ঢাকা ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

নারী সদস্যদের যৌন নির্যাতন করা হয়: উ. কোরিয়ার নারী সেনা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে নারী সদস্যদের যৌন নির্যাতন করা হয়। এ নির্যাতন চালান জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাই। ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের এসব তথ্য দিয়েছেন সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আশ্রয় নেওয়া এক নারী। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই নারীর নাম লি সো ইয়ন। বর্তমান বয়স ৪১ বছর। ইয়ন বলেছেন, অপুষ্টি ও প্রশিক্ষণের চাপে অল্প বয়সে নারী সদস্যদের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ায় ছন্দপতন ঘটে।

লি সো ইয়নের দাবি, ‘চাকরি শুরু হওয়ার ছয় মাস পর থেকে আমাদের মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে। অপুষ্টির শিকার ও অতিরিক্ত চাপের কারণেই এমন হয়েছে। এমন সহকর্মীও ছিলেন, যাঁদের দুই বছর পর্যন্ত মাসিক বন্ধ ছিল।’

লি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে নারী সদস্যদের গোসল করা আরও কষ্টকর ব্যাপার। কারণ পাহাড়ি ঝরনা থেকে একটি পাইপের মাধ্যমে সরাসরি পানি আসার ব্যবস্থা। ওই পানির সঙ্গে সাপ-ব্যাঙও আসে। ধানের তুষ দিয়ে তৈরি ম্যাট্রেসে গাদাগাদি করে ঘুমানোর আয়োজন। ওই ম্যাট্রেস ঘাম শুষে নিত বলে দুর্গন্ধে ঘুমানো দায়।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী নিয়ে ‘নর্থ কোরিয়াস হিডেন রেভল্যুশন’ শিরোনামে একটি বই লিখেছেন জিউন বায়েক। তাঁর লেখার সঙ্গে লি সো ইয়নের বক্তব্যের মিল রয়েছে।

লি বলেন, সেনাবাহিনীতে তিনি ১৯৯২ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছেন। এই সময়ে তিনি ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হননি। তাঁর অন্য নারী কমান্ডাররা এর শিকার হয়েছেন। সেনাবাহিনীর নিয়ম হলো, কোনো পুরুষ সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে যদি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর সাত বছরের কারাদণ্ড হবে। কিন্তু বেশির ভাগ সময়েই এসব ঘটনার তদন্তই করা হয় না। তাই পুরুষ সদস্যদের শাস্তি হয় না এবং তাঁরা একই ঘটনা বারবার ঘটান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪১ বছর বয়সী লি উত্তর কোরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের মেয়ে। তাঁর পরিবারের অনেক পুরুষই সেনাসদস্য। ১৯৯২ সালে ১৭ বছর বয়সে তিনি স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে সার্জেন্ট হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন। ২৮ বছর বয়সে সেনাবাহিনী চাকরি ছেড়ে দিয়ে পরিবারের কাছে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা তাঁকে গ্রাস করেছিল।

এ কারণে ২০০৮ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম চেষ্টাতেই চীন সীমান্তের কাছে লির ঠাঁই হয় কারাগারে। এক বছর পর কারাগার থেকে বেরিয়ে তুমেন নদী সাঁতরে চীন পার হন তিনি। সীমান্তে সাক্ষাৎ পাওয়া এক দালালের মাধ্যমে চীন থেকে দক্ষিণ কোরিয়া চলে যান। এখন সেখানেই আছেন লি।

এর আগে উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়া পালিয়ে যাওয়া ২৬ বছর বয়সী তরুণী হি ইয়ন লিম দাবি করেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার সুন্দরী স্কুলছাত্রীদের ধরে এনে গোপন ডেরায় যৌনদাসী করে রাখেন দেশটির নেতা কিম জং-উন। সেখানেই ওই কিশোরীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। দেশটির নেতার নানা অত্যাচার পর্যবেক্ষণ করে ভয়ে ওই দেশ ছেড়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। পিয়ংইয়ংয়ে সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মেয়ে তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

