ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আলমারির ড্রয়ারে মিলল শিশুর মরদেহ, সন্দেহভাজনকে গণপিটুনিতে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন এক নারীকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার কারণ ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

নিহত ফারজানা খানম (৮) উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তিনি নলতা গ্রামের এনামুল ইসলামের মেয়ে।

অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত সুরাইয়া আক্তার স্থানীয়ভাবে ঝালমুড়ি বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ফারজানা প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। দুপুরের পরও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরে স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে শিশুটিকে সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে যেতে দেখা যায় বলে দাবি করেন স্বজনরা।

এরপর পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সুরাইয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি আলমারির ড্রয়ার থেকে ফারজানার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সুরাইয়াকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন তার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহতের খালা মরিয়ম বেগমের দাবি, কানের স্বর্ণের দুলের লোভে তার ভাগ্নিকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

সোমবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শেখ জয়নুদ্দিন (পিপিএম)। তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রহস্য উদ্‌ঘাটনের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, দুই মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। কানের দুলের জন্য হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আলমারির ড্রয়ারে মিলল শিশুর মরদেহ, সন্দেহভাজনকে গণপিটুনিতে হত্যা

আপডেট সময় ০৮:২০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন এক নারীকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার কারণ ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

নিহত ফারজানা খানম (৮) উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তিনি নলতা গ্রামের এনামুল ইসলামের মেয়ে।

অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত সুরাইয়া আক্তার স্থানীয়ভাবে ঝালমুড়ি বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ফারজানা প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। দুপুরের পরও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরে স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে শিশুটিকে সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে যেতে দেখা যায় বলে দাবি করেন স্বজনরা।

এরপর পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সুরাইয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি আলমারির ড্রয়ার থেকে ফারজানার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সুরাইয়াকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন তার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহতের খালা মরিয়ম বেগমের দাবি, কানের স্বর্ণের দুলের লোভে তার ভাগ্নিকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

সোমবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শেখ জয়নুদ্দিন (পিপিএম)। তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রহস্য উদ্‌ঘাটনের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, দুই মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। কানের দুলের জন্য হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।