ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাবেক এমপির কারখানায় লুটপাট, বিএনপির দাবি আ.লীগের অপতৎপরতা দুদকের মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী চার দিনের রিমান্ড হরমুজ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, কী হচ্ছে সুইজারল্যান্ডে? যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের গুঞ্জন, সোমবারই কি বড় ঘোষণা উন্নয়ন থেকে বাণিজ্য, সব ক্ষেত্রে চীন গুরুত্বপূর্ণ: সাবেক রাষ্ট্রদূত সাবেক সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন আর নেই বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি অনুকূল পরিবেশ হলে ভারত যাবেন প্রধানমন্ত্রী: হুমায়ুন কবির প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী শিষ্টাচার বহির্ভূত অপরাজনীতির বিরুদ্ধে রাজধানীতে যুবদলের বিক্ষোভ

ব্ল্যাক ওয়াটারের মাধ্যম সৌদি রাজবন্দীদের কাছ থেকে তথ্য আদায়

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবে আটক বহু প্রিন্স ও পদস্থ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করার লক্ষ্যে মার্কিন নিরাপত্তা কোম্পানি ব্ল্যাক ওয়াটারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে ডেইলি মেইল খবর দিয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিকটি লিখেছে, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের নির্দেশে এই নিয়োগ দেয়া হয়।

সৌদি সরকার গত ৪ নভেম্বর একদল প্রিন্সের পাশাপাশি বহু বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাকে আটক করে। যুবরাজ সালমান এসব ব্যক্তিকে আটক করেই ক্ষান্ত হননি সেইসঙ্গে তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য বিদেশি বাহিনী ভাড়া করে এনেছেন।

ব্ল্যাক ওয়াটার হচ্ছে একটি বেসরকারি মার্কিন নিরাপত্তা কোম্পানি যার সদস্য নেয়া হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে। ইরাক ও আফগানিস্তানে আমেরিকার চালানো যুদ্ধে এই কোম্পানিকে ব্যবহার করা হয়। ওই দু’টি দেশে স্থানীয় বন্দিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়ে কুখ্যাত হয়েছে ব্ল্যাক ওয়াটার।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা রক্ষার কাজে এই কোম্পানিকে নিয়োগ দেয়া হয় এবং এই কুখ্যাত কোম্পানি উগ্র আরব শাসকদের বেশ প্রিয়। আরব দেশগুলোর সরকার বিরোধী শক্তিগুলোকে দমন করার কাজে ব্ল্যাক ওয়াটারের সদস্যদের নিয়োগ দেয়া হয়।

বিভিন্ন আরব দেশে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ব্ল্যাক ওয়াটারের সেনারা ‘অ্যাকাডেমি’ নামে এসব দেশে প্রবেশ করে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরকার বিরোধীদের দমনের কাজে এই সেনারা সহযোগিতা করছে এবং ইয়েমেনের ওপর সৌদি আগ্রাসনেও ব্ল্যাক ওয়াটারকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ ও সশস্ত্র বাহিনীর উপ প্রধান মুহাম্মাদ বিন যায়েদের সঙ্গে ব্ল্যাক ওয়াটার কোম্পানির প্রধান এরিক প্রিন্সের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এদিকে অন্যান্য আরব দেশের তুলনায় সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের সঙ্গে মুহাম্মাদ বিন যায়েদের ওঠাবসা বেশি। এই বিন যায়েদই বিন সালমানের সঙ্গে এরিক প্রিন্সকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

মুহাম্মাদ বিন সালমানের নির্দেশে সৌদি প্রিন্সদের নির্যাতনের কাজে ব্ল্যাক ওয়াটারকে নিয়োগ দেয়ার ফলে এখন এসব প্রিন্স সেইসব স্বীকারোক্তিই দেবেন যা বিন সালমান চান। এখন পর্যন্ত কোটিপতি সৌদি প্রিন্স ওয়ালিদ বিন তালাল সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ দেশটির রাজার পদ গ্রহণের পথের কাঁটাগুলো অপসারণের জন্যই প্রিন্সদের পাশাপাশি পদস্থ কর্মকর্তাদের আটক করেছেন। তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য একবার যখন সৌদি আরবে ব্ল্যাক ওয়াটার পা রেখেছে তখন সামনের দিনগুলোতে সৌদি আরবে এই কোম্পানি আরো বেশি শেঁকড় গাড়বে বলেই বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক এমপির কারখানায় লুটপাট, বিএনপির দাবি আ.লীগের অপতৎপরতা

