন বাড়বে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ বিবেচনায় একনেকে প্রকল্পগুলো উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

নির্বাচনের আগে এমন প্রকল্প গ্রহণ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের সব প্রকল্পই রাজনৈতিক। প্রকল্প নেয়ার কারণে যদি ভোট পাওয়া যায় তাহলে ক্ষতি কী? উন্নয়ন হবে গ্রাম ও শহরে, সমানুপাতিক হারে। বৃষ্টি ও বিভিন্ন কারণে গ্রামীণ রাস্তা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে গ্রামভিত্তিক প্রকল্প আসছে।