ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

ধনীর মেয়েকে ভালোবেসে ৫ বছর যাবত শিকলবন্দি সম্রাট!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুরের মধুখালীতে এক ধনীর মেয়েকে ভালোবেসে মারধরের শিকার হয়ে ভারসাম্য হারিয়ে বর্তমানে শিকলবন্দি হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন সম্রাট শেখ নামের এক যুবক। তাকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায়-সম্বল হারিয়ে প্রায় নিঃস্ব তার পরিবার।

স্থানীয়রা জানান, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ঝাউহাটি গ্রামের কৃষক পরিবারের ছেলে সম্রাট শেখ। এক সময় ছিলেন একেবারেই স্বাভাবিক। মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় সহপাঠী এক মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু দরিদ্র কৃষকের ছেলে হওয়ায় সেই সম্পর্ক মেনে নেয়নি মেয়েটির ধনী পরিবার।

অভিযোগ রয়েছে, এক রাতে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে গেলে তার পরিবারের সদস্যরা সম্রাটকে ধরে মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এরপর থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুদিন পর মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেলে সম্রাটের মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। ধীরে ধীরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে শিকলবন্দি হয়ে দিন কাটে তার। গত ৫ বছর যাবত শিকলবন্দি হয়ে জীবন কাটছে সম্রাটের।

পরিবারের দাবি, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাদের প্রায় সব সম্পদ শেষ হয়ে গেছে। তবুও সুস্থ হয়নি সম্রাট। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এবং অন্যদের মারতে আসার কারণে এখন বাধ্য হয়ে তার পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

স্বজনদের ভাষ্য, এক সময় লেখাপড়ায় ভালো সম্রাট এখন মাঝেমধ্যেই হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার মানুষটির নাম ধরে ডাকেন। কখনো আবার দীর্ঘ সময় নীরব হয়ে বসে থাকেন। পরিবার এখন সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করছে, যাতে সম্রাটের চিকিৎসা আবার শুরু করা যায়।

সম্রাটের বড় ভাই সোহাগ শেখ বলেন, মাদ্রাসায় পড়াকালে এক মেয়েকে ভালোবাসতেন সম্রাট। এক রাতে মেয়েটি আমার ভাই সম্রাটকে দেখা করতে বলেন। দেখা করতে গেলে মেয়ের ভাই ও স্বজনেরা মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বেদম মারপিট করেন। মারপিটের পর মধুখালীসহ ফরিদপুরে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। এরপর ঢাকা, পাবনা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ভাইকে সুস্থ করার জন্য চিকিৎসা করানো হয়; কিন্তু ভাই আমার কোনোমতে সুস্থ হতে পারেনি। বর্তমানে তার প্রতিদিন ৪শ টাকার ওষুধ লাগে। আমি দিনমজুরের কাজ করে ভাইয়ের চিকিৎসার জোগান দেই।

সম্রাটের মা পরী বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, মারধরের এক সপ্তাহের পর থেকে পাগল হয়ে যায় ছেলে আমার। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা জমি ছিল তা বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করতে পারিনি। কাউকে দেখলে তেড়ে মারতে আসে। এমনকি আমাকেও চিনতে পারে না, মারতে আসে। তাই বাধ্য হয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়েছে। আমি প্রবাসীসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাই। ডাক্তার বলেছেন ভালোভাবে চিকিৎসা করালে ছেলে ভালো হয়ে যেতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি: সরকারের ব্যাখ্যায় উদ্বেগ কাটল

ধনীর মেয়েকে ভালোবেসে ৫ বছর যাবত শিকলবন্দি সম্রাট!

আপডেট সময় ১০:২০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুরের মধুখালীতে এক ধনীর মেয়েকে ভালোবেসে মারধরের শিকার হয়ে ভারসাম্য হারিয়ে বর্তমানে শিকলবন্দি হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন সম্রাট শেখ নামের এক যুবক। তাকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায়-সম্বল হারিয়ে প্রায় নিঃস্ব তার পরিবার।

স্থানীয়রা জানান, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ঝাউহাটি গ্রামের কৃষক পরিবারের ছেলে সম্রাট শেখ। এক সময় ছিলেন একেবারেই স্বাভাবিক। মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় সহপাঠী এক মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু দরিদ্র কৃষকের ছেলে হওয়ায় সেই সম্পর্ক মেনে নেয়নি মেয়েটির ধনী পরিবার।

অভিযোগ রয়েছে, এক রাতে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে গেলে তার পরিবারের সদস্যরা সম্রাটকে ধরে মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এরপর থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুদিন পর মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেলে সম্রাটের মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। ধীরে ধীরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে শিকলবন্দি হয়ে দিন কাটে তার। গত ৫ বছর যাবত শিকলবন্দি হয়ে জীবন কাটছে সম্রাটের।

পরিবারের দাবি, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাদের প্রায় সব সম্পদ শেষ হয়ে গেছে। তবুও সুস্থ হয়নি সম্রাট। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এবং অন্যদের মারতে আসার কারণে এখন বাধ্য হয়ে তার পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

স্বজনদের ভাষ্য, এক সময় লেখাপড়ায় ভালো সম্রাট এখন মাঝেমধ্যেই হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার মানুষটির নাম ধরে ডাকেন। কখনো আবার দীর্ঘ সময় নীরব হয়ে বসে থাকেন। পরিবার এখন সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করছে, যাতে সম্রাটের চিকিৎসা আবার শুরু করা যায়।

সম্রাটের বড় ভাই সোহাগ শেখ বলেন, মাদ্রাসায় পড়াকালে এক মেয়েকে ভালোবাসতেন সম্রাট। এক রাতে মেয়েটি আমার ভাই সম্রাটকে দেখা করতে বলেন। দেখা করতে গেলে মেয়ের ভাই ও স্বজনেরা মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বেদম মারপিট করেন। মারপিটের পর মধুখালীসহ ফরিদপুরে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। এরপর ঢাকা, পাবনা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ভাইকে সুস্থ করার জন্য চিকিৎসা করানো হয়; কিন্তু ভাই আমার কোনোমতে সুস্থ হতে পারেনি। বর্তমানে তার প্রতিদিন ৪শ টাকার ওষুধ লাগে। আমি দিনমজুরের কাজ করে ভাইয়ের চিকিৎসার জোগান দেই।

সম্রাটের মা পরী বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, মারধরের এক সপ্তাহের পর থেকে পাগল হয়ে যায় ছেলে আমার। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা জমি ছিল তা বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করতে পারিনি। কাউকে দেখলে তেড়ে মারতে আসে। এমনকি আমাকেও চিনতে পারে না, মারতে আসে। তাই বাধ্য হয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়েছে। আমি প্রবাসীসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাই। ডাক্তার বলেছেন ভালোভাবে চিকিৎসা করালে ছেলে ভালো হয়ে যেতে পারে।