ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের দলীয় প্রভাবমুক্ত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে গেলে আমরা সমৃদ্ধির পথে যাব: অর্থমন্ত্রী ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে পিরোজপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রাজধানীর ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশের জনগণ আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করেনি, করবে না: গোলাম পরওয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন: সন্তু লারমা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাহাড়ি তিন জেলায় শান্তি আনতে দুই দশক আগে করা চুক্তির বাস্তবায়ন না হলে অসহযোগসহ আন্দোলনের নানা কর্মসূচির হুমকি এসেছে এক সময় অস্ত্র তুলে নেয়া সংগঠন জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে। সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) দাবি করেছেন, সরকার ২০ বছরে চু্ক্তির প্রধান ধারাগুলোই বাস্তবায়ন করেনি।

সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কাপেং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০ বছর এবং নতুন প্রজন্মের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন সন্তু লারমা। পাহাড়ের এই নেতা বলেন, ‘পাহাড়িদের বিভিন্ন উপায়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। সেখানে দমন-পীড়ন চলছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।’

সন্তু লারমার অভিযোগ, সরকার চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না করে চু্ক্তিবিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে যে চুক্তি হয়েছিল, সরকার তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চায় না। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বর্তমান সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে তেমন কোনও কাজ করেনি। শুধুমাত্র ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

‘অনেক রাজনৈতিক নেতা এই চুক্তি বাস্তবায়নে কথা বলছেন কিন্তু দলগতভাবে এখন পর্যন্ত বড় কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই উদ্যোগ নিতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিতভাবে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং অধিকার আদায়ের জন্য শুধু পার্বত্য অঞ্চলের জুম্ম জনগণই নয়, জাতীয়ভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে অসহযোগসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকিও দেন জনসংহতি সমিতির নেতা। বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়িত হতেই হবে এবং সরকারকেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর এই চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে ১০ দফা অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে এই আন্দোলন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানানো হয় আলোচনায়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনসংহতি সমিতির সঙ্গে শান্তি সই করে। এই চুক্তির পর অস্ত্র তুল নেয়া পাহাড়িরা অস্ত্র সমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্ত হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন: সন্তু লারমা

আপডেট সময় ১১:১৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাহাড়ি তিন জেলায় শান্তি আনতে দুই দশক আগে করা চুক্তির বাস্তবায়ন না হলে অসহযোগসহ আন্দোলনের নানা কর্মসূচির হুমকি এসেছে এক সময় অস্ত্র তুলে নেয়া সংগঠন জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে। সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) দাবি করেছেন, সরকার ২০ বছরে চু্ক্তির প্রধান ধারাগুলোই বাস্তবায়ন করেনি।

সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কাপেং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০ বছর এবং নতুন প্রজন্মের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন সন্তু লারমা। পাহাড়ের এই নেতা বলেন, ‘পাহাড়িদের বিভিন্ন উপায়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। সেখানে দমন-পীড়ন চলছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।’

সন্তু লারমার অভিযোগ, সরকার চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না করে চু্ক্তিবিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে যে চুক্তি হয়েছিল, সরকার তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চায় না। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বর্তমান সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে তেমন কোনও কাজ করেনি। শুধুমাত্র ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

‘অনেক রাজনৈতিক নেতা এই চুক্তি বাস্তবায়নে কথা বলছেন কিন্তু দলগতভাবে এখন পর্যন্ত বড় কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই উদ্যোগ নিতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিতভাবে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং অধিকার আদায়ের জন্য শুধু পার্বত্য অঞ্চলের জুম্ম জনগণই নয়, জাতীয়ভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে অসহযোগসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকিও দেন জনসংহতি সমিতির নেতা। বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়িত হতেই হবে এবং সরকারকেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর এই চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে ১০ দফা অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে এই আন্দোলন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানানো হয় আলোচনায়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনসংহতি সমিতির সঙ্গে শান্তি সই করে। এই চুক্তির পর অস্ত্র তুল নেয়া পাহাড়িরা অস্ত্র সমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্ত হয়।