ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা ইস্যুতে সহিংসতা, নিহত ১০

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা ইস্যুতে রাজপথে অবস্থান নেওয়া কট্টরপন্থিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন নিহত ও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন।

পাকিস্তানি আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে তার অপসারণ ও বিচার দাবিতে গত তিন সপ্তাহ ধরে ইসলামাবাদের মূল রাস্তাগুলো অবরোধ করে রাখে কট্টরপন্থি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-লাব্বাইকের কর্মী-সমর্থকরা। শনিবার সকালে উগ্রবাদীদের অপসারণের চেষ্টা শুরু করতেই সংঘর্ষ শুরু হয়।

অবস্থান নেওয়ার স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানী ইসলামাবাদে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে পাকিস্তান সরকার। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিচার বিভাগের প্রধান কার্যালয়, সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, দূতাবাসসহ ঝুঁকিপূর্ণস্থান স্থান ও স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ও পাথর ছুঁড়তে থাকে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এরপর পুলিশ তাদের সরাতে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। আটক করা হয় দেড় শতাধিক অবস্থানকারীকে।

সংঘর্ষের ঘটনা টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সরাসরি সম্প্রচার করতে থাকে। সহিংসতা আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় সরকার টেলিভিশন চ্যানেল ও জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেয়। তারপরও ইসলামাবাদে সৃষ্ট এ সংঘর্ষ করাচি, লাহোর, গুজরাট, ফয়সালাবাদ, পেশোয়াসহ বড় বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

সন্ধ্যার পর সরকার কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে। সূত্র জানায়, আইনমন্ত্রী পদত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এটি সত্য কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে কট্টরপন্থিরা আইনমন্ত্রীর নিজ জেলা শিয়ালকোট শহর ও তার বাড়িতে হাঙ্গামা চালায়। তবে এ সময় তার পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না।

নির্বাচনী শপথের একটি অংশে নবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর উল্লেখ বাদ পড়ায় আইনমন্ত্রীর অপসারণ চেয়ে হৈ চৈ শুরু করে ইসলামপন্থিরা। তবে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনাও করেছিলেন জাহিদ হামিদ।

বলা হয়েছিল, এটি করোণিক ভুল। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই ধারা বাতিল করে সংশোধন করা হবে। তবে সরকারের এ ঘোষণা তাদের মন গলাতে পারেনি। তারা হামিদের পদত্যাগ ও বিচারের দাবি তোলে।

শনিবার সকালে ইসলামাবাদে মূল সড়কে প্রায় ২ হাজার লোক অবস্থান নেয়। তারা আগেই আল্টিমেটাম দিয়েছিল, এ দিন সকাল ৭টার মধ্যে মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু তাদের দাবি পূরণ হয়নি। এরপর সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সরকার কঠোর অবস্থানে যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা ইস্যুতে সহিংসতা, নিহত ১০

আপডেট সময় ০২:২৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা ইস্যুতে রাজপথে অবস্থান নেওয়া কট্টরপন্থিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন নিহত ও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন।

পাকিস্তানি আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে তার অপসারণ ও বিচার দাবিতে গত তিন সপ্তাহ ধরে ইসলামাবাদের মূল রাস্তাগুলো অবরোধ করে রাখে কট্টরপন্থি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-লাব্বাইকের কর্মী-সমর্থকরা। শনিবার সকালে উগ্রবাদীদের অপসারণের চেষ্টা শুরু করতেই সংঘর্ষ শুরু হয়।

অবস্থান নেওয়ার স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানী ইসলামাবাদে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে পাকিস্তান সরকার। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিচার বিভাগের প্রধান কার্যালয়, সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, দূতাবাসসহ ঝুঁকিপূর্ণস্থান স্থান ও স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ও পাথর ছুঁড়তে থাকে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এরপর পুলিশ তাদের সরাতে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। আটক করা হয় দেড় শতাধিক অবস্থানকারীকে।

সংঘর্ষের ঘটনা টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সরাসরি সম্প্রচার করতে থাকে। সহিংসতা আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় সরকার টেলিভিশন চ্যানেল ও জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেয়। তারপরও ইসলামাবাদে সৃষ্ট এ সংঘর্ষ করাচি, লাহোর, গুজরাট, ফয়সালাবাদ, পেশোয়াসহ বড় বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

সন্ধ্যার পর সরকার কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে। সূত্র জানায়, আইনমন্ত্রী পদত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এটি সত্য কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে কট্টরপন্থিরা আইনমন্ত্রীর নিজ জেলা শিয়ালকোট শহর ও তার বাড়িতে হাঙ্গামা চালায়। তবে এ সময় তার পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না।

নির্বাচনী শপথের একটি অংশে নবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর উল্লেখ বাদ পড়ায় আইনমন্ত্রীর অপসারণ চেয়ে হৈ চৈ শুরু করে ইসলামপন্থিরা। তবে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনাও করেছিলেন জাহিদ হামিদ।

বলা হয়েছিল, এটি করোণিক ভুল। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই ধারা বাতিল করে সংশোধন করা হবে। তবে সরকারের এ ঘোষণা তাদের মন গলাতে পারেনি। তারা হামিদের পদত্যাগ ও বিচারের দাবি তোলে।

শনিবার সকালে ইসলামাবাদে মূল সড়কে প্রায় ২ হাজার লোক অবস্থান নেয়। তারা আগেই আল্টিমেটাম দিয়েছিল, এ দিন সকাল ৭টার মধ্যে মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু তাদের দাবি পূরণ হয়নি। এরপর সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সরকার কঠোর অবস্থানে যায়।