ব্ল্যাক ওয়াটারের মাধ্যম সৌদি রাজবন্দীদের কাছ থেকে তথ্য আদায়

আপডেট সময় ০২:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবে আটক বহু প্রিন্স ও পদস্থ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করার লক্ষ্যে মার্কিন নিরাপত্তা কোম্পানি ব্ল্যাক ওয়াটারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে ডেইলি মেইল খবর দিয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিকটি লিখেছে, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের নির্দেশে এই নিয়োগ দেয়া হয়।

সৌদি সরকার গত ৪ নভেম্বর একদল প্রিন্সের পাশাপাশি বহু বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাকে আটক করে। যুবরাজ সালমান এসব ব্যক্তিকে আটক করেই ক্ষান্ত হননি সেইসঙ্গে তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য বিদেশি বাহিনী ভাড়া করে এনেছেন।

ব্ল্যাক ওয়াটার হচ্ছে একটি বেসরকারি মার্কিন নিরাপত্তা কোম্পানি যার সদস্য নেয়া হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে। ইরাক ও আফগানিস্তানে আমেরিকার চালানো যুদ্ধে এই কোম্পানিকে ব্যবহার করা হয়। ওই দু’টি দেশে স্থানীয় বন্দিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়ে কুখ্যাত হয়েছে ব্ল্যাক ওয়াটার।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা রক্ষার কাজে এই কোম্পানিকে নিয়োগ দেয়া হয় এবং এই কুখ্যাত কোম্পানি উগ্র আরব শাসকদের বেশ প্রিয়। আরব দেশগুলোর সরকার বিরোধী শক্তিগুলোকে দমন করার কাজে ব্ল্যাক ওয়াটারের সদস্যদের নিয়োগ দেয়া হয়।

বিভিন্ন আরব দেশে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ব্ল্যাক ওয়াটারের সেনারা ‘অ্যাকাডেমি’ নামে এসব দেশে প্রবেশ করে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরকার বিরোধীদের দমনের কাজে এই সেনারা সহযোগিতা করছে এবং ইয়েমেনের ওপর সৌদি আগ্রাসনেও ব্ল্যাক ওয়াটারকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ ও সশস্ত্র বাহিনীর উপ প্রধান মুহাম্মাদ বিন যায়েদের সঙ্গে ব্ল্যাক ওয়াটার কোম্পানির প্রধান এরিক প্রিন্সের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এদিকে অন্যান্য আরব দেশের তুলনায় সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের সঙ্গে মুহাম্মাদ বিন যায়েদের ওঠাবসা বেশি। এই বিন যায়েদই বিন সালমানের সঙ্গে এরিক প্রিন্সকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

মুহাম্মাদ বিন সালমানের নির্দেশে সৌদি প্রিন্সদের নির্যাতনের কাজে ব্ল্যাক ওয়াটারকে নিয়োগ দেয়ার ফলে এখন এসব প্রিন্স সেইসব স্বীকারোক্তিই দেবেন যা বিন সালমান চান। এখন পর্যন্ত কোটিপতি সৌদি প্রিন্স ওয়ালিদ বিন তালাল সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ দেশটির রাজার পদ গ্রহণের পথের কাঁটাগুলো অপসারণের জন্যই প্রিন্সদের পাশাপাশি পদস্থ কর্মকর্তাদের আটক করেছেন। তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য একবার যখন সৌদি আরবে ব্ল্যাক ওয়াটার পা রেখেছে তখন সামনের দিনগুলোতে সৌদি আরবে এই কোম্পানি আরো বেশি শেঁকড় গাড়বে বলেই বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।