অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কট্টরপন্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ ও রক্তপাতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলো বন্ধ করে রেখেছে দেশটির সরকার। গতকাল শনিবার থেকেই ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে পারছে না পাকিস্তানের নাগিরকরা।তবে মোবাইল ফোন থেকে ইউটিউব ব্যবহার করা যাচ্ছে। লাইভ স্ট্রিমিং নিউজ চ্যানলেগুলোর ওয়েবসাইটগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইসলামাবাদে গতকাল শনিবার বিক্ষোভকারীদের সরাতে গিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত পুলিশের এক সদস্যসহ ছয়জন নিহত ও ২৫০ জন আহত হয়। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা ৬ নভেম্বর থেকে দেশটির আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জানিয়ে আসছে। এতে রাজধানী প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। আজ রবিবার পাকিস্তান সরকার শক্তিশালী সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পাকিস্তান ইলেকট্রনিকস মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি(পেমরা) রবিবার সংবাদভিত্তিক চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার পুনরায় চালুর জন্য নির্দেশ দিয়েছে। গতকাল থেকে ক্যাবল অপারেটরদের সবকটি নিউজ চ্যানেলের প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল পেমরা। ২০১৫ সালের গণমাধ্যম বিধি অনুযায়ী ইসলামাবাদ অভিযান গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংবাদভিত্তিক চ্যানেগুলো একতরফাভাবে বন্ধ করে দেয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তানে ব্রডকাসটার্স অ্যাসোসিয়েশন। আচমকাই টেলিভিশন চ্যানেল ও তাদের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অল পাকিস্তান নিউজপেপারস সোসাইটি।
নির্বাচনী শপথ থেকে হযরত মোহাম্মদ (স.) এর কথা বাদ দিয়ে আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদ ধর্ম অবমাননা (ব্লাসফেমি) করেছেন অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবি করে কট্টর ইসলামপন্থি সংগঠন তেহরিক-ই-লাবাইক।
সংগঠনের নেতাকর্মীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসলামাবাদের মূল প্রবেশ দ্বার ফয়জাবাদে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। শনিবার সকালে সেখান থেকে তাদের সরাতে কাঁদুনে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। ওই অভিযানে পাকিস্তানের এলিট পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর প্রায় সাড়ে আট হাজার সদস্য অংশ নেয়। তবে বিক্ষোভকারীদের দমাতে ব্যর্থ হয়ে ওই অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