নারী সদস্যদের যৌন নির্যাতন করা হয়: উ. কোরিয়ার নারী সেনা

আপডেট সময় ০১:২২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে নারী সদস্যদের যৌন নির্যাতন করা হয়। এ নির্যাতন চালান জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাই। ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের এসব তথ্য দিয়েছেন সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আশ্রয় নেওয়া এক নারী। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই নারীর নাম লি সো ইয়ন। বর্তমান বয়স ৪১ বছর। ইয়ন বলেছেন, অপুষ্টি ও প্রশিক্ষণের চাপে অল্প বয়সে নারী সদস্যদের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ায় ছন্দপতন ঘটে।

লি সো ইয়নের দাবি, ‘চাকরি শুরু হওয়ার ছয় মাস পর থেকে আমাদের মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে। অপুষ্টির শিকার ও অতিরিক্ত চাপের কারণেই এমন হয়েছে। এমন সহকর্মীও ছিলেন, যাঁদের দুই বছর পর্যন্ত মাসিক বন্ধ ছিল।’

লি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে নারী সদস্যদের গোসল করা আরও কষ্টকর ব্যাপার। কারণ পাহাড়ি ঝরনা থেকে একটি পাইপের মাধ্যমে সরাসরি পানি আসার ব্যবস্থা। ওই পানির সঙ্গে সাপ-ব্যাঙও আসে। ধানের তুষ দিয়ে তৈরি ম্যাট্রেসে গাদাগাদি করে ঘুমানোর আয়োজন। ওই ম্যাট্রেস ঘাম শুষে নিত বলে দুর্গন্ধে ঘুমানো দায়।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী নিয়ে ‘নর্থ কোরিয়াস হিডেন রেভল্যুশন’ শিরোনামে একটি বই লিখেছেন জিউন বায়েক। তাঁর লেখার সঙ্গে লি সো ইয়নের বক্তব্যের মিল রয়েছে।

লি বলেন, সেনাবাহিনীতে তিনি ১৯৯২ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছেন। এই সময়ে তিনি ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হননি। তাঁর অন্য নারী কমান্ডাররা এর শিকার হয়েছেন। সেনাবাহিনীর নিয়ম হলো, কোনো পুরুষ সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে যদি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর সাত বছরের কারাদণ্ড হবে। কিন্তু বেশির ভাগ সময়েই এসব ঘটনার তদন্তই করা হয় না। তাই পুরুষ সদস্যদের শাস্তি হয় না এবং তাঁরা একই ঘটনা বারবার ঘটান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪১ বছর বয়সী লি উত্তর কোরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের মেয়ে। তাঁর পরিবারের অনেক পুরুষই সেনাসদস্য। ১৯৯২ সালে ১৭ বছর বয়সে তিনি স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে সার্জেন্ট হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন। ২৮ বছর বয়সে সেনাবাহিনী চাকরি ছেড়ে দিয়ে পরিবারের কাছে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা তাঁকে গ্রাস করেছিল।

এ কারণে ২০০৮ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম চেষ্টাতেই চীন সীমান্তের কাছে লির ঠাঁই হয় কারাগারে। এক বছর পর কারাগার থেকে বেরিয়ে তুমেন নদী সাঁতরে চীন পার হন তিনি। সীমান্তে সাক্ষাৎ পাওয়া এক দালালের মাধ্যমে চীন থেকে দক্ষিণ কোরিয়া চলে যান। এখন সেখানেই আছেন লি।

এর আগে উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়া পালিয়ে যাওয়া ২৬ বছর বয়সী তরুণী হি ইয়ন লিম দাবি করেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার সুন্দরী স্কুলছাত্রীদের ধরে এনে গোপন ডেরায় যৌনদাসী করে রাখেন দেশটির নেতা কিম জং-উন। সেখানেই ওই কিশোরীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। দেশটির নেতার নানা অত্যাচার পর্যবেক্ষণ করে ভয়ে ওই দেশ ছেড়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। পিয়ংইয়ংয়ে সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মেয়ে তিনি।