ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

সৌদি তদন্তে খালেদার অর্থপাচার ধরা পড়েছে: হাছান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সৌদি আরবে বেগম খালেদা জিয়ার অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে সে দেশের সরকার তদন্ত করছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ। তার দাবি আরবের এই দেশটিতে খালেদা জিয়ার শপিং মল, বহুতল ভবনসহ নানা সম্পত্তি রয়েছে। রবিবার দুপুর জাতীয় প্রেসক্লাবের এক মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কথা বলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিদেশি টেলিভিশনের সংবাদ হিসেবে ছড়ানো একটি ভিডিওর কথা তুলে ধরেন হাছান মাহমুদ। ওই ভিডিওতে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, কাতারসহ বিশ্বের ১২টি দেশে খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান এবং আরফাত রহমান কোকোর নামে ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজির মাধ্যমে এই টাকা অর্জন করা হয়েছে। প্রতি ডলার ৮৩ টাকা ধরে এই টাকার অংক দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকা।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদকে জানিয়েছিলেন, সৌদি আরব খালেদা জিয়ার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই যে সম্পত্তি এই সম্পত্তি লুটপাটের সম্পত্তি, বাংলাদেশ থেকে লুটপাট করে গিয়ে এই সম্পত্তি তারা অর্জন করেছে। এটা আজকে তদন্তে বেরিয়ে আসছে।’

সৌদি সরকারের কথিত তদন্তে যেসব তথ্য জানা গেছে, সেগুলোর আলোকে সৌদি আরবসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে যেসব অবৈধ সম্পত্তি আছে সেগুলো খুঁজে বের করা এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশে ফেরত আনার দাবিও জানান হাছান মাহমুদ।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এই ভিডিওর বিষয়ে বিএনপির বক্তব্যও দাবি করেন হাছান। বিএনপি মহাসচিব মির্জা মির্জা ফখরুল আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এই যে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এত কথা, বিদেশি টেলিভিশনে এত কথা মির্জা ফখরুল সাহেব আপনার মুখে কোন কথা নাই কেন? আজকে এই যখন তদন্ত বেরিয়ে আসছে বিএনপি নেতাদের মুখে দিয়ে কোন কথা বের হয় না কেন।’

বড় ছেলে তারেক রহমানের প্রশংসা করে খালেদা জিয়ার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্যে বাংলা বাগধারা ‘চোরের মার বড় গলা’ এর মতো।

শনিবার রাতে গুলশানে নিজের কার্যালয়ে তারেক রহমানকে নিয়ে লেখা তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের সেই রক্তই তারেক রহমানের গায়ে, সেই রক্তই ছিল আরাফাত রহমানের গায়ে। তারা নিজেরা কিছু পাওয়ার জন্য নয়, দেশের মানুষকে কিছু দেওয়ার জন্য, দেশের সম্মান বৃদ্ধির জন্য কাজ করেছে, করছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আসলে শুধু তারেক রহমান নয়, তিনি (খালেদা জিয়া) নিজেও চোর। কারণ চুরিতে তিনি নিজেও ধরা পরেছেন। তার (তারেক রহমান) বিরুদ্ধে বাংলাদেশে এসে এফবিআই দুর্নীতির সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার লজ্জা লাগে কি না জানি না, আমার কিন্তু এই কথাগুলো শুনতে এবং বলতে লজ্জা লাগে।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অভিনেত্রী ফালগুনি হামিদ প্রমুখ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

সৌদি তদন্তে খালেদার অর্থপাচার ধরা পড়েছে: হাছান

আপডেট সময় ০৫:০০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সৌদি আরবে বেগম খালেদা জিয়ার অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে সে দেশের সরকার তদন্ত করছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ। তার দাবি আরবের এই দেশটিতে খালেদা জিয়ার শপিং মল, বহুতল ভবনসহ নানা সম্পত্তি রয়েছে। রবিবার দুপুর জাতীয় প্রেসক্লাবের এক মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কথা বলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিদেশি টেলিভিশনের সংবাদ হিসেবে ছড়ানো একটি ভিডিওর কথা তুলে ধরেন হাছান মাহমুদ। ওই ভিডিওতে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, কাতারসহ বিশ্বের ১২টি দেশে খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান এবং আরফাত রহমান কোকোর নামে ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজির মাধ্যমে এই টাকা অর্জন করা হয়েছে। প্রতি ডলার ৮৩ টাকা ধরে এই টাকার অংক দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকা।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদকে জানিয়েছিলেন, সৌদি আরব খালেদা জিয়ার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই যে সম্পত্তি এই সম্পত্তি লুটপাটের সম্পত্তি, বাংলাদেশ থেকে লুটপাট করে গিয়ে এই সম্পত্তি তারা অর্জন করেছে। এটা আজকে তদন্তে বেরিয়ে আসছে।’

সৌদি সরকারের কথিত তদন্তে যেসব তথ্য জানা গেছে, সেগুলোর আলোকে সৌদি আরবসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে যেসব অবৈধ সম্পত্তি আছে সেগুলো খুঁজে বের করা এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশে ফেরত আনার দাবিও জানান হাছান মাহমুদ।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এই ভিডিওর বিষয়ে বিএনপির বক্তব্যও দাবি করেন হাছান। বিএনপি মহাসচিব মির্জা মির্জা ফখরুল আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এই যে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এত কথা, বিদেশি টেলিভিশনে এত কথা মির্জা ফখরুল সাহেব আপনার মুখে কোন কথা নাই কেন? আজকে এই যখন তদন্ত বেরিয়ে আসছে বিএনপি নেতাদের মুখে দিয়ে কোন কথা বের হয় না কেন।’

বড় ছেলে তারেক রহমানের প্রশংসা করে খালেদা জিয়ার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্যে বাংলা বাগধারা ‘চোরের মার বড় গলা’ এর মতো।

শনিবার রাতে গুলশানে নিজের কার্যালয়ে তারেক রহমানকে নিয়ে লেখা তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের সেই রক্তই তারেক রহমানের গায়ে, সেই রক্তই ছিল আরাফাত রহমানের গায়ে। তারা নিজেরা কিছু পাওয়ার জন্য নয়, দেশের মানুষকে কিছু দেওয়ার জন্য, দেশের সম্মান বৃদ্ধির জন্য কাজ করেছে, করছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আসলে শুধু তারেক রহমান নয়, তিনি (খালেদা জিয়া) নিজেও চোর। কারণ চুরিতে তিনি নিজেও ধরা পরেছেন। তার (তারেক রহমান) বিরুদ্ধে বাংলাদেশে এসে এফবিআই দুর্নীতির সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার লজ্জা লাগে কি না জানি না, আমার কিন্তু এই কথাগুলো শুনতে এবং বলতে লজ্জা লাগে।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অভিনেত্রী ফালগুনি হামিদ প্রমুখ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন।