ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন চুক্তি হলে আবাসন প্রকল্প কেন: মোশাররফ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে মায়ানমারের সঙ্গে চুক্তি হলে ভাষাণ চরে আবাসনের জন্য কেন প্রকল্প নেয়া হলো’ বলে সরকারের প্রতি প্রশ্ন করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান, বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার বলছে চুক্তি করে এসেছি, শিগগিরই রোহিঙ্গারা চলে যাবে। কিন্তু চুক্তিতে কী আছে, এটা কেউ জানি না। আমরা দাবি করেছি চুক্তিটি প্রকাশ করার। আসলে চুক্তি তো দূরের কথা এটা এমওইউও (সমঝোতা স্মারক) নয়। আসলে এটা চুক্তি নয়, একটি অ্যারেঞ্জমেন্ট। অথচ সরকার বলছে চুক্তি করে এসেছি, অল্পদিনের মধ্যে রোহিঙ্গারা মায়ানমারে চলে যাবে। অন্যদিকে নোয়াখালীর ভাষাণ চরে রোহিঙ্গাদের আবাসনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, এ কথাটা সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। একদিকে ভাষাণ চরে আবাসন প্রকল্প নিচ্ছেন অন্যদিকে বলছেন চলে যাবে। এটা দেশের মানুষও বোঝে। আপনারা দেশের মানুষ ও রোহিঙ্গাদের ধোঁকা দিচ্ছেন। সত্যি যদি চলে যাওয়ার চুক্তি হয় তবে তাদের জন্য আরেকটি চর দখল করে আবাসন করার প্রশ্নই ওঠে না।

তিনি আরো বলেন, প্রথম দিকে সরকার রোহিঙ্গাদের প্রবেশ করতে দেয়নি। বিশ্বের মানুষ সোচ্চার হলে সরকার সীমান্ত খুলে দিতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে, শুধু একা নয় তারা এখন এতিম হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খন্দকার মোশাররফ বলেন, সরকার যদি প্রথম থেকে বাধা না দিয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করত তবে রোহিঙ্গা সমস্যার উদ্ভবই হত না। সরকার কূটনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার কারণে আজ বাংলাদেশে ১০ লাখ রোহিঙ্গা।

‘আমরা মনে করি রোহিঙ্গাদের সরকার রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চায়। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করছে না।’

মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, আগাম নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে। আমরা যে কোনো সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইনশাআল্লাহ এ জোয়ার একাধিক সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। সরকার খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে বিএনপির এ নেতা বলেন, এ দেশে খালেদা জিয়াকে ছাড়া ও শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না।

জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাবেক সভাপতি রেজাবুদৌল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী বক্তব্য দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন চুক্তি হলে আবাসন প্রকল্প কেন: মোশাররফ

আপডেট সময় ০৬:১১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে মায়ানমারের সঙ্গে চুক্তি হলে ভাষাণ চরে আবাসনের জন্য কেন প্রকল্প নেয়া হলো’ বলে সরকারের প্রতি প্রশ্ন করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান, বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার বলছে চুক্তি করে এসেছি, শিগগিরই রোহিঙ্গারা চলে যাবে। কিন্তু চুক্তিতে কী আছে, এটা কেউ জানি না। আমরা দাবি করেছি চুক্তিটি প্রকাশ করার। আসলে চুক্তি তো দূরের কথা এটা এমওইউও (সমঝোতা স্মারক) নয়। আসলে এটা চুক্তি নয়, একটি অ্যারেঞ্জমেন্ট। অথচ সরকার বলছে চুক্তি করে এসেছি, অল্পদিনের মধ্যে রোহিঙ্গারা মায়ানমারে চলে যাবে। অন্যদিকে নোয়াখালীর ভাষাণ চরে রোহিঙ্গাদের আবাসনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, এ কথাটা সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। একদিকে ভাষাণ চরে আবাসন প্রকল্প নিচ্ছেন অন্যদিকে বলছেন চলে যাবে। এটা দেশের মানুষও বোঝে। আপনারা দেশের মানুষ ও রোহিঙ্গাদের ধোঁকা দিচ্ছেন। সত্যি যদি চলে যাওয়ার চুক্তি হয় তবে তাদের জন্য আরেকটি চর দখল করে আবাসন করার প্রশ্নই ওঠে না।

তিনি আরো বলেন, প্রথম দিকে সরকার রোহিঙ্গাদের প্রবেশ করতে দেয়নি। বিশ্বের মানুষ সোচ্চার হলে সরকার সীমান্ত খুলে দিতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে, শুধু একা নয় তারা এখন এতিম হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খন্দকার মোশাররফ বলেন, সরকার যদি প্রথম থেকে বাধা না দিয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করত তবে রোহিঙ্গা সমস্যার উদ্ভবই হত না। সরকার কূটনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার কারণে আজ বাংলাদেশে ১০ লাখ রোহিঙ্গা।

‘আমরা মনে করি রোহিঙ্গাদের সরকার রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চায়। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করছে না।’

মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, আগাম নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে। আমরা যে কোনো সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইনশাআল্লাহ এ জোয়ার একাধিক সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। সরকার খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে বিএনপির এ নেতা বলেন, এ দেশে খালেদা জিয়াকে ছাড়া ও শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না।

জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাবেক সভাপতি রেজাবুদৌল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী বক্তব্য দেন।