ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ক্ষমার বার্তা দিলেন পোপ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমার সফরের তৃতীয় দিনে ইয়াঙ্গুনে এক সমাবেশে ক্ষমার বার্তা ছড়িয়ে দিলেন খ্রিষ্টান ধর্মের রোমান ক্যাথলিক ধারার প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। ইয়াঙ্গুনের কিয়াক্কাসান গ্রাউন্ড পার্কে আজ বুধবার ২ লাখের বেশি ক্যাথলিক খ্রিস্টানের উন্মুক্ত সমাবেশে ভাষণ দেন তিনি।

এ সমাবেশকে ‘ঐতিহাসিক জনসভা’ হিসেবে উল্লেখ মার্কিন বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ধর্মোপদেশ দেয়ার সময় মিয়ানমারের জাতিগত সংখ্যালঘুগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সেনাবাহিনীর কয়েক দশকের সংঘাত ও মানুষের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন পোপ ফ্রান্সিস। যা দেশটির বিভিন্ন অংশে এখনো চলমান আছে।

পোপ বলেন, আমি জানি যে মিয়ানমারে অনেকেই সহিংসতার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। যা অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান। তিনি সবাইকে বিদ্বেষ ভুলে ক্ষমা ও সমবেদনার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ঐতিহ্যগত বৌদ্ধ সংস্কৃতির ধাঁচে নির্মিত মঞ্চ থেকে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, প্রতিশোধের পথ যীশুর দেখানো পথ নয়।

পোপের ভাষণের সময় ইয়াঙ্গুনের ছিল আনন্দের বন্যা। সমাবেশে বিভিন্ন ধরনের সাজ-সজ্জা ও পোপের ছবি সম্বলিত টুপি পড়তে দেখা যায়। এসময় অনেকের হাতে মিয়ানমারের পতাকা দেখা যায়। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ ৫ কোটি ১০ লাখ নাগরিকের মিয়ানমারে ক্যাথলিকের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ।

পোপ ফ্রান্সিসের সফরের অংশ হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের উদ্দেশে নেপিদো ত্যাগ করবেন পোপ ফ্রান্সিস। কোনো পোপের এটিই প্রথম দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়া সফর।

গতকাল মঙ্গলবার তিনি মিয়ানমারে পৌঁছান। মিয়ানমারে তিনি দেশটির বেসামরিক নেতা অং সান সুকি ও সেনাপ্রধান মিন অংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। মিয়ানমারে গিয়ে পোপ রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ করেন কিনা তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু, গতকাল মিয়ানমার সফররত পোপ ফ্রান্সিস দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক শেষে দেওয়া ভাষণে রোহিঙ্গাদের নাম উচ্চারণ করেননি। ওই ভাষণে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং জনগণের ভোগান্তি তুলে ধরেন তিনি।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে চলমান ধর্মীয় উত্তেজনার মধ্যে পোপের এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ক্ষমার বার্তা দিলেন পোপ

আপডেট সময় ০৫:২৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমার সফরের তৃতীয় দিনে ইয়াঙ্গুনে এক সমাবেশে ক্ষমার বার্তা ছড়িয়ে দিলেন খ্রিষ্টান ধর্মের রোমান ক্যাথলিক ধারার প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। ইয়াঙ্গুনের কিয়াক্কাসান গ্রাউন্ড পার্কে আজ বুধবার ২ লাখের বেশি ক্যাথলিক খ্রিস্টানের উন্মুক্ত সমাবেশে ভাষণ দেন তিনি।

এ সমাবেশকে ‘ঐতিহাসিক জনসভা’ হিসেবে উল্লেখ মার্কিন বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ধর্মোপদেশ দেয়ার সময় মিয়ানমারের জাতিগত সংখ্যালঘুগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সেনাবাহিনীর কয়েক দশকের সংঘাত ও মানুষের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন পোপ ফ্রান্সিস। যা দেশটির বিভিন্ন অংশে এখনো চলমান আছে।

পোপ বলেন, আমি জানি যে মিয়ানমারে অনেকেই সহিংসতার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। যা অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান। তিনি সবাইকে বিদ্বেষ ভুলে ক্ষমা ও সমবেদনার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ঐতিহ্যগত বৌদ্ধ সংস্কৃতির ধাঁচে নির্মিত মঞ্চ থেকে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, প্রতিশোধের পথ যীশুর দেখানো পথ নয়।

পোপের ভাষণের সময় ইয়াঙ্গুনের ছিল আনন্দের বন্যা। সমাবেশে বিভিন্ন ধরনের সাজ-সজ্জা ও পোপের ছবি সম্বলিত টুপি পড়তে দেখা যায়। এসময় অনেকের হাতে মিয়ানমারের পতাকা দেখা যায়। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ ৫ কোটি ১০ লাখ নাগরিকের মিয়ানমারে ক্যাথলিকের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ।

পোপ ফ্রান্সিসের সফরের অংশ হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের উদ্দেশে নেপিদো ত্যাগ করবেন পোপ ফ্রান্সিস। কোনো পোপের এটিই প্রথম দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়া সফর।

গতকাল মঙ্গলবার তিনি মিয়ানমারে পৌঁছান। মিয়ানমারে তিনি দেশটির বেসামরিক নেতা অং সান সুকি ও সেনাপ্রধান মিন অংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। মিয়ানমারে গিয়ে পোপ রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ করেন কিনা তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু, গতকাল মিয়ানমার সফররত পোপ ফ্রান্সিস দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক শেষে দেওয়া ভাষণে রোহিঙ্গাদের নাম উচ্চারণ করেননি। ওই ভাষণে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং জনগণের ভোগান্তি তুলে ধরেন তিনি।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে চলমান ধর্মীয় উত্তেজনার মধ্যে পোপের এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার।