ঢাকা ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

তথ্যসেবা গ্রহণে নাগরিকদের অনীহা: টিআইবি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবি বলছে, ২০১৬ সালে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) থেকে ডিজিটাইজ জন্মনিবন্ধন সেবা নিয়েছেন সবচেয়ে বেশি গ্রহীতা, যার হার ৭১.৮ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সেবা গ্রহীতা রয়েছেন বিভিন্ন তথ্যসেবা ক্ষেত্রে, যার হাত ০.৪ শতাংশ।

রবিবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবি’র ‘নাগরিক সেবায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার: ভূমিকা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এছাড়া ইউডিসি’র মাধ্যমে দেয়া অন্য সেবাগুলোর মধ্যে সনদ কম্পোজ-প্রিন্ট ০.৭%, ছবি তোলা-প্রিন্ট ৭.২%, ফটোকপি-লেমেনেটিং ৪.৮%, অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদনপত্র পূরণ ও প্রিন্ট ০.৭% এবং জমির পর্চার জন্য অনলাইনে আবেদন ০.৫% ভাগ সেবা নিয়েছেন গ্রহীতারা।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার ভিন্নতা ও স্থানীয়ভাবে সব সেবার চাহিদা একরকম না হওয়ায় সব ইউডিসিতে সবধরনের সেবা একইভাবে সহজলভ্য নয়। এলাকাভেদে সেবার চাহিদা ও জনগণের ক্রয়ক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে এবং উদ্যোক্তার সক্ষমতার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক সেবা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়।

ভূমি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাইজ করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাইজ করার কাজ কয়েক বছর আগে শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট অনেকের অনীহার কারণে তা পুরোপুরি ডিজিটাইজ সম্ভব হয়নি। তবে এটা সত্য যে, ভূমি ব্যবস্থাপনায় পুরোপুরি ডিজিটাইজ করা সম্ভব হলে এ খাতে দুর্নীতির সুযোগ কমে যাবে।’

জমির পর্চার ডিজিটাইজ প্রসঙ্গে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে বেশ কয়েকটি সেবার মধ্যে একটি হলো জমির পর্চার জন্য অনলাইনে আবেদন করা। জরিপভুক্ত ইউডিসিগুলোতে জমির পর্চার জন্য আবেদন করেছেন মাত্র এক শতাংশ। তবে ইউডিসিতে এ সেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরনের আর্থিক দুর্নীতির শিকার হননি সেবা গ্রহীতারা। কিন্তু জমির পর্চা উত্তোলন সেবা সব ইউডিসি থেকে নেয়া যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে জানা গেছে, এখনো সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন সম্পূর্ণ ডিজিটাইজড করা হয়নি।’

ইফতেখার বলেন, ‘এ খাতটি পুরো ডিজিটাইজ না হওয়ার কারণ হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা এ খাতটি পুরোপুরি ডিজিটাল হোক তা চান না। কারণ, পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে গেলে এ খাতে দুর্নীতি অনেক কমে আসবে। ফলে এসব কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।’

ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সেবা সহজলভ্য করা এবং সেবাদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করতে ২০০৯ সালে ইউনিয়ন অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টার (ইউআইএসসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) নামকরণ করা হয়।

টিআইবি’র সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় এপিবিএনের কার্যপদ্ধতির বিবরণ তলব

তথ্যসেবা গ্রহণে নাগরিকদের অনীহা: টিআইবি

আপডেট সময় ০৫:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবি বলছে, ২০১৬ সালে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) থেকে ডিজিটাইজ জন্মনিবন্ধন সেবা নিয়েছেন সবচেয়ে বেশি গ্রহীতা, যার হার ৭১.৮ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সেবা গ্রহীতা রয়েছেন বিভিন্ন তথ্যসেবা ক্ষেত্রে, যার হাত ০.৪ শতাংশ।

রবিবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবি’র ‘নাগরিক সেবায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার: ভূমিকা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এছাড়া ইউডিসি’র মাধ্যমে দেয়া অন্য সেবাগুলোর মধ্যে সনদ কম্পোজ-প্রিন্ট ০.৭%, ছবি তোলা-প্রিন্ট ৭.২%, ফটোকপি-লেমেনেটিং ৪.৮%, অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদনপত্র পূরণ ও প্রিন্ট ০.৭% এবং জমির পর্চার জন্য অনলাইনে আবেদন ০.৫% ভাগ সেবা নিয়েছেন গ্রহীতারা।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার ভিন্নতা ও স্থানীয়ভাবে সব সেবার চাহিদা একরকম না হওয়ায় সব ইউডিসিতে সবধরনের সেবা একইভাবে সহজলভ্য নয়। এলাকাভেদে সেবার চাহিদা ও জনগণের ক্রয়ক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে এবং উদ্যোক্তার সক্ষমতার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক সেবা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়।

ভূমি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাইজ করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাইজ করার কাজ কয়েক বছর আগে শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট অনেকের অনীহার কারণে তা পুরোপুরি ডিজিটাইজ সম্ভব হয়নি। তবে এটা সত্য যে, ভূমি ব্যবস্থাপনায় পুরোপুরি ডিজিটাইজ করা সম্ভব হলে এ খাতে দুর্নীতির সুযোগ কমে যাবে।’

জমির পর্চার ডিজিটাইজ প্রসঙ্গে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে বেশ কয়েকটি সেবার মধ্যে একটি হলো জমির পর্চার জন্য অনলাইনে আবেদন করা। জরিপভুক্ত ইউডিসিগুলোতে জমির পর্চার জন্য আবেদন করেছেন মাত্র এক শতাংশ। তবে ইউডিসিতে এ সেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরনের আর্থিক দুর্নীতির শিকার হননি সেবা গ্রহীতারা। কিন্তু জমির পর্চা উত্তোলন সেবা সব ইউডিসি থেকে নেয়া যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে জানা গেছে, এখনো সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন সম্পূর্ণ ডিজিটাইজড করা হয়নি।’

ইফতেখার বলেন, ‘এ খাতটি পুরো ডিজিটাইজ না হওয়ার কারণ হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা এ খাতটি পুরোপুরি ডিজিটাল হোক তা চান না। কারণ, পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে গেলে এ খাতে দুর্নীতি অনেক কমে আসবে। ফলে এসব কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।’

ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সেবা সহজলভ্য করা এবং সেবাদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করতে ২০০৯ সালে ইউনিয়ন অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টার (ইউআইএসসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) নামকরণ করা হয়।

টিআইবি’র সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি।