ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন: সন্তু লারমা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাহাড়ি তিন জেলায় শান্তি আনতে দুই দশক আগে করা চুক্তির বাস্তবায়ন না হলে অসহযোগসহ আন্দোলনের নানা কর্মসূচির হুমকি এসেছে এক সময় অস্ত্র তুলে নেয়া সংগঠন জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে। সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) দাবি করেছেন, সরকার ২০ বছরে চু্ক্তির প্রধান ধারাগুলোই বাস্তবায়ন করেনি।

সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কাপেং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০ বছর এবং নতুন প্রজন্মের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন সন্তু লারমা। পাহাড়ের এই নেতা বলেন, ‘পাহাড়িদের বিভিন্ন উপায়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। সেখানে দমন-পীড়ন চলছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।’

সন্তু লারমার অভিযোগ, সরকার চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না করে চু্ক্তিবিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে যে চুক্তি হয়েছিল, সরকার তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চায় না। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বর্তমান সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে তেমন কোনও কাজ করেনি। শুধুমাত্র ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

‘অনেক রাজনৈতিক নেতা এই চুক্তি বাস্তবায়নে কথা বলছেন কিন্তু দলগতভাবে এখন পর্যন্ত বড় কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই উদ্যোগ নিতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিতভাবে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং অধিকার আদায়ের জন্য শুধু পার্বত্য অঞ্চলের জুম্ম জনগণই নয়, জাতীয়ভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে অসহযোগসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকিও দেন জনসংহতি সমিতির নেতা। বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়িত হতেই হবে এবং সরকারকেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর এই চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে ১০ দফা অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে এই আন্দোলন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানানো হয় আলোচনায়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনসংহতি সমিতির সঙ্গে শান্তি সই করে। এই চুক্তির পর অস্ত্র তুল নেয়া পাহাড়িরা অস্ত্র সমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্ত হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন: সন্তু লারমা

আপডেট সময় ১১:১৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাহাড়ি তিন জেলায় শান্তি আনতে দুই দশক আগে করা চুক্তির বাস্তবায়ন না হলে অসহযোগসহ আন্দোলনের নানা কর্মসূচির হুমকি এসেছে এক সময় অস্ত্র তুলে নেয়া সংগঠন জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে। সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) দাবি করেছেন, সরকার ২০ বছরে চু্ক্তির প্রধান ধারাগুলোই বাস্তবায়ন করেনি।

সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কাপেং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০ বছর এবং নতুন প্রজন্মের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন সন্তু লারমা। পাহাড়ের এই নেতা বলেন, ‘পাহাড়িদের বিভিন্ন উপায়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। সেখানে দমন-পীড়ন চলছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।’

সন্তু লারমার অভিযোগ, সরকার চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না করে চু্ক্তিবিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে যে চুক্তি হয়েছিল, সরকার তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চায় না। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বর্তমান সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে তেমন কোনও কাজ করেনি। শুধুমাত্র ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

‘অনেক রাজনৈতিক নেতা এই চুক্তি বাস্তবায়নে কথা বলছেন কিন্তু দলগতভাবে এখন পর্যন্ত বড় কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই উদ্যোগ নিতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিতভাবে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং অধিকার আদায়ের জন্য শুধু পার্বত্য অঞ্চলের জুম্ম জনগণই নয়, জাতীয়ভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে অসহযোগসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকিও দেন জনসংহতি সমিতির নেতা। বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়িত হতেই হবে এবং সরকারকেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর এই চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে ১০ দফা অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে এই আন্দোলন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানানো হয় আলোচনায়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনসংহতি সমিতির সঙ্গে শান্তি সই করে। এই চুক্তির পর অস্ত্র তুল নেয়া পাহাড়িরা অস্ত্র সমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্ত হয়।