অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। বলেছেন, এই ধরনের বক্তব্য গ্রাম্যতা। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের পর পর দৈনিক আকাশকে এ কথা বলেন বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন ফারুক।
সদ্য সমাপ্ত কম্বোডিয়া সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার গণভবনে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে আনতে কোনো উদ্যোগ নেবে না সরকার। বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে সরকার উদ্যোগ নেবে কি না- একজন গণমাধ্যমকর্মীর এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদেরকে (বিএনপি) কি বরণ ডালা পাঠাতে হবে? মনে হচ্ছে বরণ ডালা পাঠাতে হবে।’
দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও বিএনপি আগামী নির্বাচনে নাকে খত দিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন শেখ হাসিনা। বলেছেন, গত নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন করে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়ে যে ঝাড়ি খেয়েছেন, যেভাবে অপমানিত হয়েছেন, সে রকম কিছু অভিজ্ঞতা তিনি আর নিতে চান না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবদীন ফারুক বলেন, ‘বিএনপি নাকে খত দিয়ে বিএনপি নির্বাচনে আসবে-এই ধরনের বক্তব্য গ্রাম্যতা। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম্যতা থেকে বের আসলে ভালো হয়।’ ফারুক বলেন, ‘বিএনপি কখনও নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যায়নি, যাবেও না। বরং জনগণের চাপে প্রধানমন্ত্রী নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবেন।’
সরকার এমন কোনো দৈন্যদশায় পড়ে যায়নি যে আগাম নির্বাচন দিতে হবে-প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যেরও প্রতিক্রিয়া দেন ফারুক। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কোনো ক্রাইসিস না দেখলেও দেশে গণতন্ত্রের সংকট চলছে এটা মানতে হবে। বিরোধী দল সভা-সমাবেশ করতে পারে না। নেতাকর্মীদের পুলিশি হয়রানির ভেতর দিয়ে চলছে। এ অবস্থায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘বিএনপিকে বরণ ডালা পাঠানোর সুযোগ নেই, দরকারও নেই। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকারের যে ব্যবস্থা ছিলো সেটা ফিরিয়ে আনা হোক। তাহলেই হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার অর্থপাচার এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ ধরা পড়ার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার জবাব দিতে চাননি বিএনপির কোনো নেতা।
প্রতিক্রিয়া জানতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে মোশাররফ হোসেন বিস্তারিত না জেনে কথা বলতে অপরগতা প্রকাশ করেন। আর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় শারীরিক অসুস্থতার জন্য কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা জয়নাল আবদীন ফারুক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন সেটা পরের বিষয়। এটা বিষয়টি পরিস্কার হোক। এরপর এটা নিয়ে কথা বলা যাবে।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















