ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব উন্নয়ন, অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের বিকল্প নাম বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ

গুম স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুমের পক্ষে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ দেশে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান। তিনি বলেন, মানুষ গুম হচ্ছে, ঘরেও নিরাপদ নেই কেউ। এই বিষয়টি সরকারের দেখা উচিত।

পরে সংসদের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা ‘গুম কোথায় নেই’ এমন প্রশ্ন তুলে ২০০৯ সালের একটি পরিসংখ্যানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বৃটেনে দুই লাখ ৭৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক গুম হয়ে গেল। তার মধ্যে ২০ হাজারের কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না। আমেরিকার অবস্থা আরও ভয়াবহ।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তিনি অন্যান্য দেশের তুলনা করেছেন। একটাকে বলা হয়, এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স, অর্থাৎ যেটা সরকারি পর্যায়ে গুম করা হয়। এই গুম মধ্য যুগে, বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে ছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই ঘটনাগুলো ছিল। এখন বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে ঘটছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে গুম করে ফেলা হচ্ছে আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনী দিয়ে। এটা কিন্তু অন্য কোনো গুমের ব্যাপার নয়। প্রধানমন্ত্রী শিকার করে নিয়েছেন, গুম বাংলাদেশে হচ্ছে। এটা ভালো কথা যে একটা সত্য স্বীকার করেছেন।’

বিএনপির মহাসচিব রোহিঙ্গা ফেরার পথ সুগম করতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতাপত্র সই নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সমঝোতার বিষয়গুলো সম্পর্কে আমরা জানি না। এটি এখনো জনসম্মুখে আনা হয়নি।’তিনি মিয়ানমারের সঙ্গে সই করা সমঝোতা স্মারক প্রকাশের দাবি জানান।

চুক্তির ফলে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে আস্থা পাবে কি না, তারা আবার গণহত্যার শিকার হবে কি না— এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা দরকার বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল।

এখনো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সেখানে নির্যাতন করছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এখন যদি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে সেটা হবে তাদের নরকে ঠেলে দেওয়ার মতো।’

বৃহস্পতিবার নেপিডোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী তিন্ত সুয়ে একটি সমঝোতায় সই করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে সুরক্ষা পেতে কিছু উপায়

গুম স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী: ফখরুল

আপডেট সময় ১১:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুমের পক্ষে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ দেশে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান। তিনি বলেন, মানুষ গুম হচ্ছে, ঘরেও নিরাপদ নেই কেউ। এই বিষয়টি সরকারের দেখা উচিত।

পরে সংসদের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা ‘গুম কোথায় নেই’ এমন প্রশ্ন তুলে ২০০৯ সালের একটি পরিসংখ্যানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বৃটেনে দুই লাখ ৭৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক গুম হয়ে গেল। তার মধ্যে ২০ হাজারের কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না। আমেরিকার অবস্থা আরও ভয়াবহ।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তিনি অন্যান্য দেশের তুলনা করেছেন। একটাকে বলা হয়, এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স, অর্থাৎ যেটা সরকারি পর্যায়ে গুম করা হয়। এই গুম মধ্য যুগে, বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে ছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই ঘটনাগুলো ছিল। এখন বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে ঘটছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে গুম করে ফেলা হচ্ছে আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনী দিয়ে। এটা কিন্তু অন্য কোনো গুমের ব্যাপার নয়। প্রধানমন্ত্রী শিকার করে নিয়েছেন, গুম বাংলাদেশে হচ্ছে। এটা ভালো কথা যে একটা সত্য স্বীকার করেছেন।’

বিএনপির মহাসচিব রোহিঙ্গা ফেরার পথ সুগম করতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতাপত্র সই নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সমঝোতার বিষয়গুলো সম্পর্কে আমরা জানি না। এটি এখনো জনসম্মুখে আনা হয়নি।’তিনি মিয়ানমারের সঙ্গে সই করা সমঝোতা স্মারক প্রকাশের দাবি জানান।

চুক্তির ফলে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে আস্থা পাবে কি না, তারা আবার গণহত্যার শিকার হবে কি না— এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা দরকার বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল।

এখনো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সেখানে নির্যাতন করছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এখন যদি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে সেটা হবে তাদের নরকে ঠেলে দেওয়ার মতো।’

বৃহস্পতিবার নেপিডোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী তিন্ত সুয়ে একটি সমঝোতায় সই করেন।