ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা নবাব আলী ওরফে লোবাকে (৩৭) যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয়মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। মামলার অন্য আসামি মেয়েটির নানী বেকসুর খালাস পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নবাব আলী রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার চন্দনমাড়িয়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে।

বুধবার দুপুরে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মনসুর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা নবাবকে রায় শোনাতে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবারো কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে সৎ বাবার হাতে মেয়ে ধর্ষণের ঘটনাটিকে সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ইসমত আরা জানান, ঘটনার সময় মামলার বাদী ১৪ বছরের কিশোরী ছিলেন। তিনি সম্পর্কে নবাব আলীর সৎ মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর তার মায়ের সঙ্গে নবাব আলীর বিয়ে হয়।

২০১১ সালে নবাব তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়েটিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন। এরপর সৎ মেয়েকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে মেয়েটি ঘটনাটি তার নানীকে বিষয়টি জানান। তবে মেয়ের সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন তিনি। এ ঘটনার সাত মাস পর ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল নবাব তার স্ত্রীকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। এতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে রাতে আবারও ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে চাচার বাড়ি টাঙ্গাইলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই কিশোরী আবারও ফিরে আসেন। পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে নিয়ে এসে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মেয়েটি তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ঘটনা জানার পরেও গোপনের চেষ্টার অভিযোগে মামলায় তার নানীকেও আসামি করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০২:৫৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা নবাব আলী ওরফে লোবাকে (৩৭) যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয়মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। মামলার অন্য আসামি মেয়েটির নানী বেকসুর খালাস পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নবাব আলী রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার চন্দনমাড়িয়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে।

বুধবার দুপুরে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মনসুর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা নবাবকে রায় শোনাতে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবারো কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে সৎ বাবার হাতে মেয়ে ধর্ষণের ঘটনাটিকে সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ইসমত আরা জানান, ঘটনার সময় মামলার বাদী ১৪ বছরের কিশোরী ছিলেন। তিনি সম্পর্কে নবাব আলীর সৎ মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর তার মায়ের সঙ্গে নবাব আলীর বিয়ে হয়।

২০১১ সালে নবাব তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়েটিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন। এরপর সৎ মেয়েকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে মেয়েটি ঘটনাটি তার নানীকে বিষয়টি জানান। তবে মেয়ের সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন তিনি। এ ঘটনার সাত মাস পর ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল নবাব তার স্ত্রীকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। এতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে রাতে আবারও ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে চাচার বাড়ি টাঙ্গাইলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই কিশোরী আবারও ফিরে আসেন। পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে নিয়ে এসে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মেয়েটি তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ঘটনা জানার পরেও গোপনের চেষ্টার অভিযোগে মামলায় তার নানীকেও আসামি করা হয়।