অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী রবিবার দেশের মহানগর, জেলা ও থানায় থানায় বিক্ষোভ করবে দলটি।
বৃহস্পতিবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচির কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দুপরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে খালেদা বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারিকে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ও ন্যাক্কারজনক দাবি করে রিজভী বলেছেন, এই ঘটনা সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম দলগুলোর হরতাল থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে খালেদা জিয়া আজ আদালতে হাজির হতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তার আইনজীবীরা আদালতে হাজির হয়ে সময়ও চেয়েছিলেন। এমনকি হরতাল শেষ হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চান বলে আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করলেও তা নাকচ করে দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ও ন্যাক্কারজনক।
তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার প্রধানের পাশবিক জিঘাংসার প্রতিফলন এটি। জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে হিংসাপরায়ণ সরকারের বিভিষিকাময় আস্ফালন।’
রিজভী বলেন, ‘এই আদালতে বেগম খালেদা জিয়া যে ন্যায়বিচার পাবেন না, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তা আরও পরিষ্কার হলো। যেখানে প্রধান বিচারপতির নিরাপত্তা নেই, যেখানে জোর করে অসুস্থতার মিথ্যা কথা বলে ছুটিতে পাঠিয়ে দেশত্যাগে তাঁকে বাধ্য করা হয়, তারপর বিদেশে প্রধান বিচারপতির নিকট সরকারের লোকেরা গিয়ে হুমকি দিয়ে তাঁকে অবসর নিতে বাধ্য করা হয়, সেখানে বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রধান কিভাবে ন্যায়বিচার পাবেন?’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহেই সরকার প্রধানের নির্দেশে বেগম খালেদা জিয়াকে হয়রানিমূলকভাবে আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন। তারপর আজকে আবারও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি যে সরকারের পরিকল্পিত ও নীলনকশার অংশ সেটা বুঝতে কারও বাকি নেই।’
রিজভী বলেন, ‘মনে হয়-বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এক ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসার জ্বালা সরকার প্রধানের মনের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলছে। এ আগুন যেন অনির্বাণ। নিপীড়ণের মাত্রা কত তীব্র হলে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালা মিটবে তা সর্বশক্তিমান আল্লাহই জানেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির পরই রাজধানীতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করে যুবদল। যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি মৎস্য ভবনের সামনে থেকে বের হয়। কাকরাইল মোড়ে গিয়ে বিক্ষোভ শেষ হয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















