ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালুকায় তুলার গোডাউনে আগুন সামষ্টিক চাপে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন চট্টগ্রামে জোড়াখুনের রহস্য উদঘাটন:স্ট্যাম্প চুরি করতে গিয়েই মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রংপুরে আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাবের বর্ণাঢ্য র‌্যালি অর্থনীতির পুনর্গঠন অন্যতম অগ্রাধিকার: সংসদে অর্থমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ‘লাঠি ও পাথর মেরে’ বিতাড়নের আহ্বান সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দেশে প্রথমবারের মতো সফল ভেনাস সাইনাস স্টেন্টিং, প্রশংসায় ভাসছেন ডা. হিমু জেনেভায় হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সই, আয়োজক পাকিস্তান: শেহবাজ কোম্পানীগঞ্জে এক রাতে তিন বাড়িতে ডাকাতি

দেশের ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের প্রতিযোগিতা চলছে: রিজভী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের ব্যাংকিং খাতে লুটপাট চলছে অভিযোগ করে এ জন্য সরকারি দলের নেতা, তাদের সমর্থক এবং আত্মীয় স্বজনদেরকে দায়ী করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। বলেন, নতুন তিন ব্যাংকের অনুমোদনের উদ্দেশ্যও লুটপাট। শুক্রবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

গত ২৭ নভেম্বর নতুন করে তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক দাবি করে রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, দেশের অর্থনীতির যে পরিসর, তাতে করে চলমান ব্যাংকগুলোই অতিরিক্ত। এর ওপর নতুন ব্যাংকের ঘোষণা মূলত জনগণের টাকা হাতিয়ে নেয়ারই উদ্যোগ।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় বসার পর দলীয় লোকদের মালিকানায় বেসরকারি খাতে যে নয়টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, সেটিও আসলে লুটপাটের সুযোগ করার জন্যই।’

বর্তমানে চালু থাকা ৫৭টি ব্যাংকের বেশিরভাগ অনিয়ম, জালিয়াতি লুটপাট ও খেলাপি ঋণের কারণে আর্থিক সংকটে রয়েছে বলে দাবি করেন রিজভী। আর এ জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা দায়ী বলে অভিযোগ তার। বলেন, ‘তাদের দ্বারা ব্যাংক লুটের প্রতিযোগিতায় আর্থিক খাত আজ ধংসের দ্বারপ্রান্তে।’

বিএনপি নেতা বলেন, সোনালী ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, কৃষি ব্যাংকসহ ব্যাংকিং খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হলেও, এমনকি গণমাধ্যমের বদৌলতে লুটপাটকারীদের নাম প্রকাশ হলেও এখনও পর্যন্ত লুটেরা অধরা। দুদক তাদের বেলায় নির্বিকার।

‘তাদের ধরবে কেন তারা তো কারণ তারা ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ নেতাদেরই লোক।’

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা লুটের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করারও সমালোচনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। অর্থমন্ত্রী বার বার তারিখ দিলেও এটা প্রকাশ না করাকে ‘রহস্যজনক’ বলেন রিজভী।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় হামলার জন্য যুবলীগ কর্মীদের দায়ী করেন বিএনপি নেতা। জয়পুরহাটে জনতা ব্যাংকে লেনদেন চলাকালে ৪৫ লাখ টাকা, ময়মনসিংহে এক পরিবারকে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটের ঘটনায়ও ক্ষমতাসীন দলের লোকদের দায়ী করেন তিনি।

‘ক্ষমতাসীন দলের লোকেরাই এখন রাজনীতি ও সমাজের হর্তাকর্তা, এরা বাংলাদেশের জনগণের জমি-জায়গা-ধন-সম্পত্তি-ব্যাংক-বীমার অখণ্ড কর্তৃত্বের অধিকারী বলে নিজেদের মনে করে।’

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমি কোনো দৌড়ে থাকতে চাই না: ভাবনা

দেশের ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের প্রতিযোগিতা চলছে: রিজভী

আপডেট সময় ০৩:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের ব্যাংকিং খাতে লুটপাট চলছে অভিযোগ করে এ জন্য সরকারি দলের নেতা, তাদের সমর্থক এবং আত্মীয় স্বজনদেরকে দায়ী করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। বলেন, নতুন তিন ব্যাংকের অনুমোদনের উদ্দেশ্যও লুটপাট। শুক্রবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

গত ২৭ নভেম্বর নতুন করে তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক দাবি করে রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, দেশের অর্থনীতির যে পরিসর, তাতে করে চলমান ব্যাংকগুলোই অতিরিক্ত। এর ওপর নতুন ব্যাংকের ঘোষণা মূলত জনগণের টাকা হাতিয়ে নেয়ারই উদ্যোগ।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় বসার পর দলীয় লোকদের মালিকানায় বেসরকারি খাতে যে নয়টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, সেটিও আসলে লুটপাটের সুযোগ করার জন্যই।’

বর্তমানে চালু থাকা ৫৭টি ব্যাংকের বেশিরভাগ অনিয়ম, জালিয়াতি লুটপাট ও খেলাপি ঋণের কারণে আর্থিক সংকটে রয়েছে বলে দাবি করেন রিজভী। আর এ জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা দায়ী বলে অভিযোগ তার। বলেন, ‘তাদের দ্বারা ব্যাংক লুটের প্রতিযোগিতায় আর্থিক খাত আজ ধংসের দ্বারপ্রান্তে।’

বিএনপি নেতা বলেন, সোনালী ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, কৃষি ব্যাংকসহ ব্যাংকিং খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হলেও, এমনকি গণমাধ্যমের বদৌলতে লুটপাটকারীদের নাম প্রকাশ হলেও এখনও পর্যন্ত লুটেরা অধরা। দুদক তাদের বেলায় নির্বিকার।

‘তাদের ধরবে কেন তারা তো কারণ তারা ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ নেতাদেরই লোক।’

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা লুটের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করারও সমালোচনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। অর্থমন্ত্রী বার বার তারিখ দিলেও এটা প্রকাশ না করাকে ‘রহস্যজনক’ বলেন রিজভী।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় হামলার জন্য যুবলীগ কর্মীদের দায়ী করেন বিএনপি নেতা। জয়পুরহাটে জনতা ব্যাংকে লেনদেন চলাকালে ৪৫ লাখ টাকা, ময়মনসিংহে এক পরিবারকে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটের ঘটনায়ও ক্ষমতাসীন দলের লোকদের দায়ী করেন তিনি।

‘ক্ষমতাসীন দলের লোকেরাই এখন রাজনীতি ও সমাজের হর্তাকর্তা, এরা বাংলাদেশের জনগণের জমি-জায়গা-ধন-সম্পত্তি-ব্যাংক-বীমার অখণ্ড কর্তৃত্বের অধিকারী বলে নিজেদের মনে করে।’

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